kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

পূর্ব ঢাকায় বন্যা

ভোগান্তিতে ধুঁকছে মানুষ

শাখাওয়াত হোসাইন   

৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভোগান্তিতে ধুঁকছে মানুষ

বন্যার পানিতে নতুন করে তলিয়ে গেছে রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের অনেক এলাকা। এতে ভোগান্তির শেষ নেই ওই এলাকার বাসিন্দাদের। গতকাল বাসাবো কদমতলা এলাকা থেকে তোলা। ছবি : শেখ হাসান

রাজধানীর পূর্বাংশ ও নারায়ণগঞ্জের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পানিবন্দি বাসিন্দারা ভালো নেই। আর্থিক দুর্দশায় এবার কোরবানি করতে পারেনি বহু মানুষ। ঈদের পরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে, এমন আশ্বাস মিলেছিল সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা থেকে। কিন্তু হয়েছে উল্টো। ঈদের আগের ভাসা রাস্তাগুলোও এখন তলিয়ে গেছে। বন্যা পরিস্থিতির এমন অবনতির মধ্যে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছ থেকে সামান্য ত্রাণ মিললেও সিটি করপোরেশনসহ সরকারি অন্যান্য সংস্থার নির্বিকার অবস্থানে ক্ষোভ বেড়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। গতকাল বৃহস্পতিবার বন্যকবলিত বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য মিলেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরখালী এলাকার বেশির ভাগ বাড়িতে পানি উঠেছে। ঈদের আগে যেসব বাড়ি ও রাস্তা পানির ওপরে ছিল, সেগুলোও পানিতে তলিয়ে গেছে। ফকিরখালী গ্রামের প্রধান পাকা সড়কটি ডুবে গেছে। আশপাশের বাড়িঘরের মানুষ অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ কোনো রকমে পানির ওপর খাট পেতে থাকছে। গতকাল সকাল থেকে পানির স্রোত বেড়েছে। বেড়েছে উচ্চতাও। একই অবস্থা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের সারুলিয়া এলাকার, ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডের বশরনগর ও ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীনগর এলাকার। এ ছাড়া মাণ্ডা, কদমতলী, নলছাটা, দুর্গাপুর, তাম্বুরাবাদ, ধিত্পুর, খলাপাড়া, ঠুলঠুলিয়া, আমুলিয়া-মেন্দিপুর এলাকার নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন বাড়িতে পানি উঠেছে। এসব এলাকায় বানের পানির উচ্চতা বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। এদিকে করোনা মহামারিতে মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকে মূল শহর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছিল গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু বাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি ও দুশ্চিন্তা দুটিই বেড়েছে। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে পানিতে নিমজ্জিত থাকলেও সরকারি কোনো সংস্থা ত্রাণ সহায়তা দেয়নি বলে অভিযোগ তাদের। তবে করোনায় সিটি করপোরেশনের বরাদ্দ এবং ব্যবসায়ী ও স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছ থেকে অর্থ সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে কেউ কেউ।

ফকিরখালী গ্রামের বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসা করি আমি। কিন্তু করোনার কারণে চার মাস ধরে বাড়িতে আছি। ১৯৮৮ সালের চেয়েও বেশি পানি গ্রামে। কাউন্সিলর দরিদ্র মানুষকে সহযোগিতা করছেন। কিন্তু অন্য কোনো সরকারি অফিসের কর্মকর্তাদের এলাকায় দেখি না। গরিব মানুষ কষ্টে আছে।’ 

ডিএনসিসিরি ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আইয়ুব আনসার মিন্টু বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে এক হাজার প্যাকেট খাবার এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি ৪৩০টি প্যাকেট বিতরণ করেছি। এর বাইরে সিটি করপোরেশন থেকে এখনো কোনো বরাদ্দ পাইনি।’

সারুলিয়া এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, ‘এই এলাকায় দরিদ্র মানুষের বাস বেশি। করোনার সময় খাবার পেয়েছিলাম। কিন্তু পানি ওঠার পর কোনো সহায়তা পাই নাই।’

দক্ষিণ সিটির ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল মতিন সাউদ বলেন, ‘পুরো ওয়ার্ড পানিতে তলিয়ে গেছে। ঢাকার মূল নিম্নাঞ্চল আমাদের এলাকায় পড়েছে। মানুষ খুব ভোগান্তিতে আছে। করোনার সময় চার দফায় ত্রাণ বিতরণ হয়েছে। পানি ওঠার পর সিটি করপোরেশন থেকে সহযোগিতা পাইনি। তবে মেয়র মহোদয়কে বিষয়টি জানানোর পর তিনি তা শুনেছেন। আশা করছি, তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।’ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা