kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

১১২ প্রবাসী ফেরত

দায়ী আবুধাবি ইমিগ্রেশন ও বিমান সংস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দায়ী আবুধাবি ইমিগ্রেশন ও বিমান সংস্থা

আবুধাবির বিমানবন্দর থেকে ১১২ জন প্রবাসী বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের পলিসির হঠাৎ পরিবর্তন ও কিছু বিষয়ে অস্বচ্ছতাকে দায়ী করা হয়েছে। এয়ারলাইনসেরও ভুল ছিল। তাই আবুধাবি থেকে ফেরত আসা ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের সরকারি খরচে আবার সে দেশে পাঠাতে চার দফা সুপারিশ করেছে বেসামারিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি।

গত ১৪ ও ১৬ আগস্ট বাংলাদেশি যাত্রীদের ফেরত পাঠায় আবুধাবি। এই ঘটনায় আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠকে  পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান ওই কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলন করেন।

মফিদুর রহমান জানান, তদন্ত কমিটি কিছু সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্ব স্ব দেশের দূতাবাসগুলোতে সে দেশের সর্বশেষ পলিসিগুলো থাকা, প্রবাসীদের জন্য হালনাগাদ তথ্য এবং তাঁদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে একটি অনলাইন পোর্টাল খুলে সেখান থেকে ওয়ানস্টপ সার্ভিস দেওয়া, ত্রুটির বিষয়ে আবুধাবির দূতাবাসের মাধ্যমে অধিকতর তদন্ত করা। কারণ তদন্ত কমিটি আবুধাবি ইমিগ্রেশন থেকে তথ্য চাইলেও তারা কোনো তথ্য দেয়নি। ফেরত আসা ১১২ জনকে টিকিট, কভিড-১৯ পরীক্ষা খরচসহ সরকারি ব্যবস্থাপনায় আবুধাবি পাঠানো, দেশে অবস্থানরত অন্যদের জরুরি ভিত্তিতে আবুধাবি পাঠাতে উদ্যোগ গ্রহণ, বিমান সংস্থা এবং কল্যাণ ডেস্কের মধ্যে তথ্যপ্রবাহ বৃদ্ধির সুপারিশও করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাত্রী ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় এয়ারলাইনসেরও ভুল ছিল। আবুধাবি থেকে বোর্ডিং পাসের ক্লিয়ারেন্সের জন্য বাংলাদেশি এয়ারলাইনসের চেক ইন কাউন্টারে থাকা কর্মকর্তাদের ‘বিজিডি’ কোড এন্ট্রি দিতে হয়। তবে পলিসি পরিবর্তনের কারণে ‘বিজিডি’ কোড দেওয়ার পরও বোর্ডিং পাস না আসায় বিমান প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ‘বিজি’ কোড টাইপ করেন। সঙ্গে সঙ্গে বোর্ডিং পাস চলে আসে। তবে ‘বিজি’ কোডটি ছিল বুলগেরিয়ার জন্য। তাই বুলগেরিয়ার নাগরিক ভেবে সিস্টেম থেকে পাস ইস্যু হয়েছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, আবুধাবির ইমিগ্রেশন বিভাগ গত ১০ আগস্ট তাদের পলিসি পরিবর্তন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। তাতে বলা হয়, যাদের ভিসার মেয়াদ আছে বা নেই, তারা আবুধাবি ঢুকতে পারবে। ১৩ আগস্ট সেই পলিসিতে আবারও পরিবর্তন আনা হয়। বলা হয়, আবুধাবিতে প্রবেশের জন্য প্রবাসীদের দ্য ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি অ্যান্ড সিটিজেনশিপের (আইসিএ) অনুমোদন লাগবে। আর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়াদের সে দেশে প্রবেশের অনুমোদন আছে কি না তা যাচাইয়ের জন্য একটি ওয়েব পোর্টালের ঠিকানা দিয়েছে। নির্দেশনাটি প্রবাসী যাত্রী ও বিমান সংস্থা এড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, যাত্রীদের ফেরত পাঠানো কিংবা কী করলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সে দেশে ঢুকতে পারবেন, সে বিষয়ে আবুধাবি ইমিগ্রেশন বিভাগ বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানায়নি। এ ছাড়া এয়ার এরাবিয়া ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সমাধান জানতে চাইলেও আবুধাবি ইমিগ্রেশন সদুত্তর দেয়নি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা