kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

সাক্ষাৎকার

করোনার পরও নিশ্চিত থাকবে যাত্রীসেবা

রফিকুল ইসলাম   

২৯ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার পরও নিশ্চিত থাকবে যাত্রীসেবা

নূরুল ইসলাম সুজন, রেলমন্ত্রী

ঈদে সরকার চাচ্ছে মানুষ যে যেখানে আছে সে সেখানেই থাকুক। করোনার বিস্তার ঠেকাতে মন্ত্রিপরিষদের সভায় এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। যাঁরা সরকারি চাকরিজীবী তাঁরা নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকবেন। গার্মেন্টকর্মীরাও কেউ বাড়িতে যেতে পারবেন না। এবার ঈদে সরকারি ছুটি এক দিন (সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনি ছাড়া)। ছুটি কম হওয়ায় মানুষ এদিক-ওদিক মুভ না করুক, সরকার এটাই চায়।

করোনা পরিস্থিতিতে ট্রেনে ঈদ যাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে সম্প্রতি রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ট্রেনে টিকিটের বাইরে বাড়তি কোনো যাত্রী বহন করা হবে না। যতগুলো টিকিট ততজনই ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবে। কেবল ট্রেন-ই নয়, কোনো পরিবহন এবার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে পারবে না। কী বাস, কী ট্রেন—কেউ-ই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলতে পারবে না।

রেলমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে এখন যেভাবে ট্রেন চলছে, ঈদেও ঠিক সেভাবেই ট্রেন চলবে। অতিরিক্ত কোনো ট্রেন চলবে না। আবার কমবেও না। অতিরিক্ত কোনো টিকিটও বিক্রি হবে না। টিকিটের অতিরিক্ত কোনো যাত্রীও ট্রেনে উঠতে পারবে না।

ট্রেনে বাড়তি যাত্রী নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, করোনা সতর্কতায় এখন একটি ট্রেনের ধারণক্ষমতার ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। বাড়তি কোনো টিকিট বিক্রি করা হয়নি। টিকিট ছাড়া কেউ ট্রেনে উঠতে পারবে না।

নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ঈদ যাত্রায় ঘরে থেকে মানুষ যেন টিকিট কাটতে পারে সে জন্য সব টিকিট অনলাইনে দেওয়া হয়েছে। একটি কাউন্টারও খোলা হয়নি। ট্রেনের ছাদে ভ্রমণেরও কোনো সুযোগ থাকবে না। সাধারণত বিমানবন্দর ও জয়দেবপুর স্টেশন থেকে মানুষ বেশি ট্রেনের ছাদে ওঠে। এবার সেসব জায়গা বন্ধ করা হয়েছে। কমলাপুর স্টেশনে টিকিট ছাড়া যাত্রী প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। জয়দেবপুর স্টেশনও বন্ধ। এই স্টেশনে ট্রেন থামবে না। আর কমলাপুর থেকে ট্রেনের ছাদে ওঠার কোনো সুযোগ নেই। সব পথ বন্ধ করা হয়েছে। এখন প্রবেশপথ দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেনে উঠতে হবে।

রেলমন্ত্রী বলেন, ঈদে যাত্রীসেবা বাড়ানো হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে টিকিট কেটে সবাইকে ট্রেনে উঠতে হচ্ছে। মানুষ এই পরিস্থিতিতে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ কেউ করছে না। যাত্রীরা পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছে। এখন যেভাবে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে করোনার পরও সেটা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, ভারত থেকে ১০টি রেলইঞ্জিন পেয়েছি। ব্রড গেজ এই ইঞ্জিন পাওয়ায় নতুন ট্রেন চালানোয় সুবিধা হবে। আমাদের রেলইঞ্জিন সংকট ছিল। এটা লাঘব হবে। কোরিয়া থেকে আরো ১০টি মিটার গেজ ইঞ্জিন আসছে। আগামী মাসের মাঝামাঝিতে এই ইঞ্জিন আসবে। সে ক্ষেত্রে সংকট দূর  করে রেলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।

টিকিট কাটতে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে জানিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, একজনের টিকিটে অন্যজন যেন যেতে না পারে সে জন্য এটি করা হচ্ছে। কালোবাজারিচক্র যেন টিকিট কাটতে না পারে, সে জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে। স্বাভাবিক অবস্থাতেও অনলাইনে টিকিট কাটা ও সেবা নিশ্চিত করা হবে। মানুষ রেলের ভালো চিত্র দেখতে চায়। স্বাভাবিক সময়েও যেন এই সেবা দেওয়া যায়, সেটা নিশ্চিত করব।

 

মন্তব্য