kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

স্ত্রী ও এক দম্পতিকে কুপিয়ে হত্যা

গণপিটুনির পর আটক অভিযুক্ত

নরসিংদী প্রতিনিধি   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্ত্রী ও এক দম্পতিকে কুপিয়ে হত্যা

নরসিংদীর শিবপুরে এক দম্পতি ও এক নারীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার ভোরে উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের কুমরাদী গ্রামে এ ঘটনায় আরো দুজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাদল মিয়া (৫০) নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, পারিবারিক কলহ থেকে এই তিন খুনের ঘটনা ঘটেছে।

নিহতরা হলেন অভিযুক্ত বাদলের স্ত্রী নাজমা বেগম (৪০), আয়েছ আলী মোল্লার ছেলে তাজুল ইসলাম (৫৫) ও তাঁর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৪৫)। আহতরা হলেন নিহত নাজমার ছোট ছেলে সোহাগ (১৫) ও  তাজুল ইসলামের মেয়ে কুলসুম বেগম (৩০)।

হতাহতের এ ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত বাদল মিয়াকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পেশায় কাঠমিস্ত্রি বাদল কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ইছাখালী এলাকার ইসহাক আলীর ছেলে।

জানা গেছে, ৮-৯ বছর আগে কাঠমিস্ত্রি বাদলের সঙ্গে শিবপুরের পূর্ব কুমরাদী এলাকার মৃত আবদুল মান্নানের মেয়ে স্বামী পরিত্যক্তা নাজমা বেগমের বিয়ে হয়। নাজমার আগের সংসারের নাদিম (২২) ও সোহাগ (১৫) নামের দুই ছেলেসন্তান রয়েছে। তারা স্থানীয় ইটাখোলা বাসস্ট্যান্ড বাজারে কসাইয়ের কাজ করে। বাদল-নাজমা দম্পতি বিয়ের

পর থেকে দুই ছেলেকে নিয়ে কুমরাদী গ্রামের তাজুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করে আসছিলেন। গতকাল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাজমা ও বাদলের মধ্যে ঝগড়া বাধে। একপর্যায়ে বাদল নাজমা ও সেছলে সোহাগকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন। চিৎকার শুনে পাশের ঘর থেকে বড় ছেলে নাদিম এসে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় মা ও ছোট ভাই পড়ে আছে। তিনি তাদের দিকে এগিয়ে গেলে বাদল তাঁকেও আঘাত করতে আসেন। এ সময় নাদিম দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যান। চিৎকার শুনে পাশের আরেক ঘর থেকে বাড়ির মালিক তাজুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ও মেয়ে কুলসুম এগিয়ে এলে বাদল তাঁদেরও কোপান। একপর্যায়ে নাদিম তাঁর সত্বাবাকে মাথায় আঘাত করে আটক করেন। পরে গণপিটুনি দিয়ে তাঁকে পুলিশে দেওয়া হয়।

এদিকে চিৎকার-চেঁচামেচিতে আশপাশের বাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক নাজমা ও মনোয়ারা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। আর গুরুতর অবস্থায় তাজুল ইসলাম, কুলসুম ও সোহাগকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে তাজুল ইসলাম পথেই মারা যান।

থানার পুলিশ এবং সিআইডি নরসিংদী ইউনিটের পরিদর্শক কাসিফ সানোয়ারের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

শিবপুর মডেল থানার ওসি মোল্লা আজিজুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এটি পরিকল্পিত কোনো হত্যাকাণ্ড নয়। পারিবারিক কলহ থেকে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সিআইডির পরিদর্শক কাসিফ সানোয়ার বলেন, অভিযুক্ত বাদল পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তবে গণপিটুনিতে মাথায় আঘাত পাওয়ায় তাঁকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা তাঁকে এখনই জিজ্ঞাসাবাদ করতে নিষেধ করেছেন। তাই বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা