kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

কক্সবাজারের এসপির প্রত্যাহার চায় রাওয়া

আর যেন কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড না ঘটে : সিনহার মা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




কক্সবাজারের এসপির প্রত্যাহার চায় রাওয়া

মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের মৃত্যুর ঘটনায় কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এ বি এম মাসুদ হোসেনের প্রত্যাহার চেয়েছে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)। গতকাল সোমবার রাজধানীর উত্তরায় সিনহার বাসভবনে তাঁর মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান রাওয়ার চেয়ারম্যান মেজর (অব.) খন্দকার নুরুল আফসার।

সংবাদ সম্মেলনে সিনহা রাশেদের মা নাসিমা আক্তার ছেলে হত্যার চলমান তদন্ত কার্যক্রমে সন্তুষ্টি জানিয়ে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মামলা তদন্তে যা যা করা হয়েছে তাতে আমি সন্তুষ্ট। প্রধানমন্ত্রী আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। সেনাপ্রধান, নৌবাহিনীর প্রধান খোঁজখবর নিয়েছেন। তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন।’

বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক মায়ের প্রতিনিধি হয়ে বলব—এই যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডটি ঘটল, এ ধরনের ঘটনা যেন আর না হয়। সবাই যেন সচেতন থাকেন।’

তিনি ছেলের কথা স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাক্রুদ্ধ গলায় বলেন, “সিনহা সর্বদা বলত, ‘আমি মানুষের জন্য কাজ করব, মানুষের  হৃদয়ে থাকব।’ বলা নয়, কাজ-কর্মে বিশ্বাসী ছিল সিনহা। দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে সব সময় চিন্তা করত। ছেলের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে আমার পূর্ণ সমর্থন ছিল। সর্বদা কাজ করে সারপ্রাইজ দিত সিনহা। টাকা উপার্জন তার মুখ্য বিষয় ছিল না, মনের খোরাকের জন্য কাজ করত।”

রাওয়া চেয়ারম্যান বলেন, ‘সিনহা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট। তবে বিচারপ্রক্রিয়া যাতে দ্রুত হয় সেটি আমরা চাই। সিনহা হত্যায় যে পুলিশ সদস্যরা জড়িত ছিল, তাদের অস্ত্রগুলো যেন জব্দ করা হয়। হয়তো তদন্তের খাতিরে এটা করতেই হবে। আজ সিনহার ব্যাপারে আমরা সোচ্চার হতে পেরেছি। কিন্তু ওসি প্রদীপসহ ওই লোকগুলো ১৪০টি মার্ডার করেছে। আমরা চাই, এমন সব কটি ঘটনার বিচার হোক। আমরা আশা করব তাঁরা স্বচ্ছতা রক্ষা করবেন। কোনো পক্ষাবলম্বন করবেন না। হত্যার বিচার হলে সিনহার মা শান্তি পাবেন। আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়।’

খন্দকার নুরুল আফসার জানান, রাওয়া কর্তৃপক্ষ সিনহার বিচারিক তদন্ত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে লে. জেনারেল (অব.) মইনুল ইসলামকে প্রধান করে একটি কমিটি করেছে।

সিনহার মা নাসিমা আক্তার বলেন, ‘সিনহা কর্মচঞ্চল ছিল। ঘটনার রাতে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ আমাকে ফোন করে সিনহার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। হত্যার পরদিন অর্থাৎ ঈদের দিন উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ বাসায় এসে সিনহার কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক পরিচয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ নিয়ে চলে যান।’ ছেলে দেশকে নিয়ে অনেক ভাবত জানিয়ে মা বলেন, “ছেলে আমাকে বলত, ‘আমরা যদি দেশে ভালো কিছু রেখে যাই তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সেটা অনুসরণ করবে।’” তিনি বলেন, ‘আমি শতভাগ আস্থা নিয়ে বসে ছিলাম, আমার ছেলে কাজ করতেছে। কাজ শেষে ফিরবে। কিন্তু ফেরেনি।’

সিনহা খুব স্পিডে গাড়ি চালাত জানিয়ে তিনি বলেন, “কাজ শেষে সাধারণত ও বাসায় ফিরত। সেদিন বাসাতেও ফিরছিল না, ফোন ধরছিল না, ব্যাকও করছিল না। রাত ১২টা আনুমানিক। এক ভদ্রলোক ফোন করলেন। বললেন—‘সিনহা কী হয়, কী করে। কয় ছেলে-মেয়ে।’ উত্তর দিয়ে জানতে চাইলাম—এত প্রশ্ন করতেছেন, আপনি কে? তখন তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলছেন কেন? আমি টেকনাফ থানার ওসি।’ ভাবলাম ছেলে তো স্পিডে গাড়ি চালায়। আবার কিছু হলো কি না। বললাম, আমার ছেলে তো ফোন ধরছে না, ওকে একটু দেন। ফোনটা বাজতেছে কিন্তু ধরছে না। ওসি বলেন, ‘হ্যাঁ একটু দূরেই আছে। দেওয়া যাবে।’ বলেই রেখে দেন। কিন্তু বারবার ফোন দিই, আর কেউই ফোন ধরে না।”

সংবাদ সম্মেলনে সিনহার বড় বোন ও হত্যা মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়া বলেন, ‘সিনহাকে আমি বলতাম, তুমি মানুষের  হৃদয়ের রাজপুত্র (প্রিন্স অব পিপলস হার্ট)। এটা সে প্রমাণ করেছে তার ভালো ব্যবহার আর গুণাবলি দিয়ে।’

সংবাদ সম্মেলনের আগে সিনহার বাসায় তাঁর মায়ের সঙ্গে দেখা করা রাওয়ার অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে সেক্রেটারি জেনারেল লে. কর্নেল (অব.) এ এম মোশারফ হোসেনও ছিলেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা