kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

সাক্ষাৎকার : আশরাফ আলী খান খসরু, প্রতিমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়

দেশে শিগগিরই প্রতিবন্ধীদের জন্য স্টেডিয়াম হবে

তৈমুর ফারুক তুষার   

১৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে শিগগিরই প্রতিবন্ধীদের জন্য স্টেডিয়াম হবে

বিভিন্ন দেশে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষায়িত স্টেডিয়াম রয়েছে। বাংলাদেশেও ঢাকার অদূরে সাভারে দেশের প্রথম প্রতিবন্ধী স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। বিভিন্ন এলাকায় শিশুপল্লী স্থাপনেও প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো দ্রুতই একনেকে পাঠানো হবে। কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বেশ কিছু বড় কাজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী খসরু। তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জায়গায় সমাজকল্যাণ অফিসগুলো ভাড়া বাড়িতে রয়েছে। কিছু আছে দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রে। আমরা প্রতিটি জেলায় নিজস্ব জায়গায় অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। এই প্রকল্পের কাজ চলছে।’

সমাজে পিছিয়ে থাকা ও অসহায় মানুষের জন্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ বছর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাজেট হচ্ছে সাত হাজার ৯১৯ কোটি টাকা। বয়স্ক ভাতার আওতায় আরো পাঁচ লাখ মানুষকে নিয়ে আসা হবে। বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতার আওতায় তিন লাখ ৫০ হাজার, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় দুই লাখ ৫৫ হাজার মানুষকে নতুনভাবে যোগ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে এটা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।’

আশরাফ আলী বলেন, ‘প্রায় এক লাখ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী উপবৃত্তি কর্মসূচির উপকারভোগী। অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে ১৫ লাখ ৪৫ হাজার। হিজড়াদের মানোন্নয়ন কর্মসূচিতে আছে পাঁচ হাজার ৭৬৭ জন। বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে আছে ১০ হাজার জন। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে উপকারভোগী আছে ৭১ হাজার জন। চা শ্রমিকদের উন্নয়ন কর্মসূচিতে আছে ৫০ হাজার। ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, জন্মগত হৃদেরাগী, প্যারালাইজড, থ্যালাসেমিয়া রোগীর আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগী ৩০ হাজারের বেশি। এসব রোগীকে এককালীন ৫০ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি এতিমখানায় ৯৭ হাজার ৫০০ এতিমকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এবারে এই সংখ্যা আরো বাড়বে। করোনার মধ্যে ঢাকার বস্তিগুলোতে খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের সহায়তার টাকা আমরা সরাসরি মোবাইলে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। বিভিন্ন সময়ে টাকা বিতরণে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সে জন্য বিকাশ, নগদ, রকেটের মাধ্যমে ডিজিটাল মাধ্যমে টাকা বিতরণ করা হবে। যাদের মোবাইল নম্বর নেই তাদের টাকা অভিভাবকের কাছে পাঠানো হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক দুর্যোগের সময়ে আমরা ২৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি। গত মে পর্যন্ত এক লাখ ৯৬ হাজার মানুষকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১২ লাখ ৮৩ হাজার মানুষ সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ নিয়েছেন। আমরা এ বছর এই খাতে আরো অতিরিক্ত ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছি।’

আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, ‘সারা দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আমাদের একটি করে ইউনিট আছে। এখানে সমিতির মাধ্যমে হাসপাতালে যে ওষুধগুলো নেই সেগুলো রোগীকে কিনে দেওয়া হয়। ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করতেও ভিক্ষুকদের স্বাবলম্বী করতে রিকশা কিনে দিচ্ছি। কিংবা হাঁস-মুরগির খামার করে দিচ্ছি। ঢাকা থেকে অনেককে ধরে গ্রামে পাঠিয়ে সেখানে চায়ের দোকান করে দিচ্ছি।’

খসরু বলেন, ‘আমরা এখন ১০০ উপজেলায় শতভাগ প্রতিবন্ধী, দুস্থ, নিম্ন আয়ের মানুষ, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা দেব। সারা দেশে হতদরিদ্র ও গরিব মেধাবী ছাত্রদের সহযোগিতার জন্য কাজ করছি। করোনার মধ্যেও নিজের এলাকায় উপস্থিত থেকে নানা কাজ করে যাচ্ছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা