kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

শেখ হাসিনা-আবে ফোনালাপ

করোনা মোকাবেলায় ২,৮০৬ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাপান

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৬ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা মোকাবেলায় ২,৮০৬ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাপান

নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) অভিঘাত মোকাবেলায় বাংলাদেশকে দুই হাজার ৮০৬ কোটি টাকা (তিন হাজার ৫০০ কোটি জাপানি ইয়েন বা ৩২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার) ঋণ সহযোগিতা দিচ্ছে জাপান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে গতকাল বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপে এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম জানান, করোনার অভিঘাত মোকাবেলায় বাংলাদেশকে সাড়ে তিন হাজার কোটি জাপানি ইয়েন আর্থিক সহযোগিতা প্রদানসংক্রান্ত একটি বিল জাপানের সংসদে এরই মধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। বিষয়টি শিনজো আবে শেখ হাসিনাকে অবহিত করেছেন।

এদিকে ঢাকায় জাপান দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন গতকাল বাংলাদেশকে ‘সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ)’ হিসেবে ‘কভিড-১৯ দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তা’ ঋণবিষয়ক চিঠি বিনিময় করেন। জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) মাধ্যমে ঋণ আকারে জাপান সরকার বাংলাদেশকে তিন হাজার ৫০০ কোটি জাপানি ইয়েন সহায়তা দেবে। এই ঋণের শর্ত বেশ সহজ। ঋণের সুদের হার ০.০১ শতাংশ। চার বছরের ‘গ্রেস’ পিরিয়ডের পর ১১ বছরের মধ্যে ওই ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ধরা হয়েছে।

জাপান দূতাবাস আরো জানায়, গতকাল জাপান বাংলাদেশের জন্য নতুন করে যে ঋণ সহায়তা দিয়েছে তা এ দেশের সরকারকে অর্থনৈতিক প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। এই ঋণ সহায়তা সামরিক ছাড়া যেকোনো খাতে কাজে লাগানো যাবে। বাংলাদেশকে জাপানের ওডিএ সহায়তার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই ধরনের ঋণ দিচ্ছে টোকিও। করোনা মোকাবেলায় জাপান সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশকে এ যাবৎ প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ ডলার জরুরি সহায়তা দিয়েছে। এ ছাড়া জাপান জাইকার মাধ্যমে বাংলাদেশে হাসপাতালগুলোকে পিপিই দিয়েছে। গত ১৬ জুলাই সিটি স্ক্যানার, এক্স-রে মেশিনের মতো জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনতে জাপান প্রায় এক কোটি মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়ার বিষয়ে পত্রবিনিময় করেছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার দুপুর ১টা ৫ মিনিটে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। প্রায় ২৫ মিনিট ধরে দুই নেতার মধ্যে কথোপকথন চলে।

প্রেসসচিব জানান, দুই নেতা টেলিফোনে কুশলাদি বিনিময় করেন এবং দুই দেশের কভিড-১৯ পরিস্থিতি সম্পর্কে একে অন্যকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকার করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় এবং এর চিকিৎসাক্ষেত্রে যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। একপর্যায়ে জাপান সরকার কর্তৃক বাংলাদেশকে কভিড সংক্রমণ প্রতিরোধক সরঞ্জাম—পিপিই, মাস্ক, গাউন, গগলস ইত্যাদি প্রদানের জন্য শিনজো আবেকে শেখ হাসিনা ধন্যবাদ জানান।

জানা গেছে, মূল আলোচনায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার বিষয়গুলো উঠে আসে। জাপান সরকারের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে দুই নেতা আলোচনা করেন। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে আরো জাপানি বিনিয়োগের জন্য শেখ হাসিনা জাপানি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। তিনি চলমান রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে শিনজো আবেকে অবহিত করেন এবং এই সংকট উত্তরণে জাপান সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। শিনজো আবে মিয়ানমারের নেতাদের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলবেন বলে আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বাতিল হওয়া ‘২০২০ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক’ আগামী বছর জাপানে যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা