kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

স্বাস্থ্যবিধিকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা বোকামি হচ্ছে

ডা. নজরুল ইসলাম   

৩১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বাস্থ্যবিধিকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা বোকামি হচ্ছে

বর্তমানে আমরা খুব সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। করোনা আর বন্যায় দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলের মানুষের জীবন বিপর্যস্ত। এর মধ্যে এসেছে কোরবানির ঈদ, যাতে জড়িত মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও ত্যাগের মহিমা। অন্যদিকে রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি আর বানভাসি মানুষের বিপন্নতা। এসবের মধ্যে মানুষ আনন্দ করার সুযোগ কতটা পাবে, তা সহজেই বোধগম্য। তবে বন্যার ভোগান্তির চেয়েও মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি। কারণ এ ভাইরাসের কাছে ধর্ম-বর্ণ বিবেচনা নেই। তাই আমাদের সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে যাতে একজনের স্বাস্থ্যবিধির অবহেলায় আরেকজন ঝুঁকিতে না পড়ে; যদিও আমরা বারবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে, প্রয়োজনে মানুষকে বাধ্য করতে, মানুষকে আরো বেশি সচেতন হতে জোর দিয়েছি, দিচ্ছি। কিন্তু দুঃখজনক হলো, এর কোনো কিছুই পাত্তা পাচ্ছে না। সব কিছু চলছে উন্মুক্তভাবে, নির্ভয়ে, অবাধে। মনে হচ্ছে, সামনে এটা আমাদের সবাইকে আরো বেশি বিপদের মুখে ঠেলে দেবে।

ঈদ ঘিরে মানুষের ছোটাছুটি নিয়ন্ত্রণ করা গেল না। ঢাকা থেকে লাখ লাখ মানুষ আগের মতোই ছুটে যাচ্ছে গ্রামে। তারা যদি ভাইরাস সঙ্গে নিয়ে গ্রামে তাদের আপনজন, পাড়া-প্রতিবেশীর মধ্যে ছড়িয়ে দেয় কিংবা গ্রামের কারো কাছ থেকে ঢাকায় নিয়ে আসে, তবে দুইভাবেই ঝুঁকি বাড়ল। এ ছাড়া আরেকটি বড় বিষয়, বয়স্ক মানুষ। তরুণ বা অল্প বয়সীরা আক্রান্ত হলে তাদের এখন পর্যন্ত ঝুঁকি কম। তারা সামলে নিতে পারে। কিন্তু বয়স্ক মানুষের ঝুঁকি বেশি। গ্রামে বসবাসকারী আপনজনরা যদি আক্রান্ত হয়ে পড়ে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কিন্তু তাদের চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়বে। এক দিকে বন্যার সমস্যা, আরেক দিকে এখনো মাঠ পর্যায়ে করোনার চিকিৎসাব্যবস্থা খুব কার্যকর পর্যায়ে আছে, সেটি বলার উপায় নেই।

এ জন্য আবারও বলব, সরকার যেমন মাঠ পর্যায়ে আরো সতর্ক ও কার্যকর নজরদারি বাড়াতে পারে, তেমনি নাগরিক হিসেবেও সবার দায়িত্ব নিজ নিজ অবস্থানে থেকে নিজেকে, নিজের আপনজনদের সুরক্ষা করা। এর জন্য সবচেয়ে সহজ পথ, যতটা সম্ভব যে যেখানে আছি আরো কিছুদিন সেখানেই অবস্থান করা। আবেগের তাড়নায় গ্রামে গিয়ে বয়স্ক মা-বাবার জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া ঠিক নয়। বরং নিজ নিজ ঘরে থেকে যতটুকু সম্ভব আনন্দ করা, ভার্চুয়াল মাধ্যমে সে আনন্দ অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াই হবে ভালো। এককথায় বলতে গেলে সবার উদ্দেশে বলতে হবে—স্বাস্থ্যবিধিকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা বড় বোকামি হচ্ছে; জীবনকে বিপন্ন করবেন না।

লেখক : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজির অধ্যাপক।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা