kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

রোহিঙ্গা জেনোসাইড

আইসিজেতে গাম্বিয়ার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

‘রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার’

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৪ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আইসিজেতে গাম্বিয়ার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমান জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার কিভাবে জেনোসাইড চালিয়েছে সে বিষয়ে তথ্য-প্রমাণসহ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গতকাল শুক্রবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস, সংক্ষেপে আইসিজে) জমা দিয়েছে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। আন্তর্জাতিক আদালত ও বিশ্বের সবচেয়ে বড় আদালত হিসেবে পরিচিত ওই বিচারালয়ে গাম্বিয়া ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পক্ষে ওই অভিযোগ জমা দেয়। ৫০০ পৃষ্ঠার অভিযোগসংক্রান্ত ওই আবেদনের সঙ্গে পাঁচ হাজার পৃষ্ঠারও বেশি সহায়ক তথ্য-উপাত্তও জমা দিয়েছে গাম্বিয়া।

এদিকে, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে বলে চীনকে কথা দিয়েছে মিয়ানমার। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে ফোন করে এ কথা জানান। সেই ফোনালাপের সময় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সম্মেলন চলছিল।

সেখানে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি এ সংকটে চীনের ভূমিকারও সমালোচনা হয়েছে। জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের আশ্বাস নতুন কিছু নয়। এমনকি চীনকে মিয়ানমার এর আগেও বলেছে, রোহিঙ্গাদের তারা ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।

গাম্বিয়ার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের ওপর জেনোসাইড প্রতিরোধ বা দায়ীদের শাস্তি দিতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে গাম্বিয়া গত নভেম্বর মাসে আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এর শুনানি শেষে আইসিজে গত জানুয়ারি মাসে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের জেনোসাইড থেকে সুরক্ষায় উদ্যোগ নেওয়ার অন্তর্বর্তী আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গাম্বিয়া গতকাল আইসিজেতে তার পুরো অভিযোগ জমা দিয়েছে। ওই অভিযোগের বিষয়ে জবাব দিতে মিয়ানমার তিন মাস সময় পাবে। মামলা চলাকালীন দুই পক্ষের অভিযোগ ও জবাব জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে না। এই মামলা কয়েক বছর ধরে চলতে পারে।

এদিকে আইসিজের পাশাপাশি রোহিঙ্গা নিপীড়নের জবাবদিহির উদ্যোগ চলছে আইসিসিতেও। আইসিজেতে রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে আইসিসির কৌঁসুলির দপ্তর আইসিসির রোম সংবিধিতে বর্ণিত অপরাধের দায়ে ব্যক্তিবিশেষের অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আইসিসির বিচারিক আদালত কক্সবাজারে বসানোরও আবেদন জমা পড়েছে। এর বাইরে জাতিসংঘ গঠিত আন্তর্জাতিক স্বাধীন কাঠামো রোহিঙ্গা নিপীড়নের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণে কাজ করছে। ওই কাঠামো আদালতগুলোকে তথ্য-উপাত্ত দিতে পারে। এ ছাড়া আর্জেন্টিনায় রোহিঙ্গা নিপীড়নের অভিযোগে একটি মামলা চলছে। 

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার ফোনালাপে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, চীন রোহিঙ্গা বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে রোহিঙ্গাদের যাতে ফেরত নেওয়া যায় সে লক্ষ্যে মিয়ানমার কাজ করবে বলে চীনকে তারা জানিয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীনকে মিয়ানমার জানিয়েছে যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা শুরু করবে। মিয়ানমারের নির্বাচনের পর প্রথমত, রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে এবং পরে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের মন্ত্রী পর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে ওয়াং ই ড. মোমেনকে আশ্বস্ত করেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে ঢাকায় প্রস্তুতিমূলক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক দ্রুত শুরু করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন চীনের কভিড ভ্যাকসিন (টিকা) বাংলাদেশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাবে। করোনা-পরবর্তীকালে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে উল্লেখ করেন ওয়াং ই। করোনা মহামারি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতি চীনের সাহায্য অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। করোনা মহামারির কারণে চীনের যেসব প্রকল্প স্থগিত বা ধীরগতি হয়েছে, সেগুলো করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে দ্রুত শেষ করা হবে বলে জানান ওয়াং ই।

পিরোজপুরে চীনের নাগরিক হত্যার বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই হত্যার দ্রুত বিচারের পাশাপাশি চীনের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপের ওপর চীন সরকার আস্থাশীল। এ সময় ড. মোমেন উল্লেখ করেন, এ ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুজনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।

করোনা মহামারির কারণে আটকে পড়া চীনে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকদের ভিসা নবায়নের বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান ড. মোমেন। এ বিষয়ে ওয়াং ই জানান, বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের চীনে প্রবেশের বিষয়ে চীন সরকার এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বাংলাদেশিদের অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হবে। সে ক্ষেত্রে ভিসা ও অন্যান্য বিষয়ের দ্রুত সমাধান হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত ‘আমার দেখা নয়া চীন’ বইটি চীনা ভাষায় অনুবাদের উদ্যোগের বিষয়ে চীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান ড. মোমেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা