kalerkantho

সোমবার । ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৩ নভেম্বর ২০২০। ৭ রবিউস সানি ১৪৪২

চট্টগ্রামে ‘নিহত ব্যক্তি’ জীবিত ফেরার ঘটনা

বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

চট্টগ্রামে ‘নিহত’ দিলীপ রায় এক সপ্তাহের মধ্যেই জীবিত ফিরে আসা, কথিত নিহত ব্যক্তিকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায়সহ পুরো ঘটনা অনুসন্ধান করতে চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিমকে (সিএমএম) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পুরো ঘটনা অনুসন্ধান করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ওই মামলার আসামি দুর্জয় আচার্যকে জামিন দিয়েছেন আদালত। দিলীপ রায়, দুই আসামি এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য শোনার পর আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে দুর্জয়ের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন জাহিদুল আলম চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

হাইকোর্ট গত ২৯ সেপ্টেম্বর এক আদেশে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রামের হালিশহর থানার এসআই সাইফুল্লাহ, ‘নিহত’ ব্যক্তি দিলীপ রায় এবং হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া কারাবন্দি আসামি জীবন চক্রবর্তী ও দুর্জয় আচার্যকে তলব করেন। এ আদেশে গতকাল নির্ধারিত দিনে সংশ্লিষ্টরা হাইকোর্টে হাজির হন। কারাবন্দি দুই আসামিকে কারা কর্তৃপক্ষ হাজির করে। গতকাল আদালত দিলীপ রায়, দুই আসামি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য শোনেন। ওই দুই আসামি আদালতকে জানান, তাদের ওপর নির্যাতন করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে। আদালত সব পক্ষের বক্তব্য শুনে আদেশ দেন।

জানা যায়, অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গত বছর ২৩ এপ্রিল পুলিশ বাদী হয়ে হালিশহর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় ২৫ এপ্রিল জীবন চক্রবর্তী ও দুর্জয় আচার্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে জীবন চক্রবর্তী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সিএমএম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গাঁজা খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিলীপ রায় নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে বলে জবানবন্দিতে জানায় জীবন চক্রবর্তী। এর কয়েক দিনের মধ্যে ওই বছরের ১ মে দিলীপ রায়কে জীবিত অবস্থায় একই বিচারকের সামনে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর ম্যাজিস্ট্রেট দিলীপকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেন এবং পুলিশকে ৫ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন। এরই মধ্যে দুর্জয় চক্রবর্তী হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁর জামিন আবেদনের ওপর শুনানিকালে দিলীপ রায়ের জীবিত ফেরার ঘটনা হাইকোর্টের নজরে আসে।

 

মন্তব্য