kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

আলাপচারিতা

যেভাবে নোবেলের পথে ডা. রুহুল আবিদ

মানবসেবার নতুন আলোকবর্তিকা হাতে হাঁটছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানী ডা. রুহুল আবিদ। তিনি আছেন নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়নের প্রাথমিক তালিকায়। তাঁকে নিয়ে বাংলাদেশে জেগেছে নতুন এক প্রত্যাশা। গত মঙ্গলবার রাতে টেলিফোনে একান্ত আলাপচারিতায় জাতির এই মেধাবী সন্তান কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন তাঁর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নানা বিষয়। টেলিফোনের এপাশে ছিলেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক তৌফিক মারুফ

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যেভাবে নোবেলের পথে ডা. রুহুল আবিদ

ডা. রুহুল আবিদের ডাকনাম লিখন। কাছের মানুষরা তাঁকে ওই নামেই চেনে। ছোটবেলায় শিখেছিলেন রবীন্দ্রসংগীত। কলেজে নানা অনুষ্ঠানে নাটকে অভিনয় করতেন নিয়মিত। সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন ছাত্ররাজনীতির সঙ্গেও। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৪-৮৬ মেয়াদে ছিলেন ওই কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি।

জীবনের শুরু থেকেই নানামুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রাখলেও মূল লক্ষ্য থেকে কখনো বিচ্যুত হননি। সবশেষে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন চিকিৎসাসেবায়। দূরদেশে থেকেও তাঁর সব কিছু আবর্তিত হয় বাংলাদেশ এবং এ দেশের মানুষকে ঘিরেই। সুযোগ পেলেই ছুটে আসেন জন্মভূমির টানে। বরাবরের লক্ষ্য মানুষের কল্যাণসাধন।

ডা. রুহুল আবিদ লিখন কালের কণ্ঠকে বলেন, আপাতত একটি লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই—বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ যেন বছরে অন্তত একবার নিজের শারীরিক অবস্থার পরীক্ষা করাতে পারে। অবশ্যই গরিবদের জন্য সেই পরীক্ষা হবে বিনা মূল্যে। কাজটি নিশ্চিত করবে সরকার। আমরা সরকারকে সহায়তা দেব।

লিখন জানান, তাঁর পৈতৃক বাড়ি পাবনায় আর মায়ের জন্মস্থান রাজবাড়ী। বেড়ে উঠেছেন চট্টগ্রাম ও ঢাকায়। ঢাকায় বাসা ছিল কলাবাগানে। বাবা চাকরি করতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ধানমণ্ডি বয়েজ স্কুলের পর্ব শেষে ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৭৯ সালে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে। তাঁর আজকের পথচলার শুরুটা মূলত সেখান থেকেই।

ডা. লিখন বলেন, দেশে থাকতে ছিলাম মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। এরপর ১৯৯৩ সালে চলে যাই জাপানে। সেখানে মলিক্যুলার বায়োলজি ও বায়োকেমিস্ট্রিতে ডক্টরেড ডিগ্রি নিই। ১৯৯৭ সালে চলে আসি যুক্তরাষ্ট্রে। এখানে কাজ করছি কার্ডিওভাসকুলার নিয়ে। এখন আছি ব্রাউন ইউনিভার্সিটি অ্যালপার্ট মেডিক্যাল স্কুলের অধ্যাপক হিসেবে। এই কাজের ফাঁকেই ২০১২ সালে বাংলাদেশের মানুষের জন্য কিছু করার পরিকল্পনা করি। কয়েকজনকে নিয়ে গড়ে তুলি হেলথ অ্যান্ড এডুকেশন ফর অল (হায়েফা)। ঢাকার উত্তরায় এই সংস্থার একটি অফিস রয়েছে। বাংলাদেশে প্রথম বড় কাজ করি রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময়। এর পর থেকে যেকোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকে আমার টিম দুর্গতদের সাহায্যার্থে এগিয়ে যায়।

ডা. আবিদ বলতে থাকেন, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় আমরা শুরু থেকেই কাজ করছি। করোনাভাইরাস মহামারির এই সময়ে আমরা প্রায় এক হাজার ২০০ মানুষকে সহায়তা দিয়েছি। সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আমাদের সংস্থাটি বাংলাদেশে জরায়ু ক্যান্সার আক্রান্তদের নিয়ে কাজ করছে। নারী পোশাক শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও চলছে কাজ। পর্যায়ক্রমে নেপাল ও সিরিয়ায় কাজ করার লক্ষ্য রয়েছে আমাদের।

ডা. লিখন জানান, তাঁর উদ্ভাবিত ‘নীরোগ’ প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের বিদ্যুত্হীন এলাকাগুলোতে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলোতে এই প্রযুক্তির সফল কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা