kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

বিশ্বব্যাংককে অর্থমন্ত্রী

স্বীকৃতি দিন প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বীকৃতি দিন প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের অর্থনৈতিক অবদান শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্বের অর্থনীতিতেও অনিবার্য। এ জন্য বিশ্ব অর্থনীতিতে এর স্বীকৃতি দিতে বিশ্বব্যাংককে আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

করোনা মহামারির কারণে এবার বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। সংস্থা দুটির বার্ষিক সভার এক সেশনে গতকাল বুধবার অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এতে অংশ নেন আইএমএফের দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্ট উয়িং শেফার, আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী আবদুল হাদী আরগান্ধিওয়াল, ভুটানের  অর্থমন্ত্রী লায়নপো নামগে শেরিং, ভারতের নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, মালদ্বীপের অর্থমন্ত্রী ইব্রাহিম আমির, নেপালের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. যুবরাজ খাতিওয়াদা, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহাকারী এবং দারিদ্র্য দমন ও সামাজিক সুরক্ষাবিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. সানিয়া নিশতার এবং শ্রীলঙ্কার শিক্ষামন্ত্রী প্রফেসর জি এল পিরিস। অর্থমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

করোনা মহামারির ধাক্কা সামলাতে বাংলাদেশ সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, কভিড-১৯-এর অপ্রত্যাশিত অভিঘাত থেকে উদ্ভূত প্রাসঙ্গিক বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য বিশ্বব্যাংককে ধন্যবাদ জানাই। আপনারা সকলে অবগত যে বাংলাদেশ বিভিন্ন দিক থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। বাংলাদেশে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাস্তববাদী নেতৃত্ব এবং দেশে-বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করা নাগরিক। বিশ্বব্যাংক ও অন্যরা অনুমান করেছিল যে করোনার কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী রেমিট্যান্সের পরিমাণ হ্রাস পাবে। যা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি, বিশেষত গ্রামীণ অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে গার্হস্থ্য চাহিদা এবং প্রণোদিত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্সে সব সময় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখিয়েছে এবং সমপ্রতি এটি ত্বরান্বিত হয়েছে। আমরা ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ১৮.২ বিলিয়ন ডলার অর্জন করেছি, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ৬.৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স রেকর্ড হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৯ শতাংশ বেশি। সরকার ঘোষিত ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা নীতি এ ক্ষেত্রে প্রশাংসার দাবিদার। তাই আমাদের রেমিট্যান্স মোটেও কমেনি বরং বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী আমাদের প্রায় ১১.৬ মিলিয়ন বাংলাদেশি নাগরিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে। মালয়েশিয়ার এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সে দেশে যে সব ব্যবস্থাপক পর্যায়ে বিদেশি রয়েছেন যার ৩৭ শতাংশই বাংলাদেশি নাগরিক।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক বন্ধের কারণে গৃহবন্দি অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে উদ্বেগ উপেক্ষা করা যায় না। গত ১ এপ্রিল থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এক লাখ ৯৫ হাজার ৬৯৮ জন শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছেন। যদিও বিশ্বব্যাপী মোট প্রবাসী বাংলাদেশিদের তুলনায় এটি বড় সংখ্যা নয়। তার পরও চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন এবং পুরনো মিলিয়ে দুই লাখ ৮৪ হাজার কর্মী বিদেশে গেছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি।

দেশে ও বিদেশে আমাদের এই কর্মীরা অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে। এই কর্মীদের কষ্টের স্বীকৃতি দিতে বিশ্বব্যাংককে আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের এবং বিশ্বের অগ্রগতির প্রবাহ ধরে রাখতে আমাদের কর্মীরা কষ্ট মন্ত্রে মুগ্ধ। তাই আমি অত্যন্ত খুশি হব, যদি বিশ্ব ও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এ অর্জন বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে স্বীকৃতি পায়। ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব এশিয়াসহ বিশ্বের প্রতিটি বড় বড় শহরে কর্মরত এসব কর্মীর বৈশ্বিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার প্রশংসা কেবল আমাদের মানুষকে নয়, বিশ্বব্যাপী সমস্ত প্রবাসী কর্মীকে উৎসাহিত করবে।

মন্তব্য