kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

১৪৩২ কেবল অপারেটর হয়রানির শিকার

লাইসেন্স নবায়ন করতে পারছেন না, ভ্রাম্যমাণ আদালতেও বিপুল জরিমানার মুখে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



১৪৩২ কেবল অপারেটর হয়রানির শিকার

দেশের কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কের এক হাজার ৪৩২ জন কেবল ও ফিড অপারেটর হয়রানির শিকার হচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার অজুহাতে তাঁদের লাইসেন্স নবায়ন করছে না বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) কর্তৃপক্ষ। আইন অনুসারে বিলম্ব ফি দিয়ে লাইসেন্স নবায়নের বিধান থাকলেও সে সুযোগ তাঁদের দেওয়া হচ্ছে না। উপরন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানি করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তাঁরা তথ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কেবল অপারেটররা অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন কারণে যাঁরা তাঁদের লাইসেন্স নবায়ন করতে পারেননি তাঁরা নবায়নের জন্য বিটিভির কন্ট্রোলার/লাইসেন্স ম্যানেজারের দপ্তরে যোগাযোগ করলেও নবায়নের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তাঁরা অভিযোগ করেন, ৩১ আগস্টের পর থেকে নবায়নপ্রক্রিয়া বন্ধ। কোনো ফি জমা নেওয়া হচ্ছে না। কিসের ভিত্তিতে, কেন এটা করা হচ্ছে তা-ও জানাচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

কেবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে প্রায় পাঁচ হাজার কেবল অপারেটর রয়েছেন। এর মধ্যে ৭৩১ জন কেবল অপারেটর এবং ৭০১ জন ফিড অপারেটর আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে তাঁদের লাইসেন্স নবায়ন করতে পারেননি।

‘কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬’ অনুসারে দুই বছরের জন্য লাইসেন্স দেওয়া হয়। লাইসেন্স ফি হচ্ছে—কেবল অপারেটরদের বার্ষিক ৫০ হাজার টাকা করে। আর ফিড অপারেটরদের (যাঁরা কেবল অপারেটরদের কাছ থেকে সংযোগ নিয়ে বাড়ি বাড়ি সংযোগ দেন) ফি হচ্ছে বিভাগীয় পর্যায়ে বার্ষিক ১৬ হাজার, জেলা পর্যায়ে ১০ হাজার ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ছয় হাজার টাকা করে। আইন অনুসারে, ডিসেম্বর মাসের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন করা না হলে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা হারে জারিমানা দিতে হয়। যাঁরা এরই মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন করতে পারেননি তাঁরা জরিমানা দিয়ে নবায়ন করতে চাইলেও এখনো পারছেন না।

রাজধানীর মগবাজারের নয়াটোলা-আমবাগান এলাকার একজন অপারেটর অভিযোগ করেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে তাঁকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। অথচ তাঁর বার্ষিক লাইসেন্স ফি ১৬ হাজার টাকার সঙ্গে ভ্যাট, সারচার্জসহ প্রায় ২০ হাজার টাকা আসার কথা। তিনি বলেন, ‘এমনিতেই ব্যবসার অবস্থা খারাপ, করোনাকালে কেউই টাকা দিতে চাচ্ছে না। এর মধ্যে এত টাকা জরিমানা, ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে গেলে ব্যবসাই করা যাবে না।’ ওই এলাকার চেয়ারম্যান গলির আরেক অপারেটরকেও ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫০ হাজার টাকা জারিমানা করেছেন বলে জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অপারেটর জানান, তাঁকে জরিমানা করার পর তিনি বিটিভির কন্ট্রোলার/লাইসেন্স ম্যানেজারের দপ্তরে লাইসেন্স নবায়নের জন্য যোগাযোগ করেন। তখন তাঁকে বলা হয়েছে, ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে লাইসেন্স ফি, ভ্যাট পরিশোধ করে নবায়নের আবেদনপত্র বিটিভির ডিজি (মহাপরিচালক) বরাবরে ডাকযোগে পাঠিয়ে দিতে। তিনি বলেন, এই নিয়মের কারণে চিঠি ঠিকমতো পৌঁছাল কি না, না পৌঁছালে তার জন্য আরো কোনো বিড়ম্বনায় পড়তে হয় কি না এ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন।

এ ব্যাপারে তথ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ ও হস্তক্ষেপ কামনা করে কোয়াবের পক্ষ থেকে গত ৯ সেপ্টেম্বর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘আমরা বেশির ভাগ কেবল অপারেটর বিটিভির কাছ থেকে লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, অনেক কেবল অপারেটর আর্থিক টানাপড়েন ও অবহেলাজনিত কারণে বিটিভির লাইসেন্স নবায়ন করতে পারেননি। যার ফলে প্রায় এক হাজারের বেশি কেবল অপারেটর লাইসেন্স নবায়নের জন্য অপেক্ষায় আছেন। সারা দেশে বিভিন্ন ছোট ছোট নেটওয়ার্কে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে প্রচুর টাকা জরিমানা করা হচ্ছে, যা ক্ষুদ্র একজন অপারেটরের পক্ষে প্রদান করা কষ্টসাধ্য।’ এ অবস্থায় মেয়াদ উত্তীর্ণ লাইসেন্সগুলো বিটিভি কর্তৃক ধার্যকৃত বিলম্ব ফি, সারচার্জসহ সমুদয় ফি প্রদানের মাধ্যমে নবায়নের সুযোগ দিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার জন্য তথ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানায় কোয়াব।

কেন কেবল অপারেটরদের লাইসেন্স নবায়ন করা হচ্ছে না—এ ব্যাপারে জানাতে চাইলে বিটিভির কন্ট্রোলার/লাইসেন্স ম্যানেজার জুলফিকার রহমান কোরাইশী কালের কণ্ঠকে বলেন, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স নবায়ন করছেন না, ২৮ আগস্টের পর তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে একটি ঘোষণা ও সার্কুলার আগেই দেওয়া হয়েছে। লাইসেন্স নবায়ন ফি জমা না নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়টি তাঁর জানা নেই। কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ছুটিতে থাকার পর তিনি আজই (গতকাল) অফিসে এসেছেন।

এ ব্যাপারে কোয়াবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজ কালের কণ্ঠকে বলেন, কেউ লাইসেন্স যথাসময়ে করতে না পারলে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত জরিমানসহ সমুদয় ফি যেকোনো সময় জমা দিয়ে নবায়ন করা গেছে। কিন্তু এখন একদিকে নবায়নের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না, অন্যদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করছেন। তাঁদের জরিমানার পরিমাণ এত বেশি যে সেটা ব্যবসা করে ওঠানোও সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘কেবল ব্যবসায়ে এমনিতেই দুর্দিন চলছে। সারা দেশের কেবল ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছেন। আর্থিক সংকটে পড়ে ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারছেন না। এমন অবস্থায় এই ব্যবসা এবং এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত পাঁচ লাখ মানুষের জীবিকার স্বার্থে এটাকে অবিলম্বে শিল্প ঘোষণা করা উচিত। একই সঙ্গে অতিদ্রুত ডিজিটালাইজেশনের ব্যবস্থা করা উচিত।’

আনোয়ার পারভেজ বলেন, দিনাজপুরের চিরিরবন্দর এলাকার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সুমন দাসের চাঁদাবাজির কারণে ওই এলাকার কেবল অপারেটর কোনো ব্যবসায়ই করতে পারছেন না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা