kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

কভিড মোকাবেলায় প্রয়োজন সুসমন্বিত রোডম্যাপ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কভিড মোকাবেলায় প্রয়োজন সুসমন্বিত রোডম্যাপ

কভিড সংকট মোকাবেলায় একটি সুসমন্বিত রোডম্যাপ প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ক্ষেত্রে অনুঘটকের ভূমিকা পালনে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

‘কভিড-১৯-এর সময়ে এবং পরবর্তী সময়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকে দেওয়া ভাষণে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে ছয় দফা প্রস্তাব পেশ করেছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনের সাইডলাইনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কভিড-১৯ সংকট মোকাবেলার জন্য আমাদের একটি সুসমন্বিত রোডম্যাপ দরকার। এই সংকট দূর করতে ২০৩০-এর এজেন্ডা, প্যারিস চুক্তি এবং আদ্দিস আবাবা অ্যাকশন এজেন্ডা আমাদের ব্লুপ্রিন্ট হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘকে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী ছয় দফা প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রথমত, জি-৭, জি-২০, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা ওইসিডির অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক (এমডিবিএস) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যানশিয়াল ইনস্টিটিউটগুলোর (আইএফআই) বার্ষিক প্রণোদনা, ছাড়ের অর্থ এবং ঋণ মওকুফের পদক্ষেপ বৃদ্ধি করা উচিত। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোকে অবশ্যই তাদের ৭ শতাংশ ওডিএ প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, আমাদের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আরো বেশি বেসরকারি অর্থ ও বিনিয়োগ সরিয়ে আনা প্রয়োজন। ডিজিটাল বিভাজন বন্ধ করার জন্য আমাদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনকে আরো কাজে লাগাতে হবে।’

তৃতীয় প্রস্তাবনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কভিড-পরবর্তী চাকরির বাজারের জন্য অভিবাসী শ্রমিকদের সহায়তা করে রেমিট্যান্সপ্রবাহের নিম্নমুখী প্রবণতা ফিরিয়ে আনতে আমাদের নীতিগত পদক্ষেপের প্রয়োজন।’

চতুর্থত প্রস্তাবে তিনি বলেন, ‘উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোকে অবশ্যই শুল্কমুক্ত, কোটামুক্ত বাজারে প্রবেশ, প্রযুক্তি সমর্থন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আরো প্রবেশযোগ্য অর্থায়নের বিষয়ে তাদের অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে।’

পঞ্চম প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কমপক্ষে ২০৩০ সাল নাগাদ মহামারিজনিত কারণে কোনো সম্ভাব্য পিছলে পড়া রোধ করতে এলডিসি থেকে উত্তোরণ লাভকারী দেশগুলোর জন্য নতুন আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থা থাকতে হবে।’

সর্বশেষ প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জলবায়ুসংক্রান্ত কার্যক্রম এবং স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে অর্থায়নের জন্য আরো জোর প্রচেষ্টা চালানো দরকার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কভিড-১৯ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা তাত্ক্ষণিকভাবে আমাদের জিডিপির ৪.৩ শতাংশ সমতুল্য ১৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিয়মিত সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের কর্মসূচিগুলোর আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি এই মহামারিকালে কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিল্পী ও সাংবাদিকসহ তিন কোটিরও বেশি মানুষকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে সরকার।’

এই সভা আহ্বানের জন্য বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হলনেস এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে ধন্যবাদ জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘উন্নয়নের জন্য অর্থায়নের ছয়টি কেন্দ্রীয় লক্ষ্য নিয়ে এই উদ্যোগের সূচনা অত্যন্ত সময়োচিত। আমরা মনে করি, আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলোকে কাজে পরিণত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।’

সূত্র : বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা