kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

‘মাস্ক নেই তো সেবাও নেই’

► মন্ত্রিসভায় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের খসড়া অনুমোদিত
► রাষ্ট্রপতির ভাষণ অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘মাস্ক নেই তো সেবাও নেই’

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে মাস্ক না পরলে সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোতে ঢোকা যাবে না, কোনো সেবা পাওয়া যাবে না। ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ অর্থাৎ মাস্ক নেই তো সেবা নেই—এমন নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মধ্যেমে বৈঠকে যোগ দেন।

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘আসছে শীতে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে পারে ধরে নিয়ে এ বিষয়ে সব প্রতিষ্ঠানকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সব জায়গায়, সব প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, শপিং মল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজিক ও ধর্মীয় সম্মেলনে মাস্ক অবশ্যই পরতে হবে। যে মাস্ক পরবে না, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সে কোনো সেবা পাবে না। বিভাগীয় কমিশনারদের এরই মধ্যে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি। সব সরকারি-বেসরকারি অফিসের বাইরে বড় একটা পোস্টারের মতো থাকবে—মাস্ক ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবে না, মাস্ক ছাড়া কেউ এলে সেবা পাবে না।’

তিনি বলেন, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে প্রচার করার জন্য বলা হয়েছে, দিনে দুইবার নামাজের পর প্রচার করার জন্য যে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। আলেমা-উলামাদের সঙ্গেও কথা বলেছি তাঁরাও এটা শুরু করেছেন।’ গণপরিবহনে মানুষ মাস্ক পরছে না—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘সড়ক, নৌ পরিবহন ও রেলসচিবের সঙ্গে শিগগিরই বসব। এ বিষয়ে কার্যকর কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় সেদিকেও মনোযোগ দিচ্ছি আমরা।’

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, কভিড-১৯ মোকাবেলায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অবহিত করা হয়েছে। কভিড-১৯ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভ্যাকসিন সংগ্রহে উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোথা থেকে সম্ভাব্য ভ্যাকসিন পেতে পারি, সে বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ জারি আছে, আশা করি প্রথম দিকেই আমাদের ভ্যাকসিন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

এদিকে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২০’ আবারও সংশোধন হচ্ছে। সম্প্রতি নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, ২০০০ সংশোধন করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করে সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে অধ্যাদেশও জারি করা হয়েছে। কিন্তু সেই অধ্যাদেশে একটা ভুল থেকে যাওয়ায় গতকাল মন্ত্রিসভায় অধ্যাদেশটির নতুন সংশোধন প্রস্তাব আনা হলে মন্ত্রিসভা সেটি অনুমোদন দেয়। নতুন সংশোধনে বিদ্যমান অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তর হওয়ার পর অধ্যাদেশ থাকাকালে গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

অধ্যাদেশের সংশোধনের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, গত তারিখে যেটা অধ্যাদেশ হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, সেটাই এবার আইনের খসড়া হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সংসদ অধিবেশন চালু না থাকলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে যেসব অধ্যাদেশ প্রণয়ন হয় সেসব অধ্যাদেশ পরবর্তী সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন উপস্থাপন করতে হয়। একটা ছোট্ট বিষয় যুক্ত হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয় হয়তো খেয়াল করতে পারেনি যে, এই অধ্যাদেশটা তো বাদ হয়ে যাবে, কিন্তু এই অধ্যাদেশ কার্যকর থাকাকালে যেসব আইনি পদক্ষেপ বা কার্যক্রম হবে সেগুলোর হেফাজত দেওয়া হয়েছে। এটা সব ক্ষেত্রেই করতে হয়। মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে আসা প্রস্তাবে সেটা ছিল না। আইনমন্ত্রী সেটা যুক্ত করে দিয়েছেন।

এ ছাড়া গতকালের মন্ত্রিসভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আসন্ন জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনের জন্য রাষ্ট্রপতির ভাষণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী ভাষণটি মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিতে হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা