kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

অনলাইন বাজারে ভরসা এসএমই উদ্যোক্তাদের

রফিকুল ইসলাম   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অনলাইন বাজারে ভরসা এসএমই উদ্যোক্তাদের

করোনা মহামারিতে জেঁকে বসেছিল শঙ্কা। কারখানা ভর্তি পণ্য থাকলেও মিলছিল না ক্রেতা। মূলধন আটকা পড়ে অনেকটাই খাবি খাওয়া দশায় পড়েছিলেন দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) উদ্যোক্তারা। ব্যবসা টিকিয়ে রাখা ও সম্প্রসারণে তাঁদের মধ্যে আশা জাগাচ্ছে ইন্টারনেটনির্ভর অনলাইন বাজার।

প্রযুক্তি ব্যবহার করে পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বাজারজাত করার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা ক্রমেই ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। প্রথাগত অফলাইন (আউটলেট ও দোকান) মাধ্যম থেকে সরে গিয়ে অনলাইনে ক্রেতা-বিক্রেতার মিথস্ক্রিয়া ঘটছে।

এসএমই উদ্যোক্তাদের মতে, অনলাইন বা ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবসায় ক্রেতা-বিক্রেতারা সময় বাঁচাচ্ছে। পণ্য বাজারজাতকরণেও কমছে খরচ। ছোট উদ্যোক্তাদের মূলধন কম থাকে বিধায় রাজধানীর যেকোনো স্থানে বড় আউটলেট বা দোকান ভাড়া নিতে পারেন না। এখন কোনো আউটলেট না থাকলেও ইন্টারনেটে দেদার পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায় কমছে খরচ।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা রেজবিন বেগম। লেদার সুজ, স্যান্ডেল, বেল্ট, মানিব্যাগ, ওয়ালেট, লেডিস ব্যাগ ও অন্যান্য ব্যাগ উৎপাদনকারী পিপলস ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদার গুডস নামের প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি। করোনাকালে তাঁর ব্যবসার ধরন পাল্টে গেছে। তিনি অফলাইন পণ্য বিক্রির ওপর জোর দিলেও এখন ঝুঁকেছেন অনলাইনে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করছেন।

রেজবিনের মতে, অন্য এসএমই উদ্যোক্তারাও এখন ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ইন্টারনেটনির্ভর অনলাইন ব্যবসায় ঝুঁকছেন। প্রচলিত পদ্ধতিতে পণ্য বিক্রি না হওয়ায় এখন বিকল্প হিসেবে অনলাইনে ঝুঁকছেন তাঁরা। ক্রেতাদের নির্ভরতাও বাড়ছে ইন্টারনেটে। অনলাইন কেনাকাটায় যেহেতু কারো সংস্পর্শে যেতে হচ্ছে না, সে জন্য করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিও কমছে। আর পণ্য বাজারজাতকরণও সহজ হয়েছে। অনলাইনে ক্রেতা দেখে-শুনে পণ্য কিনতে পারছে।

রেজবিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরতা অনেক বেড়েছে। আগে অনলাইন সিস্টেম থাকলেও তেমনটা প্রচলন ছিল না। এখন পণ্য বিক্রি ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ইন্টারনেট ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আগে অফিস কিংবা আউটলেটে যেতে হলেও অনলাইনের কারণে এখন সেটাও লাগছে না। অফিস বলতে সশরীরে হাজির হওয়াকেই বুঝায়। কিন্তু ইন্টারনেট এখন সব কিছু বদলে দিয়েছে। বহু প্রশিক্ষণও অনলাইনে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে, যাতে সময় বাঁচছে।’

এসএমই উদ্যোক্তা ইসরাত জাহান চৌধুরী পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তুলিকার স্বত্বাধিকারী। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, অনলাইনে পণ্য বিক্রি বেশ ভালো। আগে অফলাইনে ক্রেতা বেশি হলেও করোনা মহামারিতে মানুষ চাইলেই যেখানে-সেখানে যেতে পারছে না। আবার অনেকে গণপরিবহন এড়িয়ে চলছে। কাজেই অনলাইনে পণ্য কেনার ওপর মানুষের নির্ভরতা বেড়েছে। সংক্রমণ এড়াতে ঘরে বসেই পণ্য কিনছে। যিনি কখনো অনলাইনে পণ্য কেনেননি, তিনিও এখন অনলাইনে পণ্য কিনছেন। তিনি বলছেন, ‘আমরা চাইলেই বদলাতে পারি। মানুষও এখন সেটা করছে। অফলাইন থেকে অনলাইনে পণ্য কিনছে। ক্রেতা যেমন ইন্টারনেটনির্ভর হয়েছে, উদ্যোক্তারাও হয়েছে।’

হাতের কাজের থ্রি পিস, ওয়ান পিস, শাড়ি, চাদর, ব্যাগসহ নানা ধরনের বুটিকস পণ্য তৈরি ও বিক্রি করে বৌঠান। এখন অফলাইন বা আউটলেটে ক্রেতা না এলেও ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন অনলাইনে।

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ফাতেমা ইসলাম লতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন ব্যবসার ধরন পাল্টে গেছে। অনলাইনের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ব্যবসায় খুব সহায়ক হচ্ছে ইন্টারনেট। আমরাও পণ্যের প্রচার ও প্রসার এবং বিক্রির ক্ষেত্রে অনলাইনের ওপর অনেক জোর দিচ্ছি।’

ঐক্য স্টোর দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পণ্য কেনাবেচার বড় প্ল্যাটফর্ম। এসএমই উদ্যোক্তাদের ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্য মিলছে এখানে। অতি প্রয়োজনীয় ক্ষুদ্রপণ্য থেকে শুরু করে বিলাসবহুল সব পণ্যই মিলছে এই স্টোরে। ১০ হাজারের বেশি পণ্য অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সরব ঐক্য স্টোর। একেক দিন একেক উদ্যোক্তার পণ্য তুলে ধরা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেই পণ্য দেখে ক্রেতা অর্ডার দিচ্ছে।

স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আলী জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনাকালে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি ও প্রচার বেড়েছে। আমরা চাইলেই পারি।’ অবশ্য তিনি বলছেন, ‘অনলাইন জনপ্রিয় হলেও ক্রেতা-বিক্রেতার উভয় দিক থেকে কিছু সমস্যা রয়েছে। কারণ উদ্যোক্তারা পণ্যের দাম আগে পাচ্ছে না। আবার ক্রেতা পণ্যের গুণগত মানের নিশ্চয়তা বা নিরাপত্তা পাচ্ছে না। এই সমস্যার সমাধান বা দুই পক্ষ নিশ্চিত হলে অনলাইনে পণ্য কেনাবেচা অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা