kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বিশেষজ্ঞ মত

আইনে ত্রুটি নেই, প্রয়োগেই বড় গলদ

নিজামুল হক নাসিম, বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আইনে ত্রুটি নেই, প্রয়োগেই বড় গলদ

দেশজুড়ে একের পর এক বীভৎস ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। সেই সঙ্গে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নতুন করে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে দেখা দিয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। শিক্ষার্থীরা ধর্ষকদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে তা কার্যকরের দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও নির্যাতনের প্রতিবাদে সোচ্চার। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে, ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলার বিচারে দীর্ঘসূত্রতার কারণে দেশে ক্রমশ বাড়ছে ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা। তবে বিচার বিলম্বিত হওয়ার কারণে ধর্ষণ-নির্যাতন বাড়ার অভিযোগের সঙ্গে একমত নন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম। তাঁর অভিমত, তদন্ত কর্মকর্তা ও বিচারক স্বল্পতায় ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলার বিচার ও তদন্ত বিলম্বিত হচ্ছে। বিচারক ও তদন্ত কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়ালে দ্রুত তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন করা যাবে। তিনি বলেন, ‘বিশেষ বিশেষ মামলা নয়, সব মামলার দ্রুত বিচার করা গেলে আর এ ধরনের অভিযোগ থাকবে না। বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার পাবেন।’

বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে যে পরিমাণ মামলা হচ্ছে সে তুলনায় তদন্ত কর্মকর্তার সংখ্যা কম। ফলে একটি মামলা হলে সেই মামলার তদন্ত শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগে। আর তদন্ত শেষ হওয়ার পর যখন অভিযোগপত্র দেওয়া হয়, তখন মামলা বিচারের জন্য আদালতে যায়। আদালতেও বিচারকের সংখ্যা অপ্রতুল। এ কারণে বিচার বিলম্বিত হচ্ছে।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের বিচারের আইনে বলা আছে, ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার বিচার শেষ করতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে বিচারকাজ শেষ না হওয়ায় মামলার আসামিরা ঠিকই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। জামিন পেয়ে এরা আবার হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। অনেকে ফের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তবে এ ক্ষেত্রেও বিচারপ্রার্থীদের আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ আছে। কেউ জামিনে গিয়ে তার অপব্যবহার করলে বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে জামিন বাতিল করা হয়।’

ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতন নিয়ে দেশে বিদ্যমান যে আইন রয়েছে তাতে কোনো ত্রুটি রয়েছে  কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আইনে কোনো ত্রুটি নেই। তবে আইনের প্রয়োগ যথাযথ হতে হবে।’ যোগ করে তিনি আরো বলেন, ‘দেশে প্রায় ৩৬ লাখ মামলার জট রয়েছে। এই বিশালসংখ্যক মামলার জট তৈরি হয়েছে মূলত বিচারক স্বল্পতায়। এ পরিস্থিতিতে পর্যাপ্তসংখ্যক বিচারক নিয়োগ দেওয়া জরুরি। তাহলে মামলার দ্রুত বিচার শেষ করা সম্ভব। এসব মামলা আর বছরের পর বছর পড়ে থাকবে না। আর এর সুযোগও নিতে পারবে না অপরাধীরা।’ 

দেশে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বেড়েছে এ কথা ঠিক না। আগেও এ ধরনের অপরাধ হয়েছে। আদালতে বিচারাধীন মামলার পরিসংখ্যান দেখলেই তার সত্যতা মিলবে। তবে বর্তমানে যে কারণে বেশি মনে হচ্ছে তা হলো, আগে ঘটনা ঘটলে এভাবে মিডিয়ায় আসত না। এখন ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে কেউ না কেউ ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে কিংবা মিডিয়ার হাতে তুলে দিচ্ছে। তখন মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হচ্ছে। ফলে এ নিয়ে সোচ্চার হচ্ছে মানুষ। এ কারণে মনে হচ্ছে দেশে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে গেছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা