kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

আর বাকি ৮ দিন

১০ ব্যর্থর সঙ্গে কি এবার ট্রাম্প!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



১০ ব্যর্থর সঙ্গে কি এবার ট্রাম্প!

ছবি: ইন্টারনেট

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই দফা দায়িত্ব পালনের বিধান রয়েছে। প্রথমবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকারীর পরেরবার দাঁড়ানোর রেওয়াজ আছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁদের সফল হতে দেখা গেলেও ব্যত্যয়ও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর থেকে ২৩১ বছরে অন্তত ১০ জন পুনর্নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হয়েছেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার পুনর্নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রার্থী হয়েছেন। পুরো বিশ্ব দেখার অপেক্ষায়, কোন তালিকায় নাম তোলেন তিনি—সফলদের মধ্যে নাকি ব্যর্থদের তালিকার ১১ ক্রমিক নম্বরে?

যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্নির্বাচন না করেও অবশ্য এক মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন আরো পাঁচজন। প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালে মারা যাওয়া সাবেক এই পাঁচ প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন উইলিয়াম এইচ হ্যারিসন, জাচারি টেইলর, জেমস এ গারফিল্ড, ওয়ারেন জি হার্ডিং ও জন এফ কেনেডি। আরেকজন এক মেয়াদি ব্যতিক্রমী প্রেসিডেন্ট রয়েছেন। তিনি ১৭৮৯ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রেসিডেন্সির সিলসিলাতেই পুরোপুরি আলাদা—রিচার্ড নিক্সন। তিনি ১৯৭৪ সালে অভিশংসন ঠেকাতে পদত্যাগ করেন। ৩ নভেম্বর ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের আগেই চলুন দেখে নেওয়া যাক সেই ১০ ব্যক্তিকে, যাঁরা পুনর্নির্বাচনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। 

জন অ্যাডামস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট জন অ্যাডামস ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসে বাস করা প্রথম প্রেসিডেন্ট। শুধু এই দুই ক্ষেত্রেই নয়, পুনর্নির্বাচনে পরাজিত হওয়া প্রথম প্রেসিডেন্টও তিনি। নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েন জর্জ ওয়াশিংটনের (যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট) এই ভাইস প্রেসিডেন্ট। ফলে ১৮০০ সালের নির্বাচনে ভোটের হিসাবে তাঁর অবস্থান ছিল তৃতীয়। বন্ধু টমাস জেফারসনের কাছে ক্ষমতা ছাড়তে হয় তাঁকে।

জন কুইন্সি আডামস

কথায় বলে, একই গাছের আপেল খুব দূরে গড়ায় না। জন অ্যাডামসের বড় ছেলে কুইন্সি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট। পুনর্নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাবার মতোই ব্যর্থ হন তিনিও। দায়িত্বে ছিলেন ১৮২৫-১৮২৯ সাল পর্যন্ত। গোড়াতে বাবার ফেডারেলিস্ট পার্টি করলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ডেমোক্রেটিক-রিপাবলিকান পার্টি থেকে। তীব্র উচ্চাকাঙ্ক্ষী এই প্রেসিডেন্ট অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের সংস্কারে হাত দেন। কিন্তু গুছিয়ে উঠতে পারেননি। তাঁর আমলেই দল দুই ভাগ হয়ে ন্যাশনাল রিপাবলিকান পার্টি ও ডেমোক্রেটিক পার্টির জন্ম হয়। ১৮৮২ সালের নির্বাচনে জেতেন ডেমোক্র্যাট অ্যান্ড্রু জ্যাকসন।

মার্টিন ভ্যান বারেন

অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন বারেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির সহপ্রতিষ্ঠাতা বারেন নির্বাচনী অগ্নিপরীক্ষার প্রথমটি উত্রাতে পারলেও দ্বিতীয়টিতে আটকে যান। ডাচ আমেরিকান পরিবারের সন্তান বারেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট, যাঁর দ্বিতীয় কথ্য ভাষা ছিল ইংরেজি। মন্দার ধাক্কায় তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের স্বপ্ন ভেসে যায়।

তারপর ক্ষমতায় আসেন উইলিয়াম এইচ হ্যারিসন। নির্বাচিত হওয়ার মাত্র ৩১ দিনের মাথায় টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে স্বল্প মেয়াদি প্রেসিডেন্ট হ্যারিসন।

গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড ও বেনিয়ামিন হ্যারিসন

গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই মেয়াদ পার করেছেন। মজার বিষয়টি হচ্ছে, মেয়াদ দুটি হলেও টানা নয়। তিনিই একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি মাঝে এক মেয়াদ বিরতি দিয়ে ফের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। প্রথমবার ১৮৮৪ সালে আর দ্বিতীয় দফায় ১৮৯২ সালে। মাঝে তাঁর উত্তরসূরি এবং পূর্বসূরি ছিলেন বেনিয়ামিন হ্যারিসন। তিনি প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম এইচ হ্যারিসনের নাতি।

উইলিয়াম হাওয়ার্ড টাফট

যুক্তরাষ্ট্রের ২৭তম প্রেসিডেন্ট। দায়িত্ব পালন করেন ১৯০৯-১৯১৩ সাল পর্যন্ত। তাঁর উত্তরসূরির নাম থিওডোর রুজভেল্ট। এই নামই ব্যাখ্যা করে কেন টাফট পরাজিত হন।

হার্বার্ট হুভার

হুবারের কপাল পোড়ে ১৯৩০-এর দশকের মন্দায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৩১তম প্রেসিডেন্ট। ক্ষমতায় ছিলেন ১৯২৯-১৯৩৩ সাল পর্যন্ত। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ, বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করে মন্দা সামাল দিতে চান তিনি। কিন্তু বেকারত্বের হার কমাতে পারেননি।

গেরাল্ড ফোর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮তম প্রেসিডেন্ট হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, তিনি কখনোই কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতেননি। রিচার্ড নিক্সনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফোর্ড। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির জের ধরে অভিশংসন এড়াতে নিক্সন পদত্যাগ করলে তিনি দায়িত্ব নেন এবং একসঙ্গে বেশ কিছু ভুল করে বসেন। অত্যন্ত অজনপ্রিয় ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধান্বিত ছিলেন তিনি। পূর্বসূরি নিক্সনের দায়িত্বে থাকাকালে করা সব ভুলভ্রান্তি থেকে দায়মুক্তি দেওয়া তাঁর সিদ্ধান্তও কম নিন্দা কুড়ায়নি। ১৯৭৬ সালে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচন করার ইচ্ছা তাঁর ছিল না। দলের চাপে দাঁড়িয়ে ডেমোক্র্যাট জিমি কার্টারের কাছে পরাজিত হন।

জিমি কার্টার

জর্জিয়ার বাদাম চাষি কার্টার যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ১৯৭৭-১৯৮১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। ইরানে ইসলামি বিপ্লব এবং মার্কিনদের বন্দি রাখার ঘটনা তাঁর সময়ই ঘটে। পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তাঁর আগ্রহ থাকলেও উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য তাঁর ছিল না। রিপাবলিকান পার্টির রোনাল্ড রিগ্যানের কাছে পরাজিত হন। পরে ২০০২ সালে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূমিকা পালনের জন্য তাঁকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।

জর্জ বুশ

এ তালিকার দশম ব্যক্তি জর্জ বুশ। যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ৪১তম এই প্রেসিডেন্ট ১৯৮৯-১৯৯২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের পর ডেমোক্র্যাট বিল ক্লিনটনের কাছে পরাজিত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এই সেনা কর্মকর্তা রিগ্যানের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর ছেলে জর্জ ডাব্লিউ বুশ অবশ্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই মেয়াদেই দায়িত্ব পালন করেছেন। সূত্র : দি ইনডিপেনডেন্ট।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা