kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

করোনার প্রথম টিকা রাশিয়ার

পুতিনকন্যাও নিলেন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




করোনার প্রথম টিকা রাশিয়ার

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে করোনাভাইরাসের একটি টিকার অনুমোদন দিয়েছে রাশিয়া। স্থানীয়ভাবে তৈরি ‘স্পুিনক ভি’ নামের টিকাটি মানুষের ওপর পরীক্ষা করার পর সেটির ব্যাবহারিক প্রয়োগের অনুমোদন মিলল। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা দিয়েছেন, বিশ্বের প্রথম করোনাভাইরাস টিকা উদ্ভাবক হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেছে রাশিয়া। তাঁর মেয়েকেও এই টিকা দেওয়া হয়েছে, শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার পর তিনি পুরো সুস্থবোধ করেছেন। এই টিকার ব্যাপারে রাশিয়া ও গোটা বিশ্বের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বাড়ানোর জন্যই রুশ প্রেসিডেন্ট এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে রাশিয়ার টিকাটি নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নানা ধরনের সন্দেহ প্রকাশ করেন। প্রতিষ্ঠিত নিয়ম-কানুন মেনে চলার ব্যাপারে আহ্বান জানায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত ১৮ জুন ‘স্পুিনক ভি’ টিকাটির হিউম্যান ট্রায়াল শুরু হয়। এর মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে গতকাল রুশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়েছে গামালিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের টিকাটি। এর ফলে এই টিকার বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পথে আর কোনো বাধা থাকল না। মাস দুয়েকের মধ্যে এই টিকা ব্যাপক হারে প্রয়োগ শুরু হবে বলে রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো বলেছেন, এই টিকা খুবই কার্যকর এবং নিরাপদ প্রমাণিত হয়েছে। আর পুতিন বলছেন, এই টিকা প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তিনি এই টিকার গণ-উৎপাদন চান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুই মাসের কম সময়ে মানবপরীক্ষা করে রাশিয়ার পক্ষ থেকে নিরাপদ দাবি করা এই টিকা মস্কোর বৈজ্ঞানিক ক্ষমতা প্রদর্শন করছে। সাধারণত টিকা তৈরি ও মানব শরীরে পরীক্ষায় কয়েক বছর পর্যন্ত লেগে যায়।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে টিকাটি তৈরি করেছে গামালিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট। এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু হয় ১৮ জুন; টিকা দেওয়া হয় ৩৮ জন স্বেচ্ছাসেবককে। প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের পর রাশিয়া জানায়, এই টিকা মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পেরেছে।

দুই দফায় টিকাটির ট্রায়াল হয়। দুটি দলে ভাগ করে ভিন্ন ডোজে টিকা দেওয়া হয় প্রাপ্তবয়স্ক স্বেচ্ছাসেবকদের। তার পর সরকারি হাসপাতালেই তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, প্রথম দলের সবার শরীরেই ভাইরাস মোকাবেলায় প্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় হয়েছে। কারো শরীরে টিকার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এই দলের স্বেচ্ছাসেবকদের ১৫ জুলাই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দলকে ছাড়া হয় ২০ জুলাই।

রয়টার্স জানিয়েছে, কোনো টিকা চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার আগে বড়সংখ্যক রোগীর ওপর এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালাতে হয়, যাকে বলে তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল। কিন্তু সেই ধাপের আগেই রাশিয়া সরকার গামালিয়া ইনস্টিটিউটের ওই টিকার অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে।

অবশ্য রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের দাবি, যা যা দেখা দরকার ছিল, এ টিকার ক্ষেত্রে তার সবই করা হয়েছে। এ টিকা যে খুব ভালো কাজ করে, তিনি সেটা জানেন।

গামালিয়া ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক আলেকজান্ডার গিন্টসবার্গ বলেছেন, অ্যাডেনোভাইরাসের স্ট্রেন থেকে ভেক্টর ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে। এই টিকা মানুষের শরীরে ঢুকলে কোনো খারাপ প্রভাব ফেলবে না। কারণ দুর্বল ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতা নেই। বরং শরীরের বি-কোষ ও টি-কোষকে সক্রিয় করে অ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়াকে জোরদার করবে। ইমিউন সিস্টেমকে আরো শক্তিশালী করে তুলবে।

গামালিয়ার পরিচালক এ-ও বলেছেন, প্রথম পর্যায়ের ট্রায়াল শেষ হওয়ার পর এখন পর্যন্ত টিকাটির তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। কারণ, এই টিকা তৈরি হয়েছে যে ‘ভাইরাল পার্টিক্যাল’ দিয়ে সেগুলোকে আগে ল্যাবরেটরিতে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। তাই এই পার্টিক্যাল শরীরে ঢুকে ভাইরাসের অনুকরণ করবে মাত্র, সংক্রমণ ছড়াতে পারবে না।

আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে টিকাটির কয়েক লাখ ডোজ তৈরি হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো। আগামী বছরের মধ্যে আরো নানা ডোজে ভ্যাকসিনের ভায়াল চলে আসবে বাজারে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের টিকা দেওয়া শুরু হবে।

বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি ঠেকাতে দেড় শতাধিকেরও বেশি টিকা তৈরির কাজ চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে চারটি টিকা মানবপরীক্ষার তৃতীয় ধাপে আছে। সূত্র : বিবিসি, এএফপি, দ্য ওয়াল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা