kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

অ্যান্টিবডি ছাড়াই ট্রায়ালের প্রস্তুতি

তৌফিক মারুফ   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অ্যান্টিবডি ছাড়াই ট্রায়ালের প্রস্তুতি

চীনের সিনোভ্যাক কম্পানির করোনাভাইরাসের টিকা পরীক্ষার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এখন ওই টিকার নমুনা দেশে এসে পৌঁছলেই শুরু হয়ে যাবে পরীক্ষার মূল কার্যক্রম। ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান ভারত বায়োটেকের টিকার পরীক্ষার আবেদনও এখন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যেই সর্বশেষ প্যারিসভিত্তিক বহুজাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানি সানোফি এভেন্টিস বাংলাদেশে তাদের একটি টিকা পরীক্ষা করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে এখন টিকা পরীক্ষার আওতায় যাদের তালিকাভুক্ত করা হবে, নমুনা টিকার প্রয়োগের জন্য তাদের আগে অ্যান্টিবডি বা অ্যান্টিজেন টেস্ট করার প্রয়োজন পড়ায় দেখা দিয়েছে জটিলতা। কারণ দেশে অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন টেস্টের অনুমতি এখনো দেয়নি সরকার।

এদিকে নজর রেখে করোনা মোকাবেলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি গত বৃহস্পতিবার তাদের এক সভায় আবারও আরটি-পিসিআর পরীক্ষার পাশাপাশি জরুরিভাবে অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন টেস্টের অনুমতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

গত বৃহস্পতিবার প্যারিসভিত্তিক বহুজাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানি সানোফি এভেন্টিস বাংলাদেশে তাদের একটি টিকা পরীক্ষা করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ওই দিন সানোফির একটি দল স্বাস্থ্যসচিব আব্দুল মান্নানের সঙ্গে দেখা করে তাদের আগ্রহের কথা জানায়।

সচিব কালের কণ্ঠকে ওই তথ্য জানিয়ে বলেছেন, ‘আমি তাদের লিখিত আবেদনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলেছি।’

দেশের করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর প্রায় পরপরই আরটি-পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে করোনা শনাক্তকরণের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন টেস্ট চালুর জন্য তাগিদ দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। এমনকি সরকার গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিও বারবার এমন তাগিদ দিচ্ছে। তবে সরকার এখনো অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন টেস্টের অনুমতি দিচ্ছে না। অনেক দেনদরবারের পর এ বিষয়ে একটি গাইডলাইন তৈরি করলেও অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নে বারবারই অনীহার প্রকাশ করছে নানা ধরনের অজুহাত দেখিয়ে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা কালের কণ্ঠকে বলেন, টিকা পরীক্ষার জন্য যারা নমুনা টিকা নেবে আগে তাদের অ্যান্টিবডি দেখা দরকার। তবে চীনের যে টিকার পরীক্ষার আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) মাধ্যমে দেশে হবে সেই পরীক্ষার প্রটোকলে এ ক্ষেত্রে কিছুটা কৌশলগত শিথিলতা রয়েছে। এ ছাড়া যেহেতু দেশে এখনো অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন টেস্টের অনুমোদন চূড়ান্ত হয়নি। আবার এখন পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য কোনো কিটও পাওয়া যায়নি। তাই এক ধরনের সংশয় থাকতে পারে।

ওই রোগতত্ত্ববিদ বলেন, ‘বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এখন পর্যন্ত কোথাও অ্যান্টিবডি টেস্টের অনুমোদন দেয়নি। আমাদের এখানো ওই সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে কেবল গবেষণার কাজে বা সেরোসার্ভিলেন্সের জন্য অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন টেস্ট করার নীতিমালা করা হয়েছে। আমাদের দেশে যেভাবে সংক্রমণের বিস্তার ঘটেছে তা দেখার জন্য ও পরিস্থিতি বোঝার জন্য অ্যান্টিবডি টেস্টের মাধ্যমে এই সেরোসার্ভিলেন্স করা জরুরি। মন্ত্রণালয় থেকে এখন সে জন্য কাজ চলছে। আশা করা যায়, দ্রুত সময়ের মধ্যেই অনুমোদন পাওয়া যাবে। এসংক্রান্ত নীতিমালার আপডেট কপি রবিবার নাগাদ আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিতে পারি।’

চীনের টিকার পরীক্ষার বিষয়ে আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী ড. কে এম জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চীন থেকে এখনো নমুনা ভ্যাকসিন দেশে এসো পৌঁছায়নি। আমরা অপেক্ষা করছি।’ তিনি বলেন, যাদের পরীক্ষার আওতায় টিকা দেওয়া হবে তাদের অ্যান্টিবডি ও আরটি-পিসিআর টেস্ট করা হবে। তবে সেটা কিছুটা সহজ করার জন্য টিকা প্রয়োগের আগে কেবল রক্ত এবং গলা ও নাক থেকে নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হবে। এ ছাড়া যেদিন টিকা দেওয়া হবে সেদিন যদি নির্দিষ্ট ওই ব্যক্তির শরীরে জ্বর বা কোনো উপসর্গ দেখা যায় তবে আর তাকে টিকা দেওয়া হবে না।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনির্ণয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ড. তাহমিনা শিরীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অ্যান্টিবডি টেস্টের জন্য টিকা পরীক্ষায় কোনো প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না। যদিও একেক টিকার ক্ষেত্রে একেক ধরনের প্রটোকল থাকতে পারে। এ ছাড়া অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেনের কিটেরও সংকট রয়েছে। আইসিডিডিআরবিতে চীনের টিকা পরীক্ষার ক্ষেত্রে হয়তো আগে অ্যান্টিবডি টেস্ট ভিন্নভাবে করা হবে। অন্যদেরগুলো কী হবে সেটা এখন বলা যাবে না।’

জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের স্বার্থে একাধারে তিনটি পদ্ধতিতে (পিসিআর, অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি টেস্ট) কভিড-১৯ পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বলেছি। আগেও আমরা অনেকবার এই বিষয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ করেছি। কিন্তু এতে সাড়া মিলছে না। যদিও সরকার টিকার ব্যাপারে খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে ইতিবাচক পথেই এগোচ্ছে।’

গত বৃহস্পতিবার পরামর্শক কমিটির সভার বিষয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একই বিষয় তুলে ধরে বলা হয়েছে, এখন সেরোসার্ভিল্যান্স নিয়ে কাজ করার সময় এসে গেছে, যার জন্য অ্যান্টিবডি টেস্ট চালু করাও প্রয়োজন।

মন্তব্য