kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার : অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন

আমি ক্লিন ইমেজের মানুষ, মালেকের দায় আমার না

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমি ক্লিন ইমেজের মানুষ, মালেকের দায় আমার না

কয়েক মাস ধরে একের পর এক ঘটনায় বারবার আলোচনায় এসেছে স্বাস্থ্য খাত। বিশেষ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকেন্দ্রিক নানামুখী দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে তোলপাড় হয়েছে। সর্বশেষ ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ হয়ে উঠেছেন দুর্নীতির মাধ্যমে শতকোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিবহন পুলের গাড়িচালক আব্দুল মালেক। তিনি শেষ প্রায় চার বছর গাড়ি চালিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও বর্তমানে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেনের। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে কালের কণ্ঠ’র বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তৌফিক মারুফ।

 

কালের কণ্ঠ : গাড়িচালক আব্দুল মালেকের সঙ্গে এখন আপনার নামও বারবার আলোচিত হচ্ছে; আপনি কি দায় এড়াতে পারেন?

ডা. এনায়েত : আমার দায় থাকবে কেন? স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর হয়েছে নতুন, আমি মহাপরিচালকের দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র ৯ মাস। এখন পর্যন্ত কাজও ঠিকমতো শুরু হয়নি। আমার মাধ্যমে কোনো নিয়োগ-বদলি হয়নি, যা হয়েছে তা করেছে মন্ত্রণালয়। আর এই মালেক তো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাকরি করেছে ৩০ বছর ধরে। সে কী করেছে না করেছে সেটা তার ব্যাপার, আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন তাঁদের ব্যাপার।

 

কালের কণ্ঠ : আপনিও তো স্বাস্থ্য শিক্ষার মহাপরিচালক হওয়ার আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদে ছিলেন। গাড়িচালক মালেক চার বছর আপনার সঙ্গে ছিলেন, আপনার গাড়ি চালিয়েছেন। আপনি তাঁর দুর্নীতির বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন। এটা কতটা যুক্তিযুক্ত?

ডা. এনায়েত : আমি কোনো দুর্নীতি করি না, সেটা আমার সঙ্গে যাঁরা থাকেন তাঁরা সবাই জানেন। ফলে মালেক বা তার মতো কেউ কখনো আমার কাছে কোনো অনৈতিক অনুরোধ-আবেদন নিয়ে আসে না। আমি সেই সুযোগ দিই না। আর তার অপকর্ম সম্পর্কে আমার কিছু জানাও ছিল না। এসব জানার কথা প্রশাসন বিভাগের। তারা হয়তো জানত। সাবেক যাঁরা ছিলেন তাঁদেরও ভালো জানার কথা। কেন মালেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেটাও তাঁরা জানেন। অযথাই আমার নাম তোলা হচ্ছে। আমিও এর কোনো যুক্তি খুঁজে পাই না।

 

কালের কণ্ঠ : অনেকে তো বলছেন আপনি নিজে দুর্নীতি না করলেও মালেকসহ আরো আলোচিত কাউকে কাউকে প্রশ্রয় দিয়েছেন বিভিন্ন সময়ে এবং কাউকে কাউকে আপনার লোক বলেও জানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনেকে; এর জবাব কী?

ডা. এনায়েত : পরিস্থিতির মুখে এখন অনেকে অনেক কিছু বলতে পারে, তবে এটাই সত্যি—আমি কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিইনি বা দিই না। কেউ আমার নাম ব্যবহার করছে কি না, সেটা তাদের ব্যবহার। কারো অন্যায় বা দুর্নীতির সহায়তার জন্য কোথাও অনুরোধ করেছি বা বলেছি এমন কোনো প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন রকমের অনুরোধ আসে, তবে সেগুলো বিধিসম্মতভাবেই আমি সমাধান করি। বিধির বাইরে যায় এমন কিছু করারও প্রমাণ নেই।

 

কালের কণ্ঠ : আপনি কি মনে করেন এখন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে যাঁরা আছেন সবাই দুর্নীতিমুক্ত, কিংবা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আপনার অধিদপ্তরকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার জন্য কী করেছেন?

ডা. এনায়েত : আমি মনে করি, নতুন অধিদপ্তর হিসেবে এখনো এটা দুর্নীতিমুক্ত আছে। কারণ, এখন পর্যন্ত দুর্নীতি করার মতো সুযোগ বা ক্ষেত্র নেই, দুর্নীতি হবে কিভাবে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যা চলছে, সেখান থেকে আমি আরো সতর্ক হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। যাতে সামনে আমার দপ্তরে কোনো দুর্নীতির ক্ষেত্র তৈরি না হয়, সে জন্য যা যা করণীয় তা করব।

 

কালের কণ্ঠ : বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে থেকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত থাকা কিংবা অধিদপ্তরকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা কি সম্ভব?

ডা. এনায়েত : সবাই আমাকে ক্লিন ইমেজের মানুষ বলে চেনে, জানে। আমি খুবই সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ; খুব জটিলতা বুঝি না। আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী নিজেকে ও আমার প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে। তবে সংশয় হচ্ছে আমার এই ক্লিন ইমেজ নষ্ট করার জন্য যদি কোথাও থেকে কোনো ষড়যন্ত্র হয়, সেটা ভিন্ন কথা। এখন তো ভালো কেউ থাকলে তাকে নিয়েও নানা ধরনের কালিমা লেপনের অপচেষ্টা হয়। তবু আমি যতটা সম্ভব সতর্ক থাকছি এবং থাকার চেষ্টা করছি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা