kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

অনলাইন ক্যাসিনো

সেলিম প্রধানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সেলিম প্রধানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা সেলিম প্রধান, উত্তর কোরিয়ার নাগরিক ইয়াংসিক লিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এক বছর তদন্ত শেষে গত রবিবার ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সিআইডির কাছ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগপত্রে সেলিম প্রধানের সহযোগী আখতারুজ্জামান, রোমান, আরিফুর রহমান ওরফে সীমান্ত আরিফ, চৌধুরী গোলাম মাওলা ওরফে শাওনকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অনলাইন ক্যাসিনোর মাধ্যমে ১৩ কোটি ২৮ লাখ ৮৯ হাজার ১৪৬ টাকা পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে আসামিদের লেনদেনের ৮৩টি ব্যাংক হিসাব শনাক্ত করে তা ফ্রিজ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশে-বিদেশে সেলিম প্রধানের ৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, থাইল্যান্ডে বাগানবাড়ি ও তাঁর জিম্মা থেকে ছয় কোটি টাকার দুটি চেক পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জিসানুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, গত বছরের ২ অক্টোবর গুলশান থানায় সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে অনলাইন ক্যাসিনোর মাধ্যমে বিদেশে টাকাপাচারের তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। এ ছাড়া র‌্যাবের অভিযানে উদ্ধারকৃত প্রায় ৭০ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। সেলিম প্রধানের যেসব সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে সেগুলোর ব্যাপারে অনুসন্ধান অব্যাহত আছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে র‌্যাবের ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর অনলাইন ক্যাসিনোর বিষয়টি সামনে চলে আসে। এরপর ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট থেকে সেলিম প্রধানকে নামিয়ে আনে র‌্যাব। এরপর তাঁর গুলশান ও বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে বিদেশি মুদ্রা, মাদক ও টাকা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গুলশান থানায় দুটি মামলা করা হয়। হরিণের চামড়া জব্দের ঘটনায় তাত্ক্ষণিকভাবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত সেলিম প্রধানকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। পরবর্তী সময়ে মাদকের মামলায় সেলিম, আখতারুজ্জামান ও রোমানকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

তদন্তকালে জানা যায় যে উত্তর কোরিয়ার নাগরিক লির হাত ধরেই ক্যাসিনো কারবার শুরু করেন সেলিম প্রধান। অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে যান লি।

তদন্তকালে আরো জানা গেছে, ২০১৭ সালে বিদেশিদের সহায়তায় শুরু করা সেলিম প্রধানের অনলাইন জুয়ার মূল সার্ভার ফিলিপাইনের ম্যানিলায়। তিনি সেখান থেকে অনলাইন জুয়ার কপিরাইট কিনে ঢাকায় সার্ভার চালু করেন। নব্বই দশকে জাপান গিয়ে বিয়ে করেন সেলিম। সেখানে গাড়ি ব্যবসা করতে গিয়ে প্রতারণার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়। একপর্যায়ে জাপান থেকে ফিরে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সেখানেও বিয়ে করেন সেলিম। পরে থাইল্যান্ডে বসতি গড়ে তোলেন। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে বিএমডাব্লিউ গাড়ি উপহার দিয়ে হাওয়া ভবনের দাপট দেখান সেলিম। সরকার পরিবর্তন হলে রংমহলের ফাঁদে ফেলে অনেকের সঙ্গে সখ্য গড়েন। থাই এয়ারওয়েজে ধরা পড়ার সময় তাঁর লাগেজ তল্লাশি করে পাওয়া যায় তিনটি মেমোরি কার্ড। সেখানে দেশি-বিদেশি তরুণীদের সঙ্গে অনেক ব্যক্তির অন্তরঙ্গ ছবি ছিল। এসব ছবি দেখিয়ে কোটি টাকা বা সুবিধা ভাগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল সেলিমের। গুলশান-২ নম্বর সেকশনের ৯৯ নম্বর সড়কের ১১/১ বাড়ির দুটি ফ্লোর ভাড়া নিয়েছিলেন সেলিম। ওই বাড়ির তৃতীয় তলায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে (বাঙালি) নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। চতুর্থ তলায় ছিল তাঁর রংমহল। সেখানে তিনটি কক্ষ নাচ-গান ও বিশেষ ব্যক্তিদের মনোরঞ্জনে ব্যবহার হতো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা