kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

সাক্ষাৎকার : ডা. এনামুর রহমান, প্রতিমন্ত্রী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়

বিশেষ বরাদ্দ বাতিলে অনিয়ম দূর হয়েছে

বাহরাম খান   

৬ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিশেষ বরাদ্দ বাতিলে অনিয়ম দূর হয়েছে

একটা সময় ছিল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বারান্দায় ভিড় লেগে থাকত মানুষের। এর কারণ ছিল বিশেষ বরাদ্দের জন্য তদবির। বর্তমান সরকার তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় এলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে প্রথমেই বিশেষ বরাদ্দ বাতিলের উদ্যোগ নেন ডা. এনামুর রহমান। একান্ত আলাপচারিতায় কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘দেখলাম বিশেষ বরাদ্দে অনিয়ম করার অনেক সুযোগ। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে এনে বিশেষ বরাদ্দ বাতিলের উদ্যোগ নিলে তিনি সম্মতি দেন। দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই এভাবে ভালো একটি উদ্যোগের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করি। এতে অনেক টাকার সাশ্রয় হয়। সে টাকায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত গরিব মানুষের দুর্যোগ সহনীয় ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২৯ হাজার ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এসব ঘর তাদেরই দেওয়া হয়েছে, যাদের নিজস্ব জমি আছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আরেকটি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাদের নিজস্ব জমি নেই, তাদের জমি ও ঘর দুটোই করে দেওয়া হবে।’

ডা. এনাম বেসরকারি এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। টানা দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হয়েছেন ঢাকা-১৯ আসন থেকে। এবারই প্রথম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। একসময় স্বাস্থ্য ক্যাডারে সরকারি ডাক্তার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও পরে চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। সাভারের রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে তাঁর প্রতিষ্ঠানের মানবিক চিকিৎসা উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী প্রশংসা কুড়ায়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশ্বে আধুনিক যন্ত্রে সজ্জিত পৃথক ন্যাশনাল ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার (এনইওসি) থাকে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের দেশে সে ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি দ্রুত তেমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন। তেজগাঁওয়ে ১০০ শতক জমিও দিয়েছেন। চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হবে।’ ডা. এনাম বলেন, ‘দুর্যোগের সময় বিভিন্ন দেশ থেকে ত্রাণসামগ্রী এলে সেগুলো সংরক্ষণে সমস্যায় পড়তে হয়, অনেক সময় খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়। এ ধরনের কাজে ব্যবহারের জন্য বড় একটি শেড নির্মাণ করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জায়গা চেয়ে আবেদন করেছি। পূর্বাচলে তিন একর জায়গা দিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। এখনো রাজউক থেকে জায়গা বুঝে পাইনি। ওয়ার্ল্ড ফুড প্রগ্রাম এবং ডিএফআইডির যৌথ উদ্যোগে এটি নির্মাণ করা হবে। এ দুটি কাজ করা গেলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আমরা আরো অনেক গুণ এগিয়ে যাব।’

প্রতিমন্ত্রী ডা. এনাম বলেন, ‘বন্যা ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগের সময় দুর্গত এলাকা থেকে মানুষ উদ্ধার এবং তাদের ত্রাণ পৌঁছে দিতে আমাদের মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব জলযান নেই। সম্প্রতি নৌবাহিনীর সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। তারা তিন বছরে ২০টি করে ৬০টি ‘রেসকিউ বোট’ তৈরি করে আমাদের দেবে। আমরা সেগুলো কিনে নেব। এসব বোটে প্রতিবন্ধীদের উঠানামা করা, তাদের জন্য বিশেষ টয়লেটসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও থাকবে। প্রতিটি বোটে ১০০ জন মানুষ, ১০ টন ত্রাণসামগ্রী পরিবহন করা যাবে। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ, কক্সবাজার—এই তিনটি জেলাকে বন্য সহনীয় জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে জাপানের জাইকার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এসব জেলার নদীশাসন, বাঁধ নির্মাণ, স্লুইসগেটসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করা হবে। সফল হলে কাজটির আওতা আরো বাড়ানো হবে।’

দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ রোল মডেল। কিন্তু ভূমিকম্প মোকাবেলায় তেমন সক্ষমতা নেই। এ বিষয়েও জাপানের জাইকার সঙ্গে কাজ হচ্ছে। ৫০ বছরমেয়াদি পরিকল্পনায় তিন  ধাপে বাংলাদেশকে ভূমিকম্পসহনীয় রাষ্ট্রে পরিণত করার উদ্যোগ নিচ্ছি। মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কিছু কাজ করতে চাই।’

মানবসৃষ্ট দুর্যোগ যেমন—অগ্নিকাণ্ড, পাহাড়ধস মোকাবেলায়ও বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ডা. এনাম বলেন, ‘কয়েক বছরে ফায়ার সার্ভিসকে ২২০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে। আরো এক হাজার কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনার প্রকল্প তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে পানি এবং মাটি উভয় জায়গায় চলতে পারে এমন যান (হোবার ক্রাফট) থাকছে।’ মন্ত্রী জানান, বজ পাত মোকাবেলায় ‘লাইটিনিং অ্যারেস্টার’ কেনা হবে। এর প্রতিটি ৯০ স্কয়ার মিটার পর্যন্ত এলাকা কভার করবে।

চলমান বন্যার বিষয়ে ডা. এনামুর রহমান বলেন, ‘বৈশ্বিক সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যেভাবে বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে তার সঙ্গে বাংলাদেশের পরিস্থিতির পার্থক্য আছে। চলমান বন্যা অন্যান্য বছরের চেয়ে একটু বেশি সময় থাকবে। কিন্তু ১৯৮৮ সালের বন্যার সঙ্গে তুলনা চলে না। আমাদের বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী ব্যতিক্রম কিছু না হলে আগস্টের মাঝামাঝি বন্যার পানি কমে যাবে।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭২ সালের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ত্রাণ তৎপরতা চলছে এ বছর। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশে রাত-দিন কাজ করা হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ ভালোভাবেই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা