kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

সেনাবাহিনীকে প্রধানমন্ত্রী

যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকা চাই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকা চাই

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে পটুয়াখালীর শেখ হাসিনা সেনানিবাসের আটটি ইউনিট ও সংস্থার পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। ছবি : পিএমও

বাংলাদেশ যুদ্ধ নয় বরং শান্তি চায় এবং সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রেখেই এগিয়ে যেতে চায় বলে আবারও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে মানুষের আস্থা অর্জন করে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সংবিধান এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থেকে যেকোনো হুমকি মোকাবেলার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

গতকাল বুধবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর আটটি ইউনিট/সংস্থার পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সপ্তম পদাতিক ডিভিশনের সদর দপ্তর লেবুখালী, পটুয়াখালী সেনানিবাসের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের মানুষের ভরসা ও বিশ্বাসের প্রতীক। সেভাবেই মানুষের আস্থা অর্জন করে আপনাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশ ও জাতির প্রতি আপনাদের দায়িত্ববোধ, কর্তব্যবোধ এবং দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসা নিয়ে আপনারা আপনাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন, সেটাই আমরা চাই।’

সেনাবাহিনীর সদস্যদের পেশাদারি ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই পেশাদারির কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনের জন্য আপনাদের সবাইকে পেশাগতভাবে দক্ষ, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সৎ ও মঙ্গলময় জীবনের অধিকারী হতে হবে। পবিত্র সংবিধান এবং দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে অভ্যন্তরীণ কিংবা বাহ্যিক যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবেলার জন্য সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কারো সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না। আমরা সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে আমরা বাংলাদেশকে আর্থ-সামাজিকভাবে উন্নত করতে চাই। কিন্তু যদি কখনো আক্রান্ত হই, সেটা মোকাবেলা করার মতো শক্তি যেন আমরা অর্জন করতে পারি। সেভাবে আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে চাই এবং সেভাবেই আমরা তৈরি থাকতে চাই।’

যুদ্ধের ভয়াবহ রূপ তিনি নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরাও সেই ভুক্তভোগী। কাজেই আর সেই ধ্বংসযজ্ঞে আমরা যুক্ত হতে চাই না। শান্তির পথ বেয়ে আমরা প্রগতির পথে এগিয়ে যেতে চাই।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের কাজে, যেকোনো দুর্যোগে, দুর্বিপাকে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী বিশাল ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। বিশেষ করে এই করোনার সময়েও যেভাবে তারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সেবা করে বিশ্বে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বে উজ্জ্বল করেছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ কর্তৃক শান্তি রক্ষা মিশনেও আমাদের সশস্ত্র বাহিনী বিশাল ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। এর জন্য সবাইকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ প্রতিটি ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী বিশাল ভূমিকা রেখে যাচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি সীমিত সম্পদ দিয়েও সব ধরনের সহযোগিতা করতে। যখনই আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে তারা চেয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক উন্নতি হোক, প্রত্যেক সেনা সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জীবনমান উন্নত হোক।’

সেনা সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা সেনাবাহিনীর ভেতর মূল চালিকাশক্তিগুলো অর্থাৎ ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা, পারস্পরিক বিশ্বাস, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, কর্তব্যপরায়ণ, দায়িত্ববোধ এবং সর্বোপরি শৃঙ্খলা বজায় রেখে আপনাদের স্বীয় কর্তব্য যথাযথভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাবেন, সেটাই আমি আশা করি।’

সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না, ভূমিহীন থাকবে না উল্লেখ করে সে জন্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা সেনাবাহিনীর সদস্যরা, যেখানেই যান সামাজিক কাজ করেন, মানুষকে সাহায্য করেন, মানুষের পাশে দাঁড়ান।’

মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়। পটুয়াখালীর লেবুখালীতে অবস্থিত শেখ হাসিনা সেনানিবাস প্রান্তে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সদর দপ্তর ৭ স্বতন্ত্র এডিএ ব্রিগেড (চট্টগ্রাম), সদর দপ্তর প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড (সিলেট), সদর দপ্তর ২৮ পদাতিক ব্রিগেড, ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ৬৬ ইস্ট বেঙ্গল, ৪৩ বীর, ৪০ এসটি ব্যাটালিয়ন ও ১২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নের আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলন করা হয়। সেনাপ্রধান, সেনানিবাসের জিওসিসহ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালীতে দেশের দক্ষিণবঙ্গের একমাত্র এই সেবানিবাসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পায়রা নদীর তীরে অবস্থিত নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমণ্ডিত এই সেনানিবাসটি প্রায় এক হাজার ৫৩২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা