kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

আতঙ্কিত হয়ে বেশি না কেনার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

পেঁয়াজের দাম নাগালে আসবে এক মাসেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পেঁয়াজের দাম নাগালে আসবে এক মাসেই

দেশে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ আছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি হুজুগে পড়ে বেশি বেশি পেঁয়াজ কেনার প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, “এই ধরনের ‘প্যানিক বায়িং’ কমানো গেলে আগামী এক মাসের মধ্যে পেঁয়াজের দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব।” অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে সরকার ‘সাপ মারা এবং লাঠি না ভাঙার’ কৌশল নিয়েছে বলে জানান তিনি। গতকাল বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পেঁয়াজের মজুদ, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

টিপু মুনশি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ছয় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ মজুদ আছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন  দেশ  থেকে আমদানি হচ্ছে। এ ছাড়া ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে প্রয়োজনে আরো এক লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ যেগুলো সীমান্ত পার হওয়ার অপেক্ষায় আছে, সেগুলো দু-এক দিনের মধ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে বলে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তুরস্ক ও মিসর থেকে টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে, অল্প দিনের মধ্যে এগুলো দেশে পৌঁছবে।

দেশে পেঁয়াজের চাহিদা এবং উৎপাদনের তথ্য তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত ১০ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। চার লাখ টন আমদানি করতে হবে। এ ছাড়া ছয় লাখ টন আমদানির প্রক্রিয়া চলমান। প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার টন পেঁয়াজ দেশে ঢুকছে বলেও তিনি জানান। 

মন্ত্রী বলেন, গত বছরের সংকটের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার ভারতনির্ভরতা কমিয়ে চীন থেকে এক লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মিয়ানমার, চীন, আফগানিস্তান ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দেশে এবার গত বছরের তুলনায় প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বেশি উৎপাদিত হয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগে থেকেই পেঁয়াজের আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতি নজর রাখা হচ্ছিল। সে কারণে টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানির ব্যবস্থা করা হয় এবং গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ টাকা মূল্যে দেশব্যাপী খোলাবাজারে বিক্রি শুরু করা হয়, তা আগামী বছর মার্চ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

পেঁয়াজের মজুদ, সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে টিপু মুনশি বলেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে। পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পেঁয়াজ সরবরাহে কোনো ঘাটতি হবে না উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, দেশের বড় কম্পানিগুলো গত বছরের মতো এবারও প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ আমদানি করবে। ই-কমার্সের মাধ্যমে মাসে ১০-১২ হাজার টন পেঁয়াজ সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়া টিসিবির বাইরে ওএমএস ডিলার দিয়েও পেঁয়াজ সরবরাহ করা হবে।

বিনা নোটিশে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডাব্লিউটিও) নিয়ম ভেঙেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড.  মো. জাফর উদ্দীন বলেন, ‘বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শরিফা খান, অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. ওবায়দুল আজম, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা, টিসিরির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান প্রমুখ।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা