kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

আর বাকি ৬ দিন

এবার লাল দুর্গে নীলের হানা!

শামীম আল আমিন, নিউ ইয়র্ক   

২৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবার লাল দুর্গে নীলের হানা!

আয়তনে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্টেট টেক্সাস। দীর্ঘদিন ধরেই এই স্টেট নিশ্চিতভাবে রিপাবলিকানদের দখলে। ফলে নির্বাচন ঘিরে যখন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাপ করা হয়, তখন লাল রঙে চিহ্নিত থাকে স্টেটটি। অনেক দিন ধরেই এই রং বদলায়নি। বিশেষ করে ১৯৭৬ সালে জিমি কার্টারের পর আর কোনো ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জয় পাননি এ স্টেট থেকে। তবে এবার পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে, জনমত জরিপও সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ নিয়ে দেখা দিয়েছে বিস্ময়! এখন সবার মধ্যেই প্রশ্ন, লাল স্টেট কি এবার সত্যি সত্যিই নীল হতে চলেছে? 

ডালাস মর্নিং নিউজ ও ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস গত ২৫ অক্টোবর যে জনমত জরিপ প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গেছে, সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তায় রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে গেছেন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন। জরিপে অংশ নেওয়া সম্ভাব্য ভোটারদের ৪৮ শতাংশ বাইডেনকে এবং ৪৫ শতাংশ ট্রাম্পকে সমর্থন করেছে। চলতি মাসের ১৩ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে এক হাজার ১২ জনের মধ্যে এই জরিপ চালানো হয়।

টেক্সাসে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডেলিগেট শাহাদাত ভূঁইয়া পরাগ কালের কণ্ঠকে জানান, লাল এই স্টেটে এবার জো বাইডেনের জয়ের বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ জন্য তিনি করোনা মহামারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যর্থতাসহ বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। ট্রাম্প দেশকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন, সেটা সবাই বুঝতে পারছে। ফলে হয়তো এবার টেক্সাসের ফল দেখে গোটা দেশ চমকে যাবে।

টেক্সাসে বাইডেনের এগিয়ে যাওয়ায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, স্টেটটির ৩৮টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট শেষ পর্যন্ত কোনদিকে যাবে? গত সেপ্টেম্বরেও সেখানে বাইডেনের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন ট্রাম্প। তবে রিপাবলিকান সমর্থকরা এই জরিপের ফলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। বাংলাদেশি আমেরিকান রিপাবলিকান অ্যালায়েন্সের চেয়ারপারসন নাসির আলী খান পল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অল্পসংখ্যক মানুষের ওপর তৈরি করা এসব জরিপ কতটা সঠিক তথ্য দেয়, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। আমি মনে করি, লাল দুর্গ লালই থাকবে। বরং বিভিন্ন সুইং স্টেটে অবলীলায় জয় পাবেন ট্রাম্প।’

এদিকে সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমনিতেই এবার টেক্সাসে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। বাইডেন এগিয়েছেন মূলত হিস্পানিক ভোটারদের নিজের দিকে টানার মাধ্যমে। বন্দুক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও এবার সেখানে গুরুত্ব পাচ্ছে।

টেক্সাসের পাশাপাশি সুইং স্টেট ফ্লোরিডায় কঠিন লড়াই হবে দুই প্রার্থীর মধ্যে—এমনটাই বলছেন অনেক বিশ্লেষক। ফ্লোরিডায় রয়েছে ২৯টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। তবে লেখক ও সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস কালের কণ্ঠকে বলেন, সুইং হিসেবে ফ্লোরিডা যেকোনো দিকে যেতে পারে, এটা অনুমিত একটি বিষয়। কিন্তু বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে টেক্সাসে বাইডেনের এমন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া। শুধু তা-ই নয়, জর্জিয়াতেও বেশ ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন বাইডেন। ওই স্টেটে রয়েছে ১৬টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট।

পপুলার ভোটে সরাসরি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়া যায় না। তার জন্য মোট ৫৩৮টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে ন্যূনতম ২৭০টি প্রয়োজন হয়। ফলে বরাবরই প্রার্থীদের ব্যাটলগ্রাউন্ড খ্যাত সুইং স্টেটগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার লাল দুর্গে নীলের হানা নতুন সমীকরণের আভাস দিচ্ছে। মুখে না বললেও বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে রিপাবলিকান শিবির।

 

 

মন্তব্য