kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে বড় বড় প্রকল্প নিচ্ছি

এনামুল হক শামীম, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী

তৈমুর ফারুক তুষার   

২৪ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে বড় বড় প্রকল্প নিচ্ছি

নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীভাঙন বহু এলাকার মানুষের জীবনের বড় সমস্যা। প্রতিবছর ভাঙনের কবলে বহু মানুষ সর্বস্বান্ত হয়। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। নদীভাঙন রোধে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রাধান্য দিচ্ছে। আগামীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে বড় প্রকল্প গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম।

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমি ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করছি। ৩০ জেলার নদীভাঙন, জলাবদ্ধ, হাওরাঞ্চলের বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি। হাতিয়া, সন্দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এলাকায় গিয়েছি। আমার নিজের বাড়িও শরীয়তপুরের ভাঙনকবলিত নড়িয়ায়। ফলে ভাঙন বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও বিস্তর। এতে ভাঙন রোধে অনেক কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয়েছে।’

অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রসঙ্গে শামীম বলেন, ‘আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। মন্ত্রণালয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতি রোধে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স কাজ করে যাচ্ছে। আমরাও কাজের মান ঠিক রাখতে নিয়মিত প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন এলাকাগুলো পরিদর্শন করে থাকি।’

এনামুল হক শামীম বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজে গতি বাড়াতে আমরা একই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ওপর কাজের চাপ কমানোর নীতি নিয়েছি। আগে দেখা যেত একই ঠিকাদার একসঙ্গে শত শত কোটি টাকার কাজ করছেন। একটি বড় কাজ চলমান অবস্থায় আরো বড় আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ পাচ্ছেন। আমরা এ নীতি থেকে সরে এসেছি। এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে আলাদা আলাদা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এতে কাজে গতি বাড়ছে আবার গুণগত মানও ভালো হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়াকে সহজ করা হয়েছে। আগে বিভিন্ন সময় দেখা যেত এক হাজার প্রার্থী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষা নিতে বছর শেষ হয়ে যেত। কিন্তু এখন মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণে আটটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ফলে সাত কর্মদিবসের মধ্যেই প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়।’

এনামুল হক শামীম বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পিত উদ্যোগের ফলে এবার নদীভাঙনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা কমে এসেছে। আগে যেখানে সিজিআইএফ কিংবা আইডাব্লিউএমের তালিকায় ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছিল, এখন তা কমে ১৫টি হয়েছে। আমাদের সময়ে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে নোটিশ দেওয়ায় এক দিনও কোনো ফাইল আটকে থাকছে না। আমরা বোর্ডকে গতিশীল করার জন্য এডিজিদের কাজ ভাগ করে দিয়েছি। আটটি বিভাগ করে দিয়েছি। ডিজাইন শাখায় আমরা জনবল বাড়িয়েছি। আগে এক-দুজনের ওপর নির্ভর করতে হতো। আমরা পেশাগত সন্তুষ্টি বাড়াতে পদোন্নতির নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছি। আগে এসডি থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী হতে সাত বছর লাগত। আমরা এটাকে সহজ করে পাঁচ বছর করে দিয়েছি। সহকারী প্রকৌশলীদের পদোন্নতির বিষয়টিও সহজ করে দেওয়া হয়েছে। দেখা যেত অন্য চাকরিতে তাঁদের ব্যাচমেটরা পদোন্নতি পেয়ে এগিয়ে গেছেন; কিন্তু পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে কর্মরতরা পদোন্নতি পাচ্ছেন না। ফলে তাঁদের কাজে আগ্রহ কমে যেত।’

এনামুল হক শামীম বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় মন্ত্রণালয়ের কাজকে সঠিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। সারা দেশে ১৭ হাজার কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে উপকূল এলাকায় ১৩৯টি ফোল্ডারে পাঁচ হাজার ৭৫৭ কিলোমিটার বাঁধ আছে, ডুবো বাঁধ আছে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার। গত বছর আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়ায় এ বছর হাওর এলাকা প্লাবিত হয়নি। কৃষকরা হাওরের শতভাগ ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন। এর আগের বছর কিন্তু ধান ঘরে তুলতে গিয়ে বেশ সমস্যা হয়েছিল।’

এনামুল হক শামীম বলেন, ‘ছাত্রলীগ দিয়ে রাজনীতি শুরু করি। স্কুল-কলেজে ছাত্রলীগ করেছি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদের ভিপি ছিলাম। এরপর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলাম। পরে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি। এখন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়নের কাজে আমাকে সম্পৃক্ত করেছেন মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে। রাজনীতির মাঠে যেমন মানুষের কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছি, মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব নিয়ে মানুষের কল্যাণকেই প্রাধান্য দিচ্ছি। রাজনীতির মাঠে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করেছি। এখন উপমন্ত্রী হিসেবে ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছি। তবে লক্ষ্য যদি হয় মানুষের কল্যাণ, তবে দুই চ্যালেঞ্জই সফলতার সঙ্গে পার করা যায়— প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা এই শিক্ষাই পেয়েছি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা