kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

প্রধানমন্ত্রী বললেন

প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সংযোগে বাংলাদেশ আদর্শ হতে পারে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সংযোগে বাংলাদেশ আদর্শ হতে পারে

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘প্রাচ্যের সঙ্গে পাশ্চাত্যের সংযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব থেকে একটা আদর্শ জায়গা হতে পারে, যদি আমরা একে সেভাবে উন্নত করতে পারি।’ তিনি বলেন, তাঁর সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ স্থাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ভার্চুয়াল এ অনুষ্ঠানে রাজধানীর গ্রিন রোডে নবনির্মিত পানি ভবন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে নির্মিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘ম্যুরাল’ ও বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের নবনির্মিত প্রধান কার্যালয় ‘পর্যটন ভবন’ এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সমপ্রসারণ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন তিনি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে ‘প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড’ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন জানিয়ে তাঁর মেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইউরোপে সুইজারল্যান্ডের যে অবস্থান, ইউরোপের এক দিক থেকে আরেক দিকে যেতে হলে সুইজারল্যান্ডের ভেতর দিয়েই যেতে হয়। আমাদের বাংলাদেশের অবস্থানটা, আমরা ইন্টারন্যাশনাল এয়াররুটের ভেতরে আছি। সেখানে আমাদের সামনে অনেক সম্ভাবনা আছে। সেই সম্ভাবনাটাকে যদি আমরা কাজে লাগাতে পারি, তাহলে আমাদের একদিকে পর্যটন শিল্প, অন্যদিকে আমাদের এয়ারলাইনস আমাদের অনেক টাকা উপার্জন করে দিতে পারে।’

স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বিমানের উন্নয়নে কাজ শুরু করেছিলেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু পরবর্তীতে যাঁরা এসেছেন... একখানা বিমান কিনে কয় টাকা তাঁরা পকেটে ভরবেন, কত কমিশন খাবেন সেটাই ছিল তাঁদের মাথায়।’

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নাজুক অবস্থার কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘১৯৯৬ সালের আগেও আপনারা যাঁরা বিমানে চড়েছেন, একবার চিন্তা করেন, সেখানে কী দুরবস্থাটা ছিল। বিমানে চড়লে কোনো রকমের এন্টারটেইনমেন্টের ব্যবস্থা ছিল না। আমি তো বেশির ভাগই নিজেদের দেশের বিমানে চলাচল করতাম। কিছু দূর যাওয়ার পর গায়ে পানি পড়ত ওপর থেকে, সেখানে তোয়ালে, টিস্যু দিয়ে পানি...এমন একটা অবস্থা ছিল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একসময় বলতাম, আমাদের পাইলটদের আমি ধন্যবাদ জানাই যে তারা এই বিমানের চালক ছিল। এই পুরনো ঝরঝরে... সে কারণে তাদেরকে আমাদের সাধুবাদ দিতে হয়।’

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিমানের সেবার মানের উন্নয়ন, নতুন বিমান কেনা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৈরি এবং বিমানবন্দরগুলোর আধুনিকায়নে নেওয়া সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন তিনি।

সরকার সারা দেশে আকাশপথ, নৌপথ, সড়কপথ ও রেলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে জনিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা যত সহজ হবে, দেশের অর্থনীতি তত গতিশীলতা পাবে, উন্নত হবে। মানুষের যাতায়াত সহজ হবে।’

তিনি বলেন, বিমানের জেট ফুয়েল যাতে লাইপলাইনের মাধ্যমে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যায়, সে ব্যবস্থা সরকার করে দিচ্ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিমান যেন যেতে পারে, সে জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজও শুরু হয়েছে। আজকে দেখলাম যে আমেরিকার সঙ্গে একটা চুক্তি হয়েছে, যেখানে আমাদের বিমান যেতে পারবে। আমরা যখন বোয়িং বিমানগুলো কিনি তখন থেকে এটা একটা প্রচেষ্টা ছিল যে আমরা যেন আমেরিকায় আমাদের বিমান নিতে পারি বা আমরা একটা যোগাযোগ করতে পারি। সেখানে আমাদের অনেক বাঙালি বসবাস করেন।’

পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে পর্যটনের ‘বিশাল সম্ভাবনার’ কথা তুলে ধরে এর উন্নয়নে সরকারের নেওয়া পরিকল্পনার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

গ্রিন রোডে প্রায় ২৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ তলাবিশিষ্ট নবনির্মিত ‘পানি ভবনের’ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ভবনের যখন নামকরণ করি তখন বলেছিলাম পানি ভবনে যেন পানি থাকে। জলাধার থাকে এবং মূল পরিকল্পনা ও নকশাটি সেভাবেই করা হয়েছে।’

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, বেসামরিক বিমান পরিবহন এবং পর্যটন মন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহিবুল হক এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং গ্রিন রোডে নবনির্মিত পানি ভবন থেকে সংযুক্ত হয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দেন। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এ কে এম এনামুল করিম শামীমও পানি ভবন থেকে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। এ ছাড়া সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সম্পর্কিত একাধিক ভিডিওচিত্র অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য