kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেই অপরাধ বন্ধ হয় না

শামসুল হক টুকু, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেই অপরাধ বন্ধ হয় না

প্রবীণ রাজনীতিবিদ মো. শামসুল হক টুকু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি। শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সভাপতিও তিনি। এর আগে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। জঙ্গিবাদ, মাদক ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দেশে একের পর এক ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় অনেকের মতো তিনিও উদ্বিগ্ন; ক্ষুব্ধ। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন কালের কণ্ঠ’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক নিখিল ভদ্র।

 

কালের কণ্ঠ : সারা দেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

টুকু : ধর্ষণ একটি জঘন্যতম অপরাধ। যারা ধর্ষণের মতো ঘটনায় জড়িত, তারা মানুষ নয়, পশু। যাঁরা এদের জন্ম দিয়েছেন, তাঁদেরও দায় রয়েছে। ধর্ষকরা কোনো দলের নয়। তারা অপরাধী, তাদের বিচার ও শাস্তি হতে হবে। একই সঙ্গে তাদের পরিবারকেও জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে। কোনো পরিবারে ধর্ষকের মতো পশুর জন্ম হলে তা সমগ্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে। এতে অভিভাবকরাও সতর্ক হবেন।

 

কালের কণ্ঠ : অনেকের অভিযোগ, অনেক ধর্ষক ক্ষমতাসীন দলের এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে?

টুকু : ধর্ষণের ঘটনার জন্য যাঁরা শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিংবা ছাত্রলীগের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন, তাঁরা মূলত ধর্ষকদের রক্ষার চেষ্টা করছেন। মাদরাসা শিক্ষকরাও ধর্ষণ ও বলাৎকারের মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে। এসব শিক্ষকের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। বিকৃত রুচির জায়গা থেকে তারা এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে। এসব জঘন্য অপরাধী কোনো দলের নয়। অপরাধ করার জন্য তারা কোনো কোনো দলে আশ্রয় খুঁজতে পারে। কিন্তু কেউ আশ্রয় দিতে পারে না, দেওয়া ঠিক হবে না। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে প্রতিপক্ষের সদস্যরা হত্যা-ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এখন কিন্তু কেউ বলতে পারবে না যে বিরোধী দলের কর্মীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে।

 

কালের কণ্ঠ : এরই মধ্যে কেউ কেউ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?

টুকু : কারো পদত্যাগের দাবি কিংবা বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে রাজপথে নামলে ধর্ষণের ঘটনা বন্ধ হবে না। সব দায়িত্ব সরকারের ওপর চাপালে হবে না। আমাদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। আমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে ইভ টিজিংয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। তখনও ইভ টিজারদের মা-বাবাকে প্রশ্নের মুখোমুখি করেছিলাম। সারা দেশে জনগণ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। এতে ইভ টিজিং কমেছিল। একইভাবে সারা দেশে ধর্ষণের বিরুদ্ধেও জনমত গড়ে তুলতে হবে।

 

কালের কণ্ঠ : ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি সম্পর্কে কিছু বলবেন?

টুকু : সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করতে আইনের সংশোধন হতে পারে। আইনমন্ত্রীও এ বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। আমিও গভীরভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান হতে পারে। কিন্তু সেটা করলেই ধর্ষণ বন্ধ হবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। খুনের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হলেও হত্যা বন্ধ হয়নি। আবার মৃত্যুদণ্ড নেই এমন দেশে খুনের ঘটনা কম। এখানে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। সবচেয়ে জরুরি জনসচেতনতা।

 

কালের কণ্ঠ : ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পেছনে কোনো কারণ আছে কি না?

টুকু : হঠাৎ ধর্ষণের ঘটনা বাড়ার কোনো কারণ আছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। অতীতে দেখা গেছে, গণধর্ষণের পেছনে বিশেষ উদ্দেশ্য থাকত। এ ক্ষেত্রে তেমন কিছু আছে কি না তা প্রশাসনকে খতিয়ে দেখতে হবে। কারণ যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর বিচার শুরুর পর আমার এলাকায় চুরি-ছিনতাই বেড়ে যেতে দেখেছি। আবার চুরি-ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে সবার সঙ্গে মিলে শিবির ও জামায়াত নেতাদের আন্দোলন করতে দেখেছি। তাই ধর্ষকদের শাস্তির আগে মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি আসায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দেওয়া স্বাভাবিক।

 

কালের কণ্ঠ : চলমান সংকট উত্তরণে আপনার পরামর্শ কী?

টুকু : করোনা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ধর্ষকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এর বিরুদ্ধে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোকে সারা দেশে কর্মসূচি দিতে হবে। জঙ্গিবাদের মতো ধর্ষকদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে ধর্ষকরা পালাতে বাধ্য হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা