kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

অনলাইনে ৩৬ টাকা কেজি পেঁয়াজ

হিলি দিয়ে আসা বেশির ভাগই পচে গেছে পানির দরে বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




অনলাইনে ৩৬ টাকা কেজি পেঁয়াজ

পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের নানা উদ্যোগের সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম। ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে পেঁয়াজ কিনতে পারবেন বাসায় বসে। এ জন্য ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) একটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ সোমবার থেকে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই সেবা দেওয়া হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রামে এই পেঁয়াজ বিক্রয় শুরু করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ই-কমার্সের আওতায় দেশের সব স্থানে টিসিবি সাশ্রয়ী মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করবে। কেজিতে দাম পড়বে ৩৬ টাকা।

গতকাল রবিবার ‘ঘরে বসে স্বস্তির পেঁয়াজ’ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বত্তৃদ্ধতায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় টিসিবির মাধ্যমে বড় ধরনের আমদানি ও সাশ্রয়ী মূল্যে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। যাঁরা ট্রাক সেল থেকে কিনতে পারছেন না, তাঁদের জন্য টিসিবি ই-কমার্সের সহযোগিতায় সাশ্রয়ী মূল্যের পেঁয়াজ বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

প্রাথমিকভাবে স্বপ্ন অনলাইন, চালডাল, সিন্দাবাদ ডটকম, সবজিবাজার, বিডিসোল ও উইন্ডি—এই ছয়টি প্রতিষ্ঠান ভোক্তাকে এই সেবা দেবে। এসব প্রতিষ্ঠান একজন ক্রেতাকে সর্বোচ্চ তিন কেজি পর্যন্ত পেঁয়াজ সরবরাহ করবে। পর্যায়ক্রমে পেঁয়াজের পরিমাণ ও  সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ই-কমার্সের মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রয়ের ধারণাটি নতুন, এ ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা আসতে পারে। তবে আমরা থেমে থাকব না, সমস্যার সমাধান করে এগিয়ে যাব।’ পেঁয়াজ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, দেশের অভ্যন্তরে দেশি ও আমদানি করা পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ আছে। ভারত ইতিমধ্যে ২৫ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে, এগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দেশটি আরো ১০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেবে। মিয়ানমার ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়ে গেছে। এ ছাড়া অনেক দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। ভোক্তারা যদি অস্থির না হয়ে শুধু প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ কেনেন, তাহলে কোনো সমস্যা হবে না।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যসচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল হাসান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্তি সচিব (রপ্তানি) মো. ওবায়দুল আজম ও অতিরিক্ত সচিব (আমদানি) হাফিজুর রহমান।

হিলি দিয়ে আসা পেঁয়াজের বেশির ভাগ পচা : আমাদের হিলি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল অন্যান্য জিনিসপত্র আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও বন্দর অনুমোদন না থাকায় পেঁয়াজ আসেনি। আজ আবার প্রবেশ শুরু হবে বলে হিলি বন্দরের আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুনুর রশিদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি ট্রাকের ৭৫ শতাংশ পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে দামও কমে গেছে।

‘পানির দরে’ পেঁয়াজ বিক্রি : ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা শুরু হওয়ায় স্থলবন্দরগুলোতে দাম একেবারেই কমে গেছে। বন্দর এলাকার আড়তগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রকারভেদে ২৫-৪০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। তবে ছয় দিন ট্রাকে থেকে অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। অতিরিক্ত পচে যাওয়া পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে দুই টাকা কেজি পর্যন্ত। আরেকটু ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০-১২ টাকা কেজিতে।

গতকাল টিসিবি আরো পাঁচ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। আগামী ২২ তারিখের মধ্যে এসব দরপত্র জমা দিতে হবে। পেঁয়াজ আমদানিতে আরোপিত ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করেছে সরকার। ফলে পেঁয়াজ মৌসুমের মতো বাজার স্বাভাবিক না হলেও দাম আর বাড়বে না বলে আশা করা হচ্ছে।

১৪ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলে দেশের বাজারে রাতারাতি দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। এ সময় প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১০০ টাকার ওপরে এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ৮০ টাকার ওপরে বিক্রি হয়।

রাজধানীর বাজার : শ্যামবাজারে গতকালও পাইকারিতে আগের দিনের মতো দেশি পেঁয়াজ ৬৫-৭০ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। খুচরায় যাঁরা দাম হঠাৎ দ্বিগুণ হওয়ার মধ্যে কিনেছিলেন, তাঁরা সেই দাম ধরেই দেশি পেঁয়াজ ৮৫-৯০ টাকায় এবং অন্যরা ৮০ টাকায়ও বিক্রি করছেন। আমদানির পেঁয়াজ খুচরায় ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা