kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বিশেষজ্ঞ মত : একের পর এক ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীসহ সচেতন মানুষ প্রতিবাদ, মানববন্ধন করে দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন দেশের তিনজন স্বনামখ্যাত ব্যক্তি। তাঁরা বলছেন নৈতিক শিক্ষা, আইনের কঠোর প্রয়োগ আর সামাজিক প্রতিরোধের কথা

তরুণরা নৈতিকতা শিক্ষা থেকে পিছিয়ে

ডা. আনোয়ারা বেগম, মনোরোগবিশেষজ্ঞ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তরুণরা নৈতিকতা শিক্ষা থেকে পিছিয়ে

মানুষের মতো চেহারা হলেও সবাই মানুষ নয় বলে মনে করেন দেশের বিশিষ্ট মনোচিকিৎসক ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হক। দেশে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘কাকে মানুষ বলব আর কাকে মানুষ বলব না, সেটা বুঝতে হবে। যদি ওই চেহারার ভেতরে মনুষ্যত্ববোধ না থাকে, যদি ওই চেহারার ভেতর পাশবিক প্রবৃত্তি থাকে, আচার-আচরণ, প্রবণতায় হিংস্র পশুত্বের প্রকাশ ঘটে তবে সে মানুষের সমাজে বসবাসের যোগ্য নয়। এখন কথা হচ্ছে, তারা মানুষের গর্ভে জন্ম নিয়ে কেন এমন পশুর প্রবৃদ্ধি নিয়ে বড় হলো? এর দায় পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ হয়ে রাষ্ট্র পর্যন্ত। অর্থাৎ সন্তানকে জন্ম দেওয়ার পর মা-বাবা তাদের মধ্যে মানবিক গুণাবলি, চারিত্রিক বিবেকবোধ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। একইভাবে সমাজও তাকে মনুষ্যত্ববোধ সম্পর্কে সজাগ করতে পারেননি।’

আনোয়ারা সৈয়দ হক আরো যোগ করেন, ‘সমাজ যখন এই মানুষরূপী অমানুষদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয় কিংবা সুবিচার নিশ্চিত করতে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়, তখন এই অপরাধীরা আরো প্রলুব্ধ হয়। তাদের ভেতরকার পশুবৃত্তি আরো বেড়ে যায়। অপরাধকে তারা অপরাধ হিসেবে গণ্য করে না। উল্টো অপরাধকে তারা নিজেদের প্রেরণা হিসেবে দেখে।’

তিনি বলেন, ‘আইনি কাঠামো ও বিচারের সংস্কৃতি অপরাধীদের মনোজগতে ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রলম্বিত হলে সমাজে এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড আরো বেড়ে যায়। কারণ, একজন মানুষের মানসিক পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করে তার পারিপার্শ্বিকতা, পরিবার, শিক্ষা, সমাজ ও রাষ্ট্রের আচরণের ওপর। ফলে এ কথা বলা যায়, এ ধরনের পাশবিক অপরাধের দায় শুধু ওই অপরাধীর নয়, এর দায় সমাজ এবং রাষ্ট্রের ওপরও বর্তায়। কারণ মানুষরূপী ওই অপরাধীর মনের ভেতর সুন্দর মানবিক গুণাবলির জন্ম দিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।’

এই মনোচিকিৎসক আরো বলেন, ‘শিক্ষা পেলেও অনেকের নৈতিকতার জায়গায় মানবিকতা জাগ্রত হয়নি, আবার অনেকে ধর্মীয় চর্চারত থেকেও দিব্যি পাশবিক আচরণ কিংবা অপরাধ করছে। এ থেকে বোঝা যায়, যে শিক্ষা এরা পেয়েছে তাতে গলদ রয়েছে। অর্থাৎ অপরাধীরা অপরাধ প্রবণতাকে নিবৃত্ত করতে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেনি।’

যোগ করে তিনি আরো বলেন, ‘এবার করোনাকালে আরো কিছু ব্যতিক্রমী বিষয় আমাদের সামনে এসে পড়েছি। বলা যায় মহামারিকালে ভয়ে কিছুদিন এসব কুপ্রবৃত্তিসম্পন্ন মানুষ খারাপ কাজ থেকে দূরে ছিল। সেই ভয় কেটে যেতেই এই পাশবিক প্রবণতাগুলো আবার উগরে উঠেছে।’

ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, ‘সামনে যেন এ ধরনের কোনো ঘটনা আমাদের আর দেখতে না হয় সে জন্য প্রয়োজন এসব পৈশাচিক অপরাধে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। তাহলে পশু প্রবৃত্তির মানুষদের মধ্যে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে অপরাধীরা অপরাধ করতে ভয় পাবে, অপরাধের ইচ্ছা জাগলেও দমিয়ে রাখার চেষ্টা করবে। সমাজ ও রাষ্ট্রের ইতিবাচক আচরণে সামগ্রিক অপরাধপ্রবণতা থেকে নিজেদের দূরে রাখার সুযোগ পাবে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা