kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

আর বাকি ৭ দিন

গণমাধ্যমের আস্থা বাইডেনে আছে শঙ্কাও

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



গণমাধ্যমের আস্থা বাইডেনে আছে শঙ্কাও

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র সাত দিন বাকি। কেন্দ্র ও ব্যালট প্রস্তুত হলেও এখনো ভোটারদের একটি বড় অংশ সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি কাকে ভোট দেবে। সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা এসব ভোটারকে নির্দেশনা দিতেই এখন মাঠে গণমাধ্যম। শুধু প্রার্থী আর তাঁর প্রচারের খবরই নয়, কাকে এবং কেন ভোট দেওয়া যায়, সে ব্যাখ্যাও দিচ্ছে পত্রিকা, টিভি-রেডিও চ্যানেল আর অনলাইন মাধ্যমগুলো। জরিপের মতোই এ ক্ষেত্রেও এগিয়ে আছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন। মূলধারার অন্তত ৪০টি পত্রিকা ও টিভি তাঁকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চায়।

অন্যদিকে গতবারের মতো এবারও পিছিয়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রার্থীকে গণমাধ্যমের অনুমোদন দেওয়া অনেকটা রেওয়াজের মতোই। রীতিমতো সম্পাদকীয় বোর্ড বসিয়ে প্রার্থী বেছে নেওয়া হয়। নেওয়া হয় প্রার্থীর সাক্ষাৎকার। বিবেচনায় থাকে প্রার্থীর প্রতি সাধারণ মানুষের মনোভাবও। মূলত যুক্তি সাজিয়ে সম্পাদকীয়তে বিশেষ নিবন্ধ লিখে ঘোষণা দেওয়া হয় পছন্দের প্রার্থীর নাম। ক্ষেত্রবিশেষে অবশ্য মালিকের পছন্দই হয়ে ওঠে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রধান এবং একমাত্র নিক্তি। সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা ভোটাররাই এই অনুমোদন ঘোষণার প্রধান লক্ষ্য। তবে তাদের ওপর পত্রিকার এসব নিবন্ধ বা টিভি আলোচনা আদতে কতটা প্রভাব ফেলে, তা ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করে বলা যায় না। যেমন—২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ গণমাধ্যম সমর্থন জুগিয়েছিল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী বারাক ওবামাকে। সে দফায় তিনি নির্বাচিত হন। আবার এর একেবারে বিপরীত ঘটনাও আছে। ২০১৬ সালে প্রথম ১০০টি দৈনিকের মধ্যে ৫৭টি সমর্থন দেয় একই দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে। সেবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল মাত্র ছয়টি পত্রিকা। কিন্তু এসব অনুমোদন ঘোষণার মাত্র এক মাসের মাথায় নির্বাচনে বিজয়ী হন ট্রাম্প। কাজেই গণমাধ্যমের অনুমোদনের অর্থই চূড়ান্ত ফলাফল নয়।

আবার একেবারে ফেলনাও নয়। মানুষ যুক্তি-বুদ্ধি-আবেগে চলে। এর প্রতিটিকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা গণমাধ্যমের আছে। আর এ কারণেই দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস এক বিশেষ সম্পাদকীয় নিবন্ধে ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। তারা মনে করে, ‘যে নীতিমালা বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছে, তা ট্রাম্প গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি নির্বাচিত হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হুমকির মুখে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র।’ নিউ ইয়র্ক টাইমস অবশ্য বরাবরই ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষাবলম্বন করে। আজান দিয়ে এ দলটির পক্ষে এবার প্রচার চালাচ্ছে আরেকটি প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট। এক সম্পাদকীয় নিবন্ধে তারা বলেছে, ‘ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসের নিকৃষ্টতম প্রেসিডেন্ট’। বাইডেনের পক্ষেও যুক্তি সাজিয়েছে তারা, ‘তিনি একজন যোগ্য ও সম্মানিত প্রার্থী, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এ মুহূর্তে তাঁকেই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ট্রাম্প ওয়াশিংটনে যেসব আবর্জনা জড়ো করছেন ও যে অনৈক্যের সৃষ্টি করেছেন, সেই বিশৃঙ্খলা তিনি নিরসন করতে পারবেন।’ নিয়ম ভেঙে এবার অবশ্য বাইডেনকে সমর্থন দিয়েছে ইউএস টুডে। এটি রিপাবলিকান পার্টির সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, দ্য নিউ ইয়র্কার, সায়েন্টিফিক আমেরিকা, বোস্টন গ্লোব, দ্য আটলান্টিকও বাইডেনকে সমর্থন জানিয়েছে।

তবে এদিক থেকে ট্রাম্পের ভাগ্য এবারও ফেরেনি। যদিও তাঁর দাবি ছিল, প্রধান সব পত্রিকাই তাঁকে অনুমোদন দেবে। ট্রাম্পের কনোরভাইরাস নিয়ন্ত্রণ বা বেকারত্ব কমানোর পরিসংখ্যানের মতো এ দাবিও অসার প্রমাণিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনি টেক্সাসের এল পাসো টাইমস, লাস ভেগাস রিভিউ, আরকানসাস ডেমোক্র্যাট গেজেট ও বোস্টন হেরাল্ডের সমর্থন পেয়েছেন। গতবারও তাঁকে এসব পত্রিকা ও সাময়িকীই সমর্থন দিয়েছিল। পত্রিকাগুলোর মালিক রিপাবলিকান পার্টির সমর্থক ও চাঁদাদাতা।

ট্রাম্প এবার শুরু থেকেই পিছিয়ে আছেন জনমত জরিপগুলোতেও। ইপসস/রয়টার্স পরিচালিত সর্বশেষ জাতীয় জনমত জরিপেও বাইডেন ট্রাম্পের চেয়ে ৮ পয়েন্টে এগিয়ে। ঝুলন্ত রাজ্য হিসেবে পরিচিত ফ্লোরিডা, পেনসিলভানিয়া, মিশিগান ও উইসকনসিনে দুই প্রার্থীর অবস্থা সমান অথবা একেবারেই সামান্য পয়েন্টে কম এগিয়ে বা পিছিয়ে।

তবে শুধু গণমাধ্যমের অনুমোদন বা জরিপই নয়, নিজ দল রিপাবলিকান পার্টিতেও ট্রাম্পের অবস্থান খুব সুবিধার নয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি এবার কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নির্বাচন হবে। নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বর্তমানে ডেমোক্রেটিক পার্টির দখলে। এ নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে বলেই পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা। সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে ব্যবধান মাত্র ছয় আসনের। মাঠের পরিস্থিতি বলছে, এবার যে ৩৫টি আসনে ভোট হবে এর অন্তত ১০টি রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সিনেটের নিয়ন্ত্রণও থাকবে না। আর এর জন্য বহু রিপাবলিকান সিনেটর দায়ী করছেন ট্রাম্পকে। অনেকেই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দূরত্বও রেখে চলতে চাইছেন। তাঁদের মধ্যে একজন হলেন নেব্রাস্কার সিনেটর বেন স্যাস, যিনি কঠোরতম ভাষায় ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের কারণে রিপাবলিকান দল সিনেটে তার নিয়ন্ত্রণ হারাতে যাচ্ছে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন এই মধ্যপন্থী রিপাবলিকান। এমনকি ট্রাম্পের দুই বিশ্বস্ত অনুসারী—সিনেটর মিচ ম্যাককনেল ও সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করছেন।

তবে অনুমোদন, জরিপ বা ভোটের হিসাব যা-ই বলুক না কেন, ২০১৬ সালের অভিজ্ঞতার কারণেই অতি আশাবাদী হতে চায় না বাইডেন শিবির। এখনো তারা শেষ পর্যন্ত চেষ্টার পক্ষে। সূত্র : বিবিসি, এনবিসি, নিউ ইয়র্ক টাইমস।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা