kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

অপরাধী ধরতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে

চেকপোস্টের পরিবর্তে নয়া কৌশল পুলিশের

ওমর ফারুক ও রেজোয়ান বিশ্বাস   

১২ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চেকপোস্টের পরিবর্তে নয়া কৌশল পুলিশের

দেশে নানা ধরনের অপরাধপ্রবণতায় এবং অপরাধীরা কৌশল বদলানোয় এসব নিয়ন্ত্রণে পুলিশও কৌশল পাল্টিয়েছে। সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে প্রচলিত ধারায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণের যে পদ্ধতি এত দিন ছিল, তা থেকে সরে এসেছে পুলিশ। নতুন কৌশলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে কিভাবে অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেই পথে এগোচ্ছে পুলিশ।

রাজধানীর হাতিরঝিলের মুখে এফডিসির পাশের রাস্তায় সার্বক্ষণিক একটি চেকপোস্ট ছিল। সেখানে অর্ধেক রাস্তায় ব্যারিকেড বসিয়ে যান নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করতেন। কয়েক দিন ধরে ওই চেকপোস্ট দেখা যাচ্ছে না। চেকপোস্টটি তুলে নেওয়ায় সেখানে আর আগের মতো যানজট হয় না।

একইভাবে রামপুরা বিটিভি ভবনের সামনে, মতিঝিলের নটর ডেম কলেজের গেটের পাশে, গেণ্ডারিয়া রেলস্টেশনের কাছে, বনানী মোড়ে পুলিশের নিয়মিত চেকপোস্ট ছিল। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চেকপোস্টগুলোর ব্যারিকেড থাকলেও সেখানে কোনো পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন না। অপরাধী ধরতে চেকপোস্টের কৌশল পাল্টে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। কারণ যেখানে যেখানে চেকপোস্ট আছে, তা অপরাধীরা জানে। ফলে তারা অন্য পথে চলে যায়।   

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অপরাধীরা কৌশল পাল্টানোয় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশও কৌশল পাল্টেছে। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জরুরি প্রয়োজনে চেকপোস্ট বসাতে হলে কিংবা স্থায়ী চেকপোস্টগুলোতে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। বিশেষ করে কাউকে আটকের পর তথ্য-উপাত্ত যাচাই না করে নাজেহাল না করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জেলা পুলিশ সুপারদের। আর রাজধানীর সব ক্রাইম বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চেকপোস্টগুলোয় নজরদারি করার নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। গত শনিবার বিট পুলিশিং নিয়ে এক সভায় তিনি এই নির্দেশ দেন।

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, যখন প্রয়োজন হবে তখন রাস্তায় চেকপোস্ট বসানো হবে। পারমানেন্ট চেকপোস্ট থাকলে ক্রিমিনালরা ওই দিক দিয়ে আসবে না। আর সাধারণত প্রয়োজন হলে ওয়্যারলেসে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে থানা পুলিশ তাত্ক্ষণিক চেকপোস্ট বসায়। কোথাও চেকপোস্ট বসানোর পর ডিসিরা যেন তা পরিদর্শন করেন, তারও নির্দেশনা থাকে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে গেণ্ডারিয়ায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে ‘চেকপোস্ট’ লেখা একটি বক্স রয়েছে রেলওয়ে স্টেশনের সামনে। সেই বক্সে কেউ একজন ঘুমাচ্ছেন। পুলিশ সদস্যরা নেই। একইভাবে গতকাল সকাল সোয়া ৯টার দিকে নটর ডেম কলেজের সামনের চেকপোস্টেও কোনো পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি। রামপুরা বিটিভি ভবনের পাশের রাস্তায়ও চেকপোস্টে পুলিশ সদস্য ছিলেন না। একই চিত্র বনানী মোড়, তেজগাঁও সাতরাস্তা মোড়, পান্থপথসহ অন্য এলাকার চেকপোস্টগুলোর।

তবে গুলশানে কূটনৈতিক জোনে আগের মতোই চেকপোস্টে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ সদস্যরা জানান, প্রচলিত ধারায় চেকপোস্ট বসিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) মাধ্যমে সড়কের সব ধরনের পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি সব কিছু কঠোরভাবে মনিটরিং করছেন।

ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার কালের কণ্ঠকে বলেন, গুলশান কূটনৈতিক জোনে চেকপোস্ট আগের মতোই আছে। অন্য চেকপোস্টগুলোয় কৌশল পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে সিসি ক্যামেরায় সব কিছু কঠোরভাবে নজরদারি করা হচ্ছে। 

মাঠ পর্যায়ের পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চেকপোস্টে আগের কৌশলে দায়িত্ব পালন না করে টহল বাড়ানো হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে পুলিশ যেভাবে মানবিক আচরণ দিয়ে সাধারণ মানুষের মন জয় করেছে, তারই ধারাবাহিকতায় আরো কতটা মানবিকভাবে পুলিশ দায়িত্ব পালন করতে পারে সেসব কৌশল প্রয়োগ করা হবে। এ জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে কিছু ক্ষেত্রে পুলিশে সংস্কারের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি মিডিয়া সোহেল রানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মানবিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে দেশের সব পুলিশ সদস্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর অপরাধীদের ধরতে আমাদের কৌশলেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।’

রাজধানীর মতো দেশের বিভিন্ন জেলায়ও চেকপোস্ট শিথিল করা হয়েছে। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা জেলার সব থানা পুলিশের পাশাপাশি সড়কে দায়িত্বরত সদস্যদের মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহারের পাশাপাশি কাউকে হয়রানি না করতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর যদি প্রয়োজন হয় তাহলে চেকপোস্ট বসানো হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা