kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

প্রায় এক বছর পর বিচার শুরু ২৫ আসামির

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রায় এক বছর পর বিচার শুরু ২৫ আসামির

প্রিজন ভ্যানে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আসামিরা। পাশেই দাঁড়ানো তাঁদের স্বজনরা। গতকাল আসামিদের ঢাকার আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় ২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে প্রায় এক বছর আগে সংঘটিত এই হত্যায় অভিযুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হলো।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন।

গত বছরের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। পরের দিন আবরারের বাবা ১৯ শিক্ষার্থীকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ এজাহারের ১৬ জনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে। গত বছরের ১৩ নভেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে যে অভিযোগপত্র জমা দেন, সেখানে আসামি করা হয় মোট ২৫ জনকে। এ ছাড়া ৬০ জনকে সাক্ষী করা হয়। অভিযোগ গ্রহণ করে গত ১৮ নভেম্বর পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। তাঁদের মধ্যে একজন পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

গতকাল কারাগার থেকে ২২ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালত আসামিদের কাছে জানতে চান, তাঁরা দোষী নাকি নির্দোষ। আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। এরপর আদালত অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। এ সময় পলাতক তিন আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিচারক তিনজন আইনজীবী নিযুক্ত করেন।

মামলার আসামিরা হলেন ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহতামিম ফুয়াদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার ওরফে অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন ওরফে শান্ত, আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা, উপসমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, গ্রন্থ ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ইশতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, কর্মী মুনতাসির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, মুজাহিদুর রহমান, মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুর রহমান মাজেদ, শামীম বিল্লাহ, মুয়াজ ওরফে আবু হুরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত, আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম, এস এম মাহমুদ সেতু, মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল ওরফে জিসান, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম ও মুজতবা রাফিদ। তাঁদের মধ্যে মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ এখনো পলাতক। আট আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে আসামিরা এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। আমরা সাক্ষীদের আদালতে হাজির করে মামলাটি প্রমাণের চেষ্টা করব।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেন, এ মামলায় অভিযোগ গঠন করার মতো কোনো উপাদান ছিল না, যে কারণে মামলা থেকে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা