kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বিগান

গণতন্ত্রই ভবিষ্যৎ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গণতন্ত্রই ভবিষ্যৎ

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার জন্য গণতন্ত্রের আরো বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ডেপুটি সেক্রেটারি স্টিফেন বিগান। তিনি বলেছেন, এ দেশে গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক টেলিকনফারেন্সে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্টিফেন বিগান গত সপ্তাহে ভারত ও বাংলাদেশ সফর করেন। এ সফর নিয়ে টেলিকনফারেন্সে কথা বলেন ও বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন নেই; ভোটও চুরি হয়ে গেছে—এমন অভিযোগ তুলে এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব ও বাংলাদেশের করণীয় সম্পর্কে জানতে চান এক সাংবাদিক। এর জবাবে ডেপুটি সেক্রেটারি বিগান বলেন, ‘আমি শুধু এটুকু বলব এবং এটি আমার নিশ্চিত বিশ্বাস যে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, গণতন্ত্রের পথেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে অব্যাহত প্রচেষ্টা দক্ষিণ এশিয়ার নেতা হিসেবে বাংলাদেশের বৈশিষ্ট্য। স্বাধীনতার ৫০ বছরে সামরিক স্বৈরশাসন, অভ্যুত্থান ঘটেছে। এখনো নিখুঁত গণতন্ত্রচর্চা বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে রয়ে গেছে। এটি নিশ্চিত যে, যুক্তরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও উৎসাহ দিতে সব কিছু করবে। বাংলাদেশে আমার কিছু বৈঠকে আমি এই বার্তা দিয়েছি। তবে এ জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি অবগত যে বাংলাদেশ এমন একটি অঞ্চলে অবস্থান করে এগিয়ে যাচ্ছে যা সব সময় গণতন্ত্রের প্রতি, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিনির্মাণের ব্যাপারে সহায়ক নয়।’

স্টিফেন বিগান বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনে গণতান্ত্রিক ওই আদর্শ ধরে রাখা প্রতিটি দেশের জন্যই চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়। তাই তিনি সতর্কভাবেই এই মুহূর্তের বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে কোনো উপসংহারে পৌঁছতে চান না। বরং যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে আরো বৃহৎ পরিসরে দেখতে চায়। বাংলাদেশের জনগণ যা চায় তাতেই তারা বিশ্বাস করে।

তিনি বলেন, আরো গভীর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের উদাহরণ ও অব্যাহত কণ্ঠস্বর এ দেশে সরকার ও নাগরিক সমাজের কান পর্যন্ত পৌঁছাবে। এর ফলে সবচেয়ে ভালো ফল আসতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ডেপুটি সেক্রেটারি বলেন, ‘আপনারা আশ্বস্ত থাকতে পারেন যে রাষ্ট্রের গণতন্ত্রের সম্ভাব্য সবচেয়ে ভালো রূপ অর্জনে আমরা বাংলাদেশের জনগণ ও এর সরকারের সঙ্গে কাজ করা অব্যাহত রাখব।’

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস নিপীড়নকে যুক্তরাষ্ট্র ‘জেনোসাইড’ হিসেবে স্বীকার করবে কি না জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা বিগান বলেন, ‘রোহিঙ্গারা যে ধরনের নৃশংসতার শিকার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র তার নিন্দা জানায়। অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করাই শুধু নয়, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক ফেরার পরিবেশ সৃষ্টি করাও মিয়ানমারের দায়িত্ব। রাখাইন রাজ্যে নৃশংসতা ‘জেনোসাইড’ কি না তা নির্ধারণে নীতিগত ও আইনি বিষয় রয়েছে।’ এটি নিয়ে বাংলাদেশ সফরের সময় আলোচনা হয়নি বলে জানান তিনি।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোকে আরো কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে চীনের ভূমিকাকে দুর্ভাগ্যজনক হিসেবে মন্তব্য করেন বিগান। তিনি বলেন, মিয়ানমারের ওপর চীন চাপ সৃষ্টি করছে না। রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে সহযোগিতার পরিকল্পনা নিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দাতা দেশগুলোর সম্মেলন হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশকেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্ব হিসেবে উল্লেখ করে বিগান বলেন, ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার অংশ হিসেবে তিনি সফরে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশে এটিই তাঁর প্রথম সফর ছিল। এ সফর নিয়ে তাঁর বিশেষ আগ্রহও ছিল।

বিগান বলেন, বাংলাদেশ সফরে তিনি বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, নিরাপত্তাসহ অনেক ইস্যুতে আলোচনা করেছেন। রোহিঙ্গাদের প্রতি মহানুভবতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানানোর সুযোগ পেয়েছেন তিনি তাঁর ঢাকা সফরে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যে ধরনের নৃশংসতার শিকার হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয়।

‘কোয়াড’ (ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের জোট) সম্প্রসারণের চিন্তা আছে কি না এবং তাতে দক্ষিণ কোরিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে কি না, সাংবাদিকরা এ প্রশ্ন করেছিলেন বিগানকে। জবাবে তিনি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশসহ আরো কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করেন এবং সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কী পর্যায়ে আছে জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ডেপুটি সেক্রেটারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বোঝাপড়া দীর্ঘ দিনের। এর সত্যিকারের সূচনা হয়েছে প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের সময়, প্রেসিডেন্ট বুশের মেয়াদে তা জোরালো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ওবামার মেয়াদেও অব্যাহত ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সময় তা আরো জোরালো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা