kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

এবার ভোটের মাঠে লড়াইয়ের অপেক্ষা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এবার ভোটের মাঠে লড়াইয়ের অপেক্ষা

নির্বাচনের বাকি মাত্র ১১ দিন। এরই মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক চার কোটি ৬০ লাখের বেশি ভোটার আগাম ভোটে তাঁদের রায় জানিয়েও দিয়েছেন। তবু চূড়ান্ত প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্ক নিয়ে মার্কিন জনগণের আগ্রহের এতটুকু কমতি ছিল না। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল ৭টায়) তাদের চোখ ছিল টেলিভিশনের পর্দায়, অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে।

কে জিতলেন এ বাগযুদ্ধে—রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, নাকি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন? মোটাদাগে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা, বর্ণবাদ ও অভিবাসী প্রসঙ্গ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ইস্যুগুলো বেশি গুরুত্ব পেয়েছে শেষের এ বিতর্কে। চীনা ব্যাংকে ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট থাকা, কর পরিশোধ না করার অভিযোগ বা বাইডেনপুত্রের বিদেশে ব্যবসা নিয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে একে অপরকে ঘায়েল করার চেষ্টাও ছিল দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে।

তবে গত ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম বিতর্কের মতো এদিন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটেনি, যে বিতর্কটিকে দেশটির ইতিহাসে ‘লজ্জাজনক প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্ক’ বলে দাগিয়ে দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো। টেনেসি অঙ্গরাজ্যের নাশভিলের বেলমন্ট ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত শেষ বিতর্কে মুখোমুখি ট্রাম্প ও বাইডেন অনেকটাই সংযত ছিলেন আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে।

করোনা মহামারিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুই লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করেন বাইডেন। তাঁর কথায়, ‘এত বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যুর জন্য যিনি দায়ী, তাঁর দেশের প্রেসিডেন্ট থাকা উচিত নয়।’

বিজ্ঞানীরা যদি পরামর্শ দেন তাহলে আবারও লকডাউন কার্যকর করা হবে কি না, সঞ্চালক এনবিসি নিউজের সাংবাদিক ক্রিসটেন ওয়াকারের করা এই প্রশ্নের জবাবে বাইডেন বলেন, তিনি তেমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

তবে ট্রাম্পের অবস্থান এর বিপরীতে। তাঁর মতে, যে ভাইরাসে সংক্রমিত বেশির ভাগ মানুষই সুস্থ হয়ে ওঠে, তেমন ভাইরাসের সংক্রমণে আরো লকডাউন দেওয়ার কথা বিবেচনা করাই ভুল হবে। নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন তিনি এভাবে, ‘এটা বিশাল দেশ, বিশাল অর্থনীতি। মানুষজন তাদের চাকরি হারাচ্ছে, তারা আত্মহত্যা করছে। তাদের হতাশা, অ্যালকোহল ও মাদক গ্রহণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এর আগে কেউ-ই এমনটা দেখেনি।’ ট্রাম্পের ভাষ্য, লকডাউন নয়, ভাইরাসকে বন্ধ করতে হবে। করোনাভাইরাসকে নিয়েই মার্কিনিরা বাঁচতে শিখেছে।

বর্ণবাদ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ‘এ কক্ষে যাঁরা আছেন, আমি তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে কম বর্ণবাদী।’ তিনি ১৯৯৪ সালের অপরাধ বিলের কথা তোলেন, যার খসড়া তৈরিতে সহায়তা করেছিলেন বাইডেন। ওই আইনের কারণে বিপুলসংখ্যক আফ্রিকান-আমেরিকানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করে আসছেন, জানান ট্রাম্প।

বাইডেন অবশ্য ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অন্যতম বর্ণবাদী প্রেসিডেন্ট’ অ্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘তিনি প্রতিটি বর্ণবাদ উসকে দেওয়ার আগুনে ঘি ঢেলেছেন।’

মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের তাদের সন্তানদের কাছ থেকে আলাদা করার নীতি নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ওবামা প্রশাসনের আমলেও অভিবাসী শিশুদের আটক করা হয়েছিল। ‘খাঁচাগুলো কে বানিয়েছিল, জো?’, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেন ট্রাম্প।

বাইডেন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনই অভিবাসী পরিবারগুলোর সদস্যদের নির্দয়ভাবে আলাদা করেছে। এ চর্চাকে ‘অপরাধ’ বলেও অভিহিত করেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনকে বাইডেন ‘মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি’ বলে মনে করেন। দূষণের জন্য দায়ীদের ছাড় দেওয়ার জন্য ট্রাম্পকে আক্রমণ করে বলেন, ‘জলবায়ু পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যে আমাদের তৈরি করা নীতিমালা আরো চার বছরের জন্য যদি এই ব্যক্তি বাতিল করতে থাকেন, তাহলে আমরা এমন অবস্থায় পৌঁছাব যেখানে আমরা বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হব।’

ট্রাম্প প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে যুক্তি দেন। বলেন, জলবায়ু চুক্তির জন্য ‘কোটি কোটি চাকরি, হাজার হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের’ ক্ষতি করবেন না তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিনীতি প্রসঙ্গে ট্রাম্প তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে তেলশিল্প নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চান। ‘আপনি কি তেলশিল্প বন্ধ করে দেবেন?’, প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি।

বাইডেন বলেন, ‘আমি তেলশিল্পকে রূপান্তর করব। কেননা, এটি ভয়াবহ দূষণ ঘটাচ্ছে।’ বড় তেল কম্পানিগুলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করাসহ ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রকে কার্বননিরপেক্ষ দেশে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা জানান বাইডেন।

প্রত্যাশিতভাবে দুই প্রার্থীই দায়িত্বে থাকাকালীন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারার অভিযোগ তোলেন একে অপরের দিকে।

ট্রাম্প অনেক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার পরিকল্পনার কথা জানালেও ‘কখনো কোনো পরিকল্পনা করেননি’ বলে অভিযোগ করেন বাইডেন। বিপরীতে ট্রাম্প অভিযোগ তোলেন, বারাক ওবামার মেয়াদে ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকার সময় বাইডেন নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ট্রম্প বলেন, ‘জো, আমি নির্বাচন করেছি তোমার জন্য, কারণ, তুমি ও বারাক ওবামা দায়িত্বে থাকার সময় কোনো কাজ করোনি।’

চূড়ান্ত এ বিতর্কে ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যে কে জিতলেন, দর্শকের মতামতের ভিত্তিতে তার উত্তর উঠে এসেছে বিভিন্ন জরিপে। প্রথম বিতর্কের মতো এবারও বাইডেনের পক্ষেই জনমতের পাল্লা ভারী। এ ছাড়া জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন জনমত জরিপেও এগিয়ে আছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাইডেন। তবে ২৩ কোটি ভোটারের রায়কেই ‘চূড়ান্ত’ বলা কঠিন দেশটির নির্বাচনব্যবস্থার জন্য। ‘দোদুল্যমান’ হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যগুলোতে দুজনের মধ্যে ব্যবধান কম হওয়ায় যেকোনো সময় পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত এ রাজ্যগুলো যার দিকে হেলে পড়বে, আগামী চার বছর হোয়াইট হাউসের চাবি তাঁর হাতে ওঠার সম্ভাবনাই প্রবল। সূত্র : বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্স।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা