kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

বিএনপির সঙ্গে প্রতারণার জন্যই ঐক্যফ্রন্ট : অলি

আজগুবি কথা : সুব্রত চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিএনপির সঙ্গে প্রতারণার জন্যই ঐক্যফ্রন্ট : অলি

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মিশন ছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটকে চিরতরে ক্ষমতার বাইরে রাখা। এ ফ্রন্ট হয়েছিল মূলত বিএনপির সঙ্গে প্রতারণা করার জন্য। এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ২০ দলীয় জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রধান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

গত রবিবার দ্য গ্রিন চ্যানেল নামের একটি অনলাইন টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অলি এই মন্তব্য করেন বলে এলডিপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

অবশ্য অলির এ ধরনের মন্তব্যকে আমলে নিচ্ছেন না ঐক্যফ্রন্টের শরিক বিএনপি ও গণফোরামের নেতারা।

দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক সালাহ উদ্দীন রাজ্জাক স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গ্রিন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম এমন অনেক বিষয় তুলে ধরেছেন, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটাতে পারে।’

অলি আহমদ বিএনপি ছেড়ে এলডিপি গঠন করেন। তিনি দলটির সভাপতি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে রয়েছে তাঁর দল। তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় মুক্তি মঞ্চ নামে আলাদা আরেকটি জোট রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাক্ষাৎকারে ড. অলি আহমদ বলেছেন, “ড. কামালের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে যে জোট গঠন করা হয়েছিল, সেটা ছিল মূলত বিএনপিকে নির্বাচনে নেওয়ার জন্য। তাদের মিশন ছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটকে চিরতরে ক্ষমতার বাইরে রাখা। এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ‘ম্যাওম্যাও’ করা কিছু বিএনপি নেতা।”

অলি বলেছেন, ‘আমাকে যখন ঐক্যফ্রন্টে থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তখন আমি সরাসরি না করে দিয়েছিলাম। কারণ ড. কামাল হোসেন একজন নামকরা আইনজীবী। তাঁর সঙ্গে আইন পেশা মানায়, রাজনীতি নয়।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘ড. কামাল হোসেন যেখানে সভা-সমাবেশ হয়েছে, সেখানে জয় বাংলা বলে শুরু করেছেন, জয় বঙ্গবন্ধু বলে শেষ করেছেন। একটিবারও জিয়াউর রহমানের নাম এবং খালেদা জিয়ার নাম পর্যন্ত মুখে উচ্চারণ করেননি।’

জামায়াত প্রসঙ্গে এলডিপি প্রধান বলেন, ‘বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীতে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই। এখন যাঁরা নেতৃত্বে আছেন, তাঁরা স্বাধীনতাবিরোধী না, তাঁরা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতারা যখন জীবিত ছিলেন, তখন বিএনপি জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করেনি। হঠাৎ করে বিএনপি কেন জামায়াতকে ছেড়ে দিচ্ছে, তা আমার বোধগম্য নয়।’

সাক্ষাৎকারে অলি আহমদ ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে যাদের দাওয়াত দেওয়া হয়, তাদের যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও কথা বলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি জোটের কোনো সভায় যাননি এবং শেষের কয়েকটি সভায় এলডিপির কোনো প্রতিনিধি পাঠাননি বলেও জানান।

অলির এ মন্তব্য বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাজাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে যে ফ্যাসিবাদ চলছে, সরকার যে ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করেছে তার বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ করতে হবে। এই যুদ্ধে কে ডানপন্থী বা কে বামপন্থী, সেটি আমরা দেখছি না। এই ফ্যাসিবাদকে কেউ সরাতে যুদ্ধে মাঠে নামতে চাইলে আমরা তাদের সঙ্গে আছি।’ ঐক্যফ্রন্ট বা জামায়াতকে নিয়ে কে কী মন্তব্য করল, সেটি বিবেচ্য বিষয় নয়।’

জাতীয় ঐকফ্রন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলছেন, ‘উনি তো (অলি আহমদ) ঐক্যফ্রন্টের হয়ে রাজশাহীতে একটি সভায় যোগ দিয়েছেন। এখন এসব আজগুবি কথা কেন বলছেন?’

জামায়াতে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই—অলির এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘উনি তো জামায়াত সম্পর্কে অনেক নেতিবাচক কথাও বলেছেন অতীতে। উনি যদি জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করতে চান, করুন। অন্য দল বা জোটকে সবক দেওয়ার দরকার কী।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা