kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ট্রাম্প ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে পারবেন?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রাম্প ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে পারবেন?

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, নির্বাচনে হারলেও তিনি ক্ষমতা ছাড়বেন না। অন্যদিকে তাঁর দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং বিজয়ীর হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এ অবস্থায় ট্রাম্প যদি সত্যিই নির্বাচনে হারেন, তবে দলের শীর্ষস্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের উপেক্ষা করে তিনি ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে পারবেন কি না, আর পারলেও সেটা বৈধ হবে কি না, সেসব নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

করোনাভাইরাস মহামারিকালে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের কারণে এবারের মার্কিন নির্বাচনে ডাকযোগে ভোটগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তাতে তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ডাকযোগে ভোট হলে তাতে ব্যাপক কারচুপি হবে। তাই তিনি গত বুধবার সাংবাদিকদের বলেছেন, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে হারলে তিনি ক্ষমতা ছাড়বেন না।

বিশেষজ্ঞরা আভাস দিয়েছেন, রিপাবলিকান ভোটারদের চেয়ে ডেমোক্র্যাট ভোটাররা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার দিকে বেশি ঝুঁকবেন। ট্রাম্প মনে করেন, ডাকযোগে ভোট নেওয়া হলে ভোট ব্যাংক ডাকাতি করে নির্বাচনের ফল উল্টে দেবেন ডেমোক্র্যাটরা, এ কারণেই তিনি পরাজয় স্বীকার করবেন না।

দেখে নেওয়া যাক, ডাকযোগে ভোট হলে কী ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। একবাক্যেই বলা যায়, যেহেতু ডাকযোগে ভোট পৌঁছাতে আলাদা সময় লাগবে এবং সেগুলো গণনায়ও আলাদা সময় ব্যয় হবে, তাই নির্বাচনী ফল ঘোষণায় দেখা দেবে দীর্ঘসূত্রতা।

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাবিদ ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের সংগঠন ট্রানজিশন ইন্টিগ্রিটি পিরিয়ড (টিআইপি) এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য সংকটগুলো নিয়ে গবেষণা করছে। টিআইপির মতে, এবার নির্বাচন শেষে ওই রাতেই সম্ভাব্য ফলাফল জানা যাবে না। শুধু তা-ই নয়, নির্বাচনী ফল নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে এবং দলগুলো এর সুযোগ নেবে।

টিআইপির ধারণা, ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেনের বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত না হলে ট্রাম্প পরিস্থিতির সুযোগ নেবেন, আইনের আশ্রয় নেবেন, এমনকি প্রেসিডেন্সির ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করবেন।

এবারের নির্বাচনী ফল নিয়ে ঠিক কী ঘটতে যাচ্ছে, নানা কথাবার্তায় সে ইঙ্গিত ট্রাম্প নিজেও দিয়ে রেখেছেন। প্রথমত, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই তিনি যদি নিজের জয়ের আভাস পান, তবে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় না থেকে নিজেই নিজেকে জয়ী ঘোষণা করতে পারেন। সেটা যদি না ঘটে, তবেই বিপত্তিটা বাধবে।

বাইডেনের জয়ের সম্ভাবনা দেখা দিলে ট্রাম্প নির্বাচনী ফল প্রত্যাখ্যান করবেন এবং ভোট গণনার ব্যাপারে আইনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবেন। এতে ভোট পুনর্গণনার ঘটনা ঘটতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যালট নতুন করে পরীক্ষা করা হবে এবং সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ত্রুটিও বিবেচনায় নিয়ে ভোট গণনা করা হবে। এতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। এতেও জয় নিশ্চিত না হলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন, সেটাও বলে রেখেছেন।

টিআইপির ধারণা, দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্সি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ট্রাম্প আইন বিভাগ এবং স্থানীয় সরকারগুলোকে প্রভাবিত করার জন্য আইনবহির্ভূত পথ অবলম্বনেও দ্বিধা করবেন না। তবে চূড়ান্ত ফল পেতে আগামী বছর মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।

রিপাবলিকান সিনেটরদের নেতা মিচ ম্যাককনেল অবশ্য অঙ্গীকার করেছেন, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী ব্যক্তি ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণ করবেন। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা