kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

রাশিয়ার আরেকটি টিকার অনুমোদন আগামী মাসে

করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে আশাজাগানিয়া খবর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে




রাশিয়ার আরেকটি টিকার অনুমোদন আগামী মাসে

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে করোনার টিকার অনুমোদন দিয়ে গত মাসে বিশ্বজুড়ে হৈচৈ ফেলে পুতিনের দেশ রাশিয়া। ইতিমধ্যে ‘স্পুিনক-ভি’ নামের এ টিকার ১২০ কোটি ডোজের ফরমায়েশ দিয়েছে এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১০টি দেশ। এরইমধ্যে রুশ বার্তা সংস্থা তাস নিউজ এজেন্সি জানাচ্ছে, আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে আরেকটি টিকার অনুমোদন দিতে যাচ্ছে রাশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এই টিকাটি উদ্ভাবন করেছে ভেক্টর রিসার্চ সেন্টার। এদিকে চীন জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বর নাগাদ তাদের টিকা সাধারণের নাগালে আসতে পারে। বর্তমানে চীনের তৈরি চারটি টিকা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের শেষ পর্যায়ে আছে।

ইতিমধ্যে চীনের বায়োটেক কম্পানি সিনোভ্যাক উদ্ভাবিত টিকা করোনাভ্যাক নিয়ে আশাজাগানিয়া খবর মিলেছে। সম্প্রতি ব্রাজিলে পরিচালিত ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় ওই টিকার ‘খুবই ইতিবাচক’ ফল পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সাও পাওলোর গভর্নর জেয়াও দোরিয়া। তিনি আশা করছেন, আগামী ডিসেম্বরে ব্রাজিলে এই টিকার প্রয়োগ শুরু হবে।

করোনার টিকা নিয়ে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩০০ টিকা প্রকল্প চলছে। এর মধ্যে ৪০টি টিকা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা মানবশরীরে পরীক্ষা চলছে। তার মধ্যে অন্তত ৯টি টিকা আছে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় পর্যায়ে। রাশিয়ার টিকা ‘স্পুিনক-ভি’ও আছে এর মধ্যে। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে টিকাটি সাধারণ মানুষের দেহে প্রয়োগের অনুমতি পায়। অবশ্য চীন বলে আসছে, সেনাবাহিনী ও জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্তকর্মীদের ওপর তারা গত জুলাইতেই টিকা প্রয়োগ করেছে। সর্বশেষ গতকাল বুধবার জনজন অ্যান্ড জনসন তাদের টিকার চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ হাজার মানুষের ওপর টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা পরীক্ষা করবে।

বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, ভেক্টর রিসার্চ সেন্টার উদ্ভাবিত ‘এপিভ্যাককরোনা’ টিকাটি স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর পরীক্ষা চালানোর অনুমতি দেওয়া হয় গত জুলাইয়ে। এখন চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে টিকাটি ষাটোর্ধ্ব ও সংক্রমাক রোগাক্রান্তদের শরীরে প্রয়োগ করা হবে। অন্তত ৫ হাজার মানুষের ওপর নিবন্ধন-পরবর্তী পরীক্ষা চালানো হবে। অন্যদিকে, গত মাসে অনুমোদন পাওয়া ‘স্পুিনক-ভি’ রাশিয়ার জনসাধারণের মধ্যে প্রয়োগ করা হচ্ছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবইয়ানিন জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ৬০ হাজারের বেশি বাসিন্দা টিকা গ্রহণের জন্য নাম লিখিয়েছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভারতেও এই টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হবে। এক থেকে দুই হাজার মানুষের শরীরে প্রতিষেধকটি প্রয়োগ করা হবে।

সম্প্রতি চীনের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) প্রধান গুইঝেন উ জানিয়েছেন, তাদের চারটি টিকা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের শেষ পর্যায়ে আছে। সবকটির পরীক্ষানিরীক্ষাই মসৃণভাবে এগোচ্ছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যেই বাজারে আসতে পারে তাদের টিকা।

গুইঝেন উ বলেন, গত এপ্রিলে তিনি নিজেই করোনার টিকা নিয়েছেন। এখনো পর্যন্ত কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়নি। গত জুলাইয়ে ওই চারটি টিকার মধ্যে অন্তত তিনটির প্রয়োগ করা হয়েছে চীনের জরুরি সেবাদানকারীদের ওপর।

চীনের ওষুধ প্রস্তুতকারী সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাক বায়োটেক তিনটি টিকা তৈরির কাজ করছে। চতুর্থ টিকাটি তৈরি করছে ক্যানসিনো বায়োলজিক্স। গত জুনে ক্যানসিনোর তৈরি টিকা ব্যবহারযোগ্য বলে জানিয়ে দেন চীনের সেনা কর্তৃপক্ষ। তবে তা এই মুহূর্তে চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। জুলাইয়ে সিনোফার্ম জানিয়েছিল, ফেজ-থ্রি ট্রায়াল শেষ হলে চলতি বছরের শেষেই বাজারে আসতে পারে তাদের ভ্যাকসিন।

অন্যদিকে করোনা মহামারিতে ব্রাজিলের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্য সাও পাওলোসহ ছয়টি রাজ্যে সম্প্রতি সিনোভ্যাক উদ্ভাবিত করোনাভ্যাক টিকার পরীক্ষা চালানো হয়। ওই পরীক্ষা প্রসঙ্গে সম্প্রতি সাও পাওলোর গভর্নর জেয়াও দোরিয়া বলেন, ৬০ বছরের অধিক বয়সের রোগীদের এই টিকা প্রয়োগ করা হয়, এদের ৯৮ শতাংশের ইমিউন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ পর্যন্ত কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার ফল অত্যন্ত ইতিবাচক।

তিনি বলেন, আমরা শিগগিরই সাও পাওলোসহ গোটা ব্রাজিলে এই টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে মহামারি ঠেকাতে পারব। চলতি বছরের ডিসেম্বরে টিকা সরবরাহ করা হবে।

টিকা প্রয়োগে রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে ব্রাজিলের বুতানতান ইনস্টিটিউটের গণস্বাস্থ্য গবেষণা কেন্দ্রের অংশীদারিত্বে সিনোভ্যাক তৃতীয় ক্লিনিক্যাল টেস্ট সম্পন্ন করবে। সিনোভ্যাকের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ইনস্টিটিউট ১২০ মিলিয়ন ডোজ টিকা উৎপাদন করবে।

করোনা মহামারির শুরুর দিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকা নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা তৈরি হয়। অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি টিকাটির তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা চলাকালে একজন স্বেচ্ছাসেবী অসুস্থ হয়ে পড়েন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ট্রায়াল স্থগিত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে ফের চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষা চলছে। তৃতীয় ধাপে মোট ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর ওপর টিকাটির কার্যকারিতা পরখ করা হচ্ছে।

জার্মানির সংস্থা বায়োএনটেকের সঙ্গে যৌথভাবে করোনা টিকা তৈরি করেছে মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানি ফাইজার। সম্প্রতি ফাইজারের প্রধান নির্বাহী অ্যালবার্ট বাউরলা জানিয়েছেন, ২৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর উপর তৃতীয় ধাপের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেককে আবার বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে। এই তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা কতটা সফল হল, তা অক্টোবরের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে যাবে। ফল ইতিবাচক হলে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করবে ফাইজার। তাদের টিকা গ্রহীতাদের মধ্যে মৃদু থেকে মাঝারি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

আর যুক্তরাষ্ট্রের টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্না জানিয়েছে, চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই তাদের পরীক্ষামূলক করোনার টিকার দুই কোটি ডোজ তৈরি করা হবে। ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ কোটি থেকে ১০০ কোটি ডোজ টিকা তৈরি লক্ষ্য ঠিক করে রেখেছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রকে সবার আগে ১০ কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার চুক্তি করে রেখেছে মডার্না। এর বাইরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে টিকা সরবরাহের জন্য আলোচনা সেরে রেখেছে। মানবদেহে পরীক্ষার তৃতীয় ধাপে থাকা টিকাটি যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। আগামী নভেম্বর নাগাদ এ প্রতিষেধকের চূড়ান্ত কার্যকারিতা জানা যাবে বলে আশা করছে মডার্না। সূত্র : বিবিসি, গার্ডিয়ান, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

 

মন্তব্য