kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

চাঁদাবাজি নেই তবে আছে পশুর ট্রাক টানাটানি

রেজোয়ান বিশ্বাস ও জহিরুল ইসলাম   

৩১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চাঁদাবাজি নেই তবে আছে পশুর ট্রাক টানাটানি

পথে কোনো যানজট নেই। পুলিশ আছে অনেক দূরে দূরে। ভয় ছিল শুধু ডাকাত-ছিনতাইকারীদের নিয়ে। তবে মহাসড়কে কোনো সমস্যা হয়নি, চাঁদাবাজি হয়নি। কিন্তু ঢাকায় এসেই পড়তে হয় বিপাকে। সড়কের মোড়ে মোড়ে গরুর ট্রাক থামিয়ে জোর করে নিজেদের হাটে নেওয়ার চেষ্টা করেন হাট ইজারাদাররা। কুষ্টিয়ার গরু ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বুধবার গভীর রাতে কালের কণ্ঠকে এ কথা জানান।

এবার রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে মোট ১৬টি অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ সিটিতে ১১টি আর উত্তরে পাঁচটি। এ ছাড়া গাবতলী স্থায়ী পশুর হাট তো রয়েছেই। অস্থায়ী হাটগুলোর অদূরে মূল সড়কের সামনে ইজারাদারের লোকজনকে দেশের বিভিন্ন স্থান

থেকে আসা গরুর ট্রাকগুলোকে জোর করে নিজেদের হাটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাতে দেখা যায়। তবে পশুবাহী ট্রাকগুলোকে বিভিন্ন সড়কে চাঁদা দিতে হয়নি বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ব্যাপারীরা।

বুধবার রাত ১টার দিকে প্রগতি সরণির কোকাকোলা মোড়ে দেখা যায়, ইজারাদারের লোক তিন-চারজন করে ভাগ ভাগ হয়ে বসে আছে। পশুবাহী ট্রাক দেখলেই থামানোর চেষ্টা করছে তারা। উত্তরের পাঁচটি পশুর হাটের একটি ভাটারা সাঈদনগরে। ভাটারা থানার সামনে নতুন বাজার সড়কের পাশে করা হয়েছে এর একটি গেট। সেখানে মাইকে নিজেদের পশুর হাটের বহু সুবিধার কথা উল্লেখ করে ব্যাপারীদের ট্রাক নিয়ে ১০০ ফিটের রাস্তা দিকে ঢুকতে অনুরোধ করা হচ্ছিল। এটুকু ঠিক থাকলেও পশুবাহী ট্রাক এলেই বাঁশি বাজিয়ে লাঠি উঁচিয়ে নিজেদের হাটে ঢুকতে বলছিল তারা। হাটের গেটে অন্তত ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে এই চিত্র দেখা যায়। পরে এক নেতার আগমনের সঙ্গে অন্তত আরো ১৫ জন সেখানে উপস্থিত হয়। সবাইকে একত্র করে গোপন ব্রিফ করেন ওই নেতা।

উত্তর বাড্ডা ব্রিজের নিচে সাইদুল হক নামের এক ব্যাপারী জানান, রাস্তায় রাস্তায় আগে বিভিন্ন নামে টাকা চাইলেও এবার সেটা নেই। তবে বাজারে ঢোকানোর জন্য গাড়ি আটকানো এখনো বন্ধ হয়নি। এ প্রসঙ্গে সাঈদনগর হাটের ইজারাদার ইকবাল হোসেন খন্দকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই লোকগুলোকে যদি না রাখা হয় তাহলে ট্রাকওয়ালাদের জায়গা করিয়ে দেওয়া এবং পথ দেখিয়ে দেওয়া হয় না। এই সুযোগে কিছু চাঁদাবাজ সুযোগ নিতে পারে। তবে যারা দায়িত্ব পালন করছে তাদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে কোনো ট্রাক ঢোকানোর জন্য বলা হয়নি। অতি উৎসাহী হয়ে কেউ কেউ হয়তো এমনটা করতে পারে। আমাদের কাছে তথ্য এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাত ২টার দিকে পশ্চিম মেরুল বাড্ডা এলাকার আফতাবনগর পশুর হাটের মূল গেটেও একই বিষয় নজরে আসে। ২০ থেকে ২৫ জন মেরুল বাড্ডার পুরো রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে। মুখে বাঁশি, হাতে সিগন্যাল লাইট ও লাঠি। মাইকে চলছে হাটে যাওয়ার আহ্বান। দূর থেকে পশুবাহী ট্রাক দেখলেই মাইকে বলার পরিমাণ আরো বাড়তে থাকে।

পশুর হাটের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পর রাস্তায় বিভিন্ন অসিলায় কোনো টাকা নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে অন্তত ২৫ জন ব্যাপারী কালের কণ্ঠকে জানান, এবার রাস্তায় কোনো ধরনের টাকা দিতে হয়নি। সাঈদনগর পশুর হাটে কথা হয় বেশ কয়েকজন ব্যাপারীর সঙ্গে। মতিয়ার নামের একজন নাটোর থেকে ২০টি গরু নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকবার রাস্তায় অনেক টাকা দেওয়া লাগত। এইবার কেউ টাকা চায় নাই। একবারে হাটে আইনা তুলছি। গতবার প্রচুর টাকা নিছে।’ কুষ্টিয়ার খাজাননগর থেকে গরু নিয়ে আসা রহমত মিয়া বলেন, ‘না, কোনো চাঁদা নেয়নি। একেবারে বাড়ি থেকে গরু পুরাইছি আর হাটে চইলে আসছি। সত্যি এইবার ভালো হইছে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা হাটে নিরাপত্তা দেওয়া সম্পর্কে জানান, এবার সারা দেশের পশুর হাট কেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, ছিনতাই, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও পকেটমার ঠেকাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, গোয়েন্দা বাহিনীগুলোও পোশাক ও সাদা পোশাকে তৎপর রয়েছে।

মন্তব্য