kalerkantho

রবিবার । ১২ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৯ সফর ১৪৪২

প্রতিরোধ কেন করা গেল না

আনোয়ার উল আলম

১৫ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



প্রতিরোধ কেন করা গেল না

ঢাকায় প্রতিরোধ গড়ার মতো কোনো শক্তি রক্ষীবাহিনীর ছিল না। কারণ তখনো রক্ষী সদস্যদের ঢাকায় রাখার কোনো ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। রক্ষীবাহিনীর যা অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ ছিল, নিজেদের কাছে রাখার কোনো সুবিধা না থাকায় সেসব অস্থায়ীভাবে রাখা হয়েছিল পিলখানায়।

সাভার থেকে ১৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের একটি কম্পানি এনে ঢাকায় রাখা হয়েছিল। এই কম্পানি প্রধান কার্যালয়ের নিরাপত্তাসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন করত। ওই ব্যাটালিয়নের চারটি টহলদল নিরাপত্তা রক্ষার কাজে নিয়োজিত ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। সাভার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অ্যাডজুট্যান্ট লিডার তায়েব উদ্দিন খান ও ডিউটি অফিসার লিডার এ টি এম হালিমকে আমি জানাই যে আমরা দুজন সাভারে আসছি। তাঁরাও যেন তৈরি হতে থাকেন।

সরোয়ার (সারোয়ার হোসেন মোল্লা, উপপরিচালক) আর আমি বুঝতে পারি, ঢাকা থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। আমরা ক্রমেই আটকা পড়ে যাচ্ছি এবং আমাদের পর্যাপ্ত ট্রুপস ও অস্ত্র-গোলাবারুদ নেই। তাই কিছুক্ষণ পর সিদ্ধান্তমতো আমরা দুজন একটা জিপ নিয়ে সাভারের দিকে রওনা হই। কিছুদূর যাওয়ার পর আমাদের মনে হলো, প্রধান কার্যালয় অরক্ষিত রেখে এবং কয়েকজন কর্মকর্তা ও কিছু রক্ষীকে বিপদের মধ্যে ফেলে কাপুরুষের মতো আমরা কোথায় যাচ্ছি? আমরা দুজনই আবার ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিলাম। এ সিদ্ধান্ত নিলাম এই ভেবে যে মরি আর বাঁচি আমরা ঢাকাতেই থাকব এবং একটা ব্যবস্থা করবই। কিন্তু নিরস্ত্র অবস্থায় তা তো করা যাবে না। প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন অস্ত্রশস্ত্র। সেগুলো ছিল পিলখানায়।

প্রধান কার্যালয়ে ফিরেই আমরা সিনিয়র ডেপুটি লিডার হাফিজ উদ্দিনকে রক্ষীবাহিনীর কয়েকজন সদস্যসহ একটা ট্রাক দিয়ে পিলখানায় পাঠাই অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে আসতে। এর আগে আমাদের অনুরোধে রক্ষীবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আবুল হাসান খান বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল খলিলুর রহমানকে ফোন করে জানান, পিলখানায় মজুদ রাখা রক্ষীবাহিনীর অস্ত্র-গোলাবারুদ নেওয়ার জন্য হাফিজ উদ্দিনকে পাঠানো হচ্ছে। অস্ত্র ও গোলাবারুদ হাফিজ উদ্দিনের কাছে দেওয়ার জন্য খলিলুর রহমানকে তিনি অনুরোধ করেন। কিন্তু খলিলুর রহমান অস্ত্রশস্ত্র দেওয়া দূরের কথা, তাঁর নির্দেশে হাফিজ উদ্দিনকে পিলখানায় ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। গেট থেকে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। রক্ষীবাহিনীর অস্ত্রশস্ত্র সেখানে পড়ে থাকে। আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারি, বিডিআর মহাপরিচালক খলিলুর রহমান আমাদের সহায়তা করবেন না। ফলে আমাদের এ প্রচেষ্টাও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ক্রমে আমাদের জন্য পরিস্থিতি ধোঁয়াটে হয়ে আসে। আমাদের সাংগঠনিক শক্তি তেমন ছিল না। কোনো দিকেই আমরা আশার আলো দেখতে পাচ্ছিলাম না।

পরিস্থিতি আস্তে আস্তে আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রাণহীন দেহ তাঁর বাড়িতে পড়ে আছে চরম অবহেলায়। আর আমরা কোনো কিছু করতে পারছি না। এটা যে আমাদের জন্য কতটা কষ্টকর ও বেদনাদায়ক ছিল, তা এখন বোঝানোর ভাষা আমার নেই। আমি শুধু ভাবছি, আমাকে যেভাবেই হোক একটা কিছু করতেই হবে। এ সময় মনে পড়ল তাজউদ্দীন আহমদের কথা। তাঁর কথা আমার আগে মনে পড়েনি। কারণ তিনি সরকারি দায়িত্বে ছিলেন না। বলা যায়, তাঁকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল। মনে হলো, এই চরম সংকটময় মুহূর্তে তিনি হয়তো আমাদের কোনো বুদ্ধি দিতে পারবেন। আমি তাঁকে ফোন করি। ইতিমধ্যে তিনি ঘটনার কথা শুনেছেন। আমার মনে হলো, তিনিও ভীষণ ব্যথিত। আমরা কী করতে পারি বা আমাদের কী করা উচিত, এ বিষয়ে আমি তাঁর পরামর্শ চাইলাম। তিনি আমাকে দ্রুত উপরাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে কথা বলতে বললেন। আমি তাঁকে জানালাম, ইতিমধ্যে আমি তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি তাঁদের কাছে গিয়েছিলাম, কিন্তু তাঁরা বাসা থেকে চলে গেছেন। এটা শুনে তিনি আমাকে বললেন সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলতে। তিনি আমাকে আরো বললেন, ঘাতকদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে হলে সেনাপ্রধানকে প্রয়োজন।

আমি আবার সেনাপ্রধান কে এম সফিউল্লাহকে ফোন করলাম। কিন্তু পেলাম না। সরোয়ার ও আমি তাঁর খোঁজে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে বারবার ফোন করি, কিন্তু তাঁকে পাইনি। এর মধ্যে সরোয়ার ছুটিতে থাকা আমাদের উপপরিচালক (সিগন্যাল) সাবিহ উদ্দিন আহমেদকে তাড়াতাড়ি সদর দপ্তরে চলে আসতে বলেন।

সময় দ্রুত গড়িয়ে যাচ্ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর জানা গেল, সেনাপ্রধান প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদর দপ্তরে আছেন। আমরা সেখানে ফোন করি। বহু কষ্টে এবার আমরা কে এম সফিউল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হই। তিনি সরোয়ার আর আমাকে ৪৬ ব্রিগেড হেডকোয়ার্টার্সে যেতে বলেন। আরো জানালেন, তিনিও সেখানে যাচ্ছেন। আমরা কিছুটা আশ্বস্ত হলাম এই ভেবে যে হয়তো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমি জানতে চাইলাম, আমরা সাদা পোশাকে কিভাবে সেনানিবাসে যাব, আমাদের তো ঢুকতে দেবে না। তখন তিনি বললেন, ‘তোমরা অপেক্ষা করো, আমি একজন অফিসার পাঠাচ্ছি।’ আমরা ধারণা করলাম, ৪৬ ব্রিগেড সদর দপ্তর থেকেই অ্যাকশন শুরু হয়ে যাবে।

যে উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা ৪৬ ব্রিগেড সদর দপ্তরে গিয়েছিলাম, তা সফল হবে না ভেবে কথা আর বাড়ালাম না। কিছুক্ষণ পর সীমাহীন হতাশা নিয়ে আমরা রক্ষীবাহিনীর সদর দপ্তরে ফিরে আসি। জিয়াউদ্দিন আহমদই গাড়িতে করে আমাদের পৌঁছে দেন।

রক্ষীবাহিনীর প্রধান কার্যালয়ে ফিরে সরোয়ার ও আমি চিন্তা করতে থাকলাম কী করা যায়। পরিস্থিতি দ্রুত পর্যালোচনা করে আমরা বুঝতে পারলাম, সরকার এবং সরকারের রাজনৈতিক ভিত্তি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

আমাদের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ট্যাংক। আমাদের কিছু রক্ষী সদস্য আছেন সাভারে প্রশিক্ষণকেন্দ্রে। রক্ষীবাহিনীর বেশির ভাগ অস্ত্রশস্ত্র পিলখানায়। আমাদের নিজস্ব শক্তি ও প্রতিরোধক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়ল। এই পরিস্থিতিতে আমাদের সামনে করণীয় বিষয়গুলো নিম্নরূপ ছিল বলে আমাদের মনে হয়েছে :

১. বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা। এ বিষয়ে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ছিল এই যে রক্ষীবাহিনীর যেকোনো পদক্ষেপই সেনাবাহিনীকে নাড়া দিত। সেনাবাহিনীর অস্তিত্বের প্রশ্নে মুক্তিযোদ্ধা, পাকিস্তান-প্রত্যাগত ও অমুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের ভেদাভেদ ভুলে একত্র হয়ে রক্ষীবাহিনীকে মোকাবেলা করত। কারণ সেনাবাহিনীর ভেতর রক্ষীবাহিনী সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা ছিল। তখন সেনাবাহিনীর সামনে দাঁড়ানোর ক্ষমতা রক্ষীবাহিনীর হতো না। সব মহল থেকে বলা হতো, রক্ষীবাহিনী ভারতের হয়ে কাজ করছে। জনগণও তা বিশ্বাস করত। যদি সেনাবাহিনীর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ রক্ষীবাহিনীর পদক্ষেপকে সমর্থন করে সক্রিয় হতো, তাহলে দেশে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের সূচনা হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এটা কারো জন্য মঙ্গলজনক হতো না।

২. সেনাপ্রধান কে এম সফিউল্লাহ যদি সেনাবাহিনীর ওপর তাঁর নেতৃত্ব ও কমান্ড অক্ষুণ্ন রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারতেন, তাহলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা বা পদক্ষেপ নিতে পারতাম। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, সেনাবাহিনীর কমান্ডের ওপর সফিউল্লাহ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। কারণ তাঁর সহকর্মী সেনাবাহিনীর উপপ্রধান জিয়াউর রহমান ও চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফ খালেদ মোশাররফকে তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তাঁদের তিনজনের মধ্যে গোপনে দ্বন্দ্ব ছিল। তিনি আমাদের বারবার বলেছিলেন, ‘ডব ধত্ব মড়রহম ঃড় ফড় ংড়সবঃযরহম।’ কিন্তু তাঁরা দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি।

৩. আমরা আরেকটা কাজ করতে পারতাম, তা হলো রক্ষীবাহিনীর সবাইকে নিয়ে যমুনা নদীর ওপারে গিয়ে প্রতিরোধ সৃষ্টি করা। নদীর ওপারে আমরা হয়তো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রংপুর ব্রিগেডের সহায়তা পেতাম। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্রিগেড কমান্ডার মীর শওকত আলীর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর যশোর ব্রিগেড আমাদের বিরোধিতা করত। আমার এ অনুমানের কারণ হলো, ১৫ই আগস্টের ঘটনার পর খুলনার রক্ষীবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট লিডার মোজাফফর হোসেনকে সব রক্ষীসহ নিরস্ত্র করার একটা ফন্দি এঁটেছিলেন মীর শওকত আলী। কিন্তু রক্ষীবাহিনীর সদস্যদের পূর্বপ্রস্তুতি থাকায় এবং শৃঙ্খলার কারণে তিনি তা করতে পারেননি।

তোফায়েল আহমেদ আমাদের আহ্বানে রক্ষীবাহিনীর প্রধান কার্যালয়ে আসতে আগ্রহ প্রকাশ করলেন। তখন আমরা লিডার দীপককুমার হালদারকে কয়েকজন রক্ষী সদস্যসহ তাঁর বাড়িতে পাঠাই। তোফায়েল আহমেদ তাঁর সঙ্গে রক্ষীবাহিনীর প্রধান কার্যালয়ে আসেন।

জাতির জনক সপরিবারে নিহত হয়েছেন জেনে তোফায়েল আহমেদ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও আমাদের প্রধান কার্যালয় থেকে সেনাবাহিনী প্রধান, সরকারের অন্যান্য নেতাসহ অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। কিন্তু কারো কাছ থেকেই ইতিবাচক সাড়া পাননি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আমরা নিজেরাই অনেকের চেহারা পরিবর্তন হতে দেখেছি। দেখেছি, সরকারের ভেতরের অনেকেই উল্টো পথ ধরেছেন। বুঝতে পারছিলাম না দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে কাকে বিশ্বাস করব, কাকে করব না। প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার এ এন এম নূরুজ্জামানের অভাব বোধ করছিলাম। কারণ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সেনাবাহিনীর নেতৃস্থানীয় কর্মকর্তা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানতেন। ফলে তাঁর পক্ষে পরিস্থিতি অনুধাবন করে ব্যবস্থা গ্রহণ অনেক সুবিধাজনক হতো।

তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যা-পরবর্তী নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করলাম। ঠিক হলো, আমরা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলব। তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, সরোয়ার ও আমি সাভারে যাব। লিডার শেখ দলিল উদ্দিনকে সাভারে যাওয়ার পথ রেকি করতে পাঠানো হয়। শেখ দলিল মিরপুর সেতু পর্যন্ত গিয়ে দেখেন, সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এটা দেখে তিনি ফিরে আসেন। তাঁর কাছ থেকে এ তথ্য পেয়ে বুঝতে পারলাম, সরাসরি আমাদের সাভারে যাওয়ার পথ বন্ধ। তখন কেন যেন আরো মনে হলো, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী বা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নজরদারিতে রেখে আমাদের বিশেষত সরোয়ার ও আমার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে আমরা কোথাও যেতে না পারি। এটা হয়তো খালি চোখে আমরা বুঝতে পারছি না। কারণ আমাদের কোনো গোয়েন্দা ইউনিট নেই। এ অবস্থায় উপায় না দেখে আমরা সাভারে যাওয়ার পরিকল্পনাও ত্যাগ করি।

জাতীয় রক্ষীবাহিনীর সাফল্য কেউ চোখে দেখে না। এমনকি বঙ্গবন্ধুকে রক্ষায় ব্যর্থতার দায়ও এই বাহিনীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে অনেকেই রক্ষীবাহিনীর সমালোচনা করেছেন।

বঙ্গবন্ধুকে রক্ষায় যে ব্যর্থতা এবং প্রতিরোধ গড়ার যে ব্যর্থতা, তার দায়ভার যতটুকু রক্ষীবাহিনীর ওপর বর্তায়, ঠিক ততটুকু গ্রহণ করতে আমি বিন্দুমাত্র দ্বিধা করি না। রক্ষীবাহিনীর উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবে আমার ওপর যতটুকু দায়ভার পড়ে, ততটুকু আমি বিনা দ্বিধায় মাথা পেতে নেব। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দেয়, সেদিন যাদের দায়িত্ব ছিল তথ্য সংগ্রহ ও যথাস্থানে সরবরাহ করা, সেসব গোয়েন্দা সংস্থা যথা ডিজিএফআই, এনএসআই ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের যে ব্যর্থতা, তার দায়ভার কি ওই সংস্থাগুলো ও তাদের তদানীন্তন কর্মকর্তারা নিয়েছেন? রাষ্ট্রের যাঁরা কর্ণধার ছিলেন অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে আগেও যাঁরা দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং সেদিনও অর্থাৎ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল, তাঁরা কি তাঁদের দায়িত্ব পালন করেছেন?

লেখক : ১৯৭৫ সালে জাতীয় রক্ষীবাহিনীর উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) ছিলেন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা