kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

অনলাইনে কাঠের কাজের ব্যবসা

ফিরল পুনুরদানের সেই পুরনো দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফিরল পুনুরদানের সেই পুরনো দিন

বাসায় কাঠের কাজ করে সংসারের চাকা ঘোরে রাজধানীর মিরপুরের পুনুরদান গাইনের (৫৫)। কাঠের কাজের সঙ্গে তাঁর সখ্য তা-ও ২০ বছর পেরিয়েছে। তবে কয়েক বছর ধরে ব্যবসাটা ঠিক সেভাবে চলছে না। তার ওপর মার্চে করোনা বিস্তারের পর ব্যবসা অনেকটাই থিতু। একদিকে কাজ করতে না পেরে অর্থকষ্ট, অন্যদিকে কাজপাগল মানুষটির অখণ্ড অবসর। এমন দোটানায় পুনুরদানের মন বিষণ্ন যেত সব সময়। পুনুরদান নিজে লেখাপড়া না করলেও একমাত্র মেয়ে রিপা গাইনকে দিয়েছেন উচ্চশিক্ষা। বাবার মনমরা হয়ে থাকাটা মেনে নিতে পারেননি রিপা। কাঠের ব্যবসা ফের চাঙ্গা করতে রিপা বাবাকে ফেসবুকে একটি পেজ খুলে দেন জুনের প্রথম সপ্তাহে।

P & R Furniture by Punurdan Gayen নামের পেজটিতে প্রথমে কাজের চাহিদা আসে চারটি। সঙ্গে শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে বাবা ও মেয়ের জন্য শুভেচ্ছা। কয়েক দিনের ব্যবধানে জমে ওঠে পুনুরদানের ব্যবসা। এখন তিনি নিজেই একটা দোকান দিয়েছেন। দোকানে তাঁর সঙ্গে আরো পাঁচজনের কর্মসংস্থান হয়েছে। কাজের অর্ডার পাচ্ছেন অনলাইন ও সরাসরি দুই মাধ্যমেই। ফিরেছে পুনুরদানের সুদিন। তাঁর মুখে এখন হাসি লেগে থাকে সব সময়ই।

ব্যবসার উত্থানের গল্পটা রিপা বলছিলেন এভাবেই, ‘খুব চিন্তায় ছিলাম। আমাদের সংসারটা কেমনে চালাব। লকডাউনের কারণে বাবার কাঠের কাজও পুরোপুরি বন্ধ। বসে থাকলে তো চলবে না। কিছু তো একটা করতে হবে। তাই বাবাকে নিয়ে শুরু করলাম নতুন যাত্রা। তখন আমি চাকরি করতাম বগুড়ায়। কিন্তু যাওয়ার আগে বাবাকে শিখিয়ে দিয়ে যাই কিভাবে অনলাইনে যোগাযোগ করা সম্ভব। বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় বুঝতে পারি, আগের মতো সেই হাসিখুশি মানুষটা আর নেই। সংসারও চালাতে পারছেন না আবার মুখ ফুটে কিছু বলতেও পারছেন না। আমারও তো বেতন কম। আবার থাকিও দূরে। এগুলো ভাবতে ভাবতেই অনলাইনে একটা পোস্ট দিই যেন বাবা কিছু কাজ পান। পরে সেটা বন্ধুরা শেয়ার করতে থাকে। এভাবে অনলাইনে টুকটাক চাহিদা আসতে থাকে, যা আমি আবার বগুড়া থেকে বাবাকে অনলাইনে ঢাকায় পাঠাই। বাবা ঢাকায় বসে ডিজাইনগুলো দেখে ফার্নিচার বানিয়ে ফেলতেন।’

রিপা আরো বলেন, ‘বাবা এখন একটা দোকান নিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে চার-পাঁচটা মানুষ খাটতেছে। এর থেকে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে।’

রিপা জানান, অনলাইনে নারীদের ই-কমার্স গ্রুপ উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরামের (উই) পেজে ‘ইনি আমার বাবা’ লিখে একটা পোস্ট দিয়েছিলেন। এতে লিখেছিলেন, ‘হঠাৎ করে চিন্তা করলাম বাবার জন্য একটা পেজ খুলব, যেন তিনি তাঁর কাজ করে মনকে ভালো রাখতে পারেন। চ ্ জ ঋঁত্হরঃঁত্ব নু চঁহঁত্ফধহ ধুেবহ বাবার নামটা অ্যাড করে দিয়েছি, তাঁকে সবাই জানুক, চিনুক। সবাই একটু রেসপন্স করলে আস্থা পাব।’

রিপা বললেন, ‘বাবা এখন খুব খুশি। ফেসবুকের মাধ্যমে এভাবে ব্যবসা করা যায়, তিনি ঠিকমতো তা বুঝতেও পারছেন না। এখন অর্ডার না পেলে শুধু জানতে চান, কী রে, আর কেউ তো কিছু অর্ডার দিচ্ছেন না।’

পুনুরদান গাইন বলেন, ‘এইভাবে যে ব্যবসা করা যায়, তা তো আমার মাথাতেই আসে নাই। প্রথমে হালকা-পাতলা কাজের চাহিদা আসত। এখন ভালোই হচ্ছে। আমি তো ভাই লেহাপড়া করতে পারি নাই। কিন্তু আমি আমার মেয়েটাকে লেহাপড়া শিখাইছি। আইজ আমি আমার মেয়ের জন্য ঘুরে দাঁড়াইছি।’

স্ত্রী এলিজাবেথ গাইন ও মেয়ে রিপাকে নিয়ে পুনুরদান গাইনের তিনজনের সংসার। রিপা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে বর্তমানে একটি বেসরকারি সংস্থার বগুড়া অফিসে আইটি অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে কর্মরত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা