kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে সংঘর্ষে নিহত ৩

যশোর প্রতিনিধি   

১৪ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে সংঘর্ষে নিহত ৩

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে কিশোরদের দুই পক্ষে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তাদের লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়েছে।

যশোর জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তিনজনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের এক কর্মী জানান, নিজেদের মধ্যে কোন্দলের জেরে গতকাল বিকেলে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু হয়। এ সময় আরো চারজন আহত হয়।

নিহতরা হলো—নাইম হোসেন (১৭), পারভেজ হাসান (১৮) ও রাসেল ওরফে সুজন (১৮)। বগুড়ার শিবগঞ্জের তালিবপুরের নান্নু প্রামাণিকের ছেলে নাইম কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে ছিল। খুলনার দৌলতপুরের রোকা মিয়ার ছেলে পারভেজ। বগুড়ার শেরপুরের নূরুল ইসলামের ছেলে রাসেল।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, তিন দফায় তিনটি লাশ হাসপাতালে নিয়ে আসে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের লোকজন। প্রথমে সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে হাসপাতালে আনা হয় নাইমের লাশ। এরপর পৌনে রাত ৮টার দিকে আনা হয় পারভেজের লাশ। আর ৮টার দিকে আনা হয় রাসেলের লাশ। প্রতিবারই লাশ রেখে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের লোকজন হাসপাতাল ছেড়ে চলে যায়। তিনজনের শরীরেই আঘাতের চিহ্ন আছে।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অমিয় দাস নিশ্চিত করেছেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার অপেক্ষা করছে কর্তৃপক্ষ।

ওই তিনজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে গেলে কথা বলার জন্য কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ আল মাসুদকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে যশোরের পুলেরহাটে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের গেটে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে সেখানে দায়িত্বরত আনসার সদস্য জানান, পুলিশ ছাড়া আর কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া নিষেধ আছে।

এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে আছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।’

যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে নিবাসীদের সংঘর্ষে তিন কিশোর নিহতের ঘটনায় যশোর জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন কেন কী কারণে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল তা তদন্তে কমিটি করা হবে। যশোর ডিএসবির পরিদর্শক (ডিআই-১) এম মশিউর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের বাসিন্দাদের মধ্যে পাভেল ও রবিউলের নেতৃত্বাধীন দুটি গ্রুপ রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে তারা আধিপত্য বিস্তার করতে মহড়া দিচ্ছিল। সংঘর্ষও হয়েছে। এরপর দুই পক্ষকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। ১৫ আগস্টের অনুষ্ঠানের কারণে তালা খুলে দেওয়ার পরই সংঘর্ষ বাধে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা