kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বিশেষজ্ঞ মত

দরকার কঠোর আইন, সামাজিক প্রতিরোধ

ড. নেহাল করিম, অধ্যাপক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দরকার কঠোর আইন, সামাজিক প্রতিরোধ

‘মানুষের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বেড়ে গেছে। হতে পারে আইনের শাসন নেই কিংবা আইন থাকলেও এর প্রয়োগ নেই এ কারণে। সেই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সীমাবদ্ধতাও আছে। উপরন্তু রাজনৈতিক প্রভাব তো রয়েছেই। মানুষের মধ্যে নেই মূল্যবোধ বা নীতি-নৈতিকতার চর্চা।’ গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে আলাপচারিতায় সমাজে নৈতিক অবক্ষয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে এসব কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম।

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে কোনো সমস্যাই নির্মূল হয় না, হ্রাস পায়। বাংলাদেশে যে সমস্যা আছে, তা পৃথিবীর অন্য দেশেও আছে। তবে সেগুলোর ধরনগত, মাত্রাগত পার্থক্য আছে।’

সামাজিক প্রতিরোধের বিষয়ে এ সমাজবিজ্ঞানী বলেন, ‘যারা ধর্ষণ, ভিডিও ধারণের মতো গর্হিত কাজ করছে তাদের বেশির ভাগের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। এরা সবাই মানসিক বিকারগ্রস্ত। এরা প্রকৃত শিক্ষা পায়নি। এখন সরকারকে বলিষ্ঠ হাতে এদের  দমন করতে হবে। সামাজিক প্রতিরোধ, সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় বলি, জৈবিক চাহিদা সহজাত প্রবৃত্তি, এটা আসবেই। এটা নিবৃত্ত করা যায় না। ফলে এই জৈবিক চাহিদা পূরণে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারকে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।’

ড. নেহাল করিম বলেন, ‘প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত নীতি-নৈতিকতা শিক্ষা দিতে হবে। মূল্যবোধের চর্চা থাকতে হবে এবং যেকোনো অবক্ষয় সামাজিকভাবে প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা আনতে হবে। এত দিন যে এসিড সন্ত্রাস ছিল, তা সামাজিক আন্দোলন এবং সরকারের যথাযথ পদক্ষেপের কারণে কমে গেছে। কাজেই ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রেও যদি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়, সরকার যদি দৃঢ় মনোভাব ব্যক্ত করে, তাহলে এসব নেতিবাচক প্রবণতা কমে যাবে।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবকদের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেক্সচুয়াল এডুকেশন শিক্ষা দেওয়া হয়। আমাদের দেশেও এর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বাংলাদেশে নীতি-নৈতিকতা নিয়ে চর্চা হয় না। অভিভাবকরাও এ ব্যাপারে সচেতন নন। তাঁরাও সন্তানদের শুধু প্রতিষ্ঠিত হওয়া কিংবা বড় চাকরিজীবী হওয়ার পেছনে জোর দেন। সন্তানদের মধ্যে যে মানবিক মূলবোধ জাগ্রত হতে হবে, এটা বেশির ভাগ মা-বাবা বলেন না। আবার অনেকে জানেনও না। সমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধে অভিভাবকদেরও বড় ভূমিকা রাখতে হবে। নিয়মিত সন্তানদের খোঁজখবর রাখতে হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা