kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রাজধানীতে ধর্ষণবিরোধী কর্মসূচি অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজধানীতে ধর্ষণবিরোধী কর্মসূচি অব্যাহত

রাজধানীতে ধর্ষণবিরোধী প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে ধর্ষকদের ফাঁসিসহ সাত দফা দাবিতে রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে। দুপুরে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থীরা শাপলা চত্বর অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। একই সময় সচিবালয়ের সামনে প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি পালন করে গণসংহতি আন্দোলন। কারওয়ান বাজারে ধর্ষণবিরোধী কর্মসূচি পালন করেন নারী আলোকচিত্রীরা। বিকেলে শাহবাগে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড গণসাক্ষরতা ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর প্ল্যাটফর্ম ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ কার্টুন ও ছবিতে ধর্ষণের প্রতিবাদ জানায়।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে সকালে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। রাতে বিভিন্ন সংগঠন রাজধানীতে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে।

এসব সমাবেশে বক্তারা ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করার ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। বক্তারা অভিযোগ করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার বা আইনের ফাঁক গলে পার পেয়ে যাচ্ছেন ধর্ষকরা। তাই এর প্রতিকার হিসেবে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসির পাশাপাশি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

গণসংহতি আন্দোলনের অবস্থান কর্মসূচি : সচিবালয়ের সামনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর। ধর্ষণের অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন করার ঘোষণার সমালোচনা করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডের আইন করলেই ধর্ষণ কমবে, এর গ্যারান্টি নেই।’ গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, বিচার হয় না। বিচারহীনতা বড় সমস্যা।

শাপলা চত্বর অবরোধ : শাপলা চত্বর অবরোধ করে মতিঝিল আইডিয়াল কলেজ ও মতিঝিল বয়েজের একদল শিক্ষার্থী। এতে দুপুর দেড়টা থেকে সব দিকের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেয়, ‘আমার সোনার বাংলায় ধর্ষকদের ঠাঁই নাই’, ‘জেগেছে রে জেগেছে ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘ধর্ষকদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে একসাথে’, ‘প্রীতিলতার বাংলায় ধর্ষকদের ঠাঁই নাই’। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের চারপাশে অবস্থান নিলেও বাধা দেননি।

উত্তরায় তিন দিন পর ফের বিক্ষোভ : পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গতকাল সকাল ১১টার দিকে বিএনএস সেন্টারের সামনে জড়ো হতে থাকে শিক্ষার্থীরা। তারা বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা সাত দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বনিম্ন শাস্তি যাবজ্জীবন নিশ্চিত করা, ধর্ষণের মামলায় লিঙ্গভেদে নারী-পুরুষ কর্মকর্তা নিয়োগ করা, সালিসি পদ্ধতিতে ধর্ষণের বিচারপ্রক্রিয়া বন্ধ করা, বাদীর নিরাপত্তা-চিকিৎসা নিশ্চিত করা, দলীয় বা প্রশাসনের কেউ ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রভৃতি।

শাহবাগে বিক্ষোভ : বিকেলে শাহবাগে বামপন্থী শিক্ষার্থীদের একটি গ্রুপ ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করেছে।

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি শিক্ষার্থীদের : সারা দেশে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি কলেজ ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের একদল শিক্ষার্থী। নারী আলোকচিত্রীদের সাংবাদিকদের প্রতিবাদ : বিকেলে কারওয়ানবাজারে সার্ক ফোয়ারার সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন নারী আলোকচিত্রী সাংবাদিকরা। তাঁরা বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন বাংলাদেশ টেলিভিশন ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা