kalerkantho

সোমবার । ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৩ নভেম্বর ২০২০। ৭ রবিউস সানি ১৪৪২

কিবরিয়া হত্যা, সুরঞ্জিতকে হত্যাচেষ্টা

বাবর আরিফ গৌছের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

সিলেট অফিস   

২৩ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাবর আরিফ গৌছের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এস এম কিবরিয়া হত্যার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে করা মামলা এবং সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যাচেষ্টার পৃথক দুটি মামলাসহ তিনটি মামলায় অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। তিনটি মামলারই আসামির তালিকায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জের সাবেক মেয়র জি কে গৌছের নাম রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহরিয়ার কবিরের আদালতে মামলাগুলোর অভিযোগ গঠন করা হয়। অন্য মামলাটি হচ্ছে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যাচেষ্টায় বিস্ফোরক আইনে করা। তবে এদিন সাক্ষী হাজির না হওয়ায় কিবরিয়া হত্যা মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ আবার পিছিয়েছে।

সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সরওয়ার আহমদ চৌধুরী আবদাল বলেন, ‘সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনার দুটি মামলায় আজ অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এস এম কিবরিয়ার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা বিস্ফোরক মামলার অভিযোগ গঠন হয়েছে। অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে এই তিন মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলো।’ তিনি আরো বলেন, ‘কিবরিয়া হত্যার অন্য মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ থাকলেও সাক্ষীরা হাজির না হওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে ২৮ নভেম্বর ধার্য করা হয়েছে। এ মামলার কার্যক্রমও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।’

জানা গেছে, সাবেকমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ওপর গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলায় ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের সাবেক মেয়র জিকে গৌছ রয়েছেন। সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে ২৮ জনকে। তাঁদের মধ্যেও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাবর, সিলেট সিটির মেয়র আরিফুল হক, হারিছ চৌধুরী, হবিগঞ্জের সাবেক মেয়র জিকে গৌছও রয়েছেন।

গতকাল সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে লুত্ফুজ্জামান বাবরসহ কিবরিয়া হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। একই মামলায় জামিনে থাকা সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জের সাবেক মেয়র জিকে গৌছও আদালতে হাজির হন। মোট ১১ জন আসামি গতকাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

নিজেকে নির্দোষ দাবি মেয়র আরিফের : আদালত থেকে বের হয়ে সিলেট সিটির মেয়র আরিফুল হক গণমাধ্যমের কাছে এ ঘটনায় তাঁর জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০৬ সালে (আসলে ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি)। আর আমাকে এর সঙ্গে জড়ানো হলো ২০১৩ সালে। প্রথম চার্জশিটেও নাই, দ্বিতীয়, তৃতীয় চার্জশিটেও নাই। কিন্তু আমি মেয়র হওয়ার পরে ভাগ্যের পরিহাসে আমাকে জড়ানো হলো। যেসব জায়গার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সিলেট ছাড়া ওই দুই জায়গার কোনো জায়গাই আমার এলাকা নয়।’ সব কিছু উপরওয়ালা ভালো জানেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমি এটার সঙ্গে কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট ছিলাম না। আমি জানিও না। চার বছর পর এই মামলার চার্জশিট আজ গঠন হলো। আমি বিশ্বাস করি, ন্যায়বিচার হলে আমি বেকসুর খালাস পাব। আমি বিশ্বাস করি, সব বিবেচনায় আদালত ন্যায়বিচার করবেন।’

প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভা শেষে ফেরার পথে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ কিবরিয়া, তাঁর ভাতিজা শাহ মঞ্জুর হুদাসহ পাঁচজন। আহত হন ৭০ জন। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মজিদ খান বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা করেন। হত্যা মামলায় ১০ জনকে আসামি করা হয়। পরে ২০১১ সালে তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে আরো ২৬ জনকে আসামি করা হয়। পরে তৃতীয় দফায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, সিলেটের সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের সাবেক মেয়র জিকে গৌছসহ প্রায় ৩৫ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। নানা কারণে ১৫ বছর ধরে ঝুলে আছে এই মামলার কার্যক্রম। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পরও মামলার কার্যক্রমে গতি পাচ্ছে না। গতকাল সাক্ষীরা হাজির না হওয়ায় আরেক দফা পিছিয়ে যায় চাঞ্চল্যকর কিবরিয়া হত্যা মামলার তারিখ।

অন্যদিকে ২০০৪ সালের ২১ জুন দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে তখন প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় এক যুবলীগকর্মী নিহত ও আহত হন ২৯ জন। ওই ঘটনায় উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে দিরাই থানায় মামলা করেন।

মন্তব্য