kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

গ্রেপ্তার আরো দুই ‘ধর্ষক’ রিমান্ডে ৩

তদন্তদল এমসি ক্যাম্পাসে

সিলেট অফিস   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গ্রেপ্তার আরো দুই ‘ধর্ষক’ রিমান্ডে ৩

সিলেটের এমসি (মুরারিচাঁদ) কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে ধর্ষণকাণ্ডে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর মধ্যে ছয়জনই এজাহারভুক্ত আসামি। এ ছাড়া আগের দিন গ্রেপ্তার তিনজনকে গতকাল মঙ্গলবার আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গতকালও আসামিদের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি।

এদিকে ছাত্রাবাসে ধর্ষণ ঘটনা তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তিন সদস্যের কমিটি গতকালই কলেজে এসে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত কমিটি প্রথম দিন অধ্যক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

গতকাল সন্ধ্যায় মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি তারেকুল ইসলাম তারেককে সুনামগঞ্জের দিরাই থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তারেক সুনামগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার উমেদনগর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। এর আগে গত সোমবার রাতে জৈন্তাপুর উপজেলা থেকে মামলার ৬ নম্বর আসামি ছাত্রলীগকর্মী মাহফুজুর রহমান মাসুমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি এমসি কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও কানাইঘাটের দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের লামা দলইকান্দি গ্রামের বাসিন্দা সালিক আহমদের ছেলে। গতকাল সকালে তাঁকে শাহপরান থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়নি।

এদিকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় আগের দিন গ্রেপ্তার তিনজনকে গতকাল আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। তাঁরা হচ্ছেন মামলায় এজাহারনামীয় আসামি মাহমুদুর রহমান রনি এবং সন্দেহভাজন আসামি রাজন ও আইনুদ্দিন। গতকাল দুপুরে সিলেট মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট-২ আদালতের বিচারক সাইফুর রহমানের আদালতে তাঁদের হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। আদালত শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে আদালতে আগের দিনের মতো গতকালও আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

এর আগে গত সোমবার মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, রবিউল ইসলাম ও অর্জুন লস্করকেও পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এ নিয়ে মোট ছয়জনকে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি এমসি কলেজে : দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তিন সদস্যের কমিটি ক্যাম্পাসে তদন্ত শুরু করেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কমিটির সদস্যরা কলেজ অধ্যক্ষ সালেহ আহমেদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ঘটনাস্থল ছাত্রাবাস পরিদর্শন করেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) মো. শাহেদুল কবীর চৌধুরীকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন মাউশি সহপরিচালক লোকমান হোসেন ও উপপরিচালক নুরে আলম। কমিটি আগামী তিন দিন সিলেটে অবস্থান করে তদন্ত করবে।

তদন্ত কমিটির প্রধান মো. শাহেদুল কবীর চৌধুরী বলেন, ‘এ রকম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্ষণ একটি নিন্দনীয় ঘটনা। যেহেতু আমরা শিক্ষার সঙ্গে জড়িত, তাই আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। মন্ত্রণালয় আমাদের বলেছে তিন দিনের মধ্যে প্রাথমিক এবং সাত দিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে। আমরা তা-ই করব।’ তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে কলেজ বন্ধ থাকার পরও ছাত্রাবাস কেন খোলা ছিল,  বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

কলেজ তদন্ত কমিটির কাজ শুরু : দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় এমসি কলেজ কর্তৃপক্ষের গঠিত তিন সদস্যের কমিটি গতকাল থেকে তদন্ত কাজ শুরু করেছে। গতকাল প্রথম দিন বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কমিটি কাজ করে। তদন্ত কমিটির প্রধান কলেজের গণিত বিভাগের প্রধান আনোয়ার হোসেন জানান, আজ (গতকাল) একজন প্রত্যক্ষদর্শী তদন্ত কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি লিখিতভাবে তাঁর বক্তব্য পরে কমিটির কাছে দেবেন বলে জানিয়েছেন।

কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জীবন কৃষ্ণ আচার্য্য ও একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। তাঁরা দুজনই ছাত্রাবাসের সুপারের দায়িত্বে আছেন। ১০ দিনের মধ্যে এই কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

কলেজের সব সংগঠনের বিক্ষোভ : এদিকে গণধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গতকাল দুপুরে এমসি কলেজের সামনে বিক্ষোভ করেছে কলেজের সংগঠনগুলো। এমসি কলেজে ন্যক্কারজনক ও কলেজের ঐতিহ্যে কলঙ্ক লেপনকারী ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে কলেজের সব সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে এ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এ সময় তারা তামাবিল সড়কটি অবরোধ করে রাখে, পাশাপাশি ১০টি লিখিত দাবি উত্থাপন করা হয়; যা কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং শাহপরান থানা পুলিশের প্রতিনিধিরা গ্রহণ করেছেন।

গত শুক্রবার রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগের একদল কর্মী। স্বামীর সঙ্গে ওই তরুণী কলেজে বেড়াতে গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় ওই তরুণীর স্বামী ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অচেনা আরো তিনজনকে আসামি করে শাহপরান থানায় মামলা করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা