kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

সাক্ষাৎকার

বিনিয়োগ সহজ করার ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নতি প্রয়োজন

আহসান এইচ মনসুর

২৯ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




বিনিয়োগ সহজ করার ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নতি প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যযুদ্ধ, করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারিসহ আরো কিছু কারণে চীন ছাড়তে চাচ্ছে বৈশ্বিক বড় কম্পানিগুলো। এ ছাড়া চীনের সঙ্গে জাপানের দ্বন্দ্ব সব সময় ছিল। জাপান ঘোষণা করেছে, জাপানি কম্পানিগুলো যাতে চীনে তাদের বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে। ইতিমধ্যে জাপান দুই বিলিয়ন ডলারের একটি ফান্ডও ঘোষণা করেছে, যে ফান্ড থেকে জাপানের চীনত্যাগী ব্যবসায়ীদের সাহায্য দেওয়া হবে। ব্যবসায়ীরা চাইলে জাপানে আসতে পারেন অথবা চীনের বাইরে যেকোনো দেশে যেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তাঁরা এই সাহায্যটা পাবেন।

বাংলাদেশসহ অনেক দেশ কাঁচামাল আমদানিসহ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরশীল। গ্লোবালাইজেশনের এই যুগে এটি মোটেও ভালো নয়। গ্লোবাল ভ্যালু চেইনের ক্ষেত্রে এটি বিরূপ প্রভাব ফেলে। শুধু যে বাইরের দেশগুলো চীন ছাড়ছে তা নয়, চীন নিজেও চাচ্ছে চীনের বাইরে গিয়ে বিনিয়োগ করতে। কারণ একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তাদের প্রবেশাধিকার কমে গেছে, অন্যদিকে নিজেদের দেশে তাদের পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ও বেশি। শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় সেখানে পণ্যের দামও বাড়ে। তাদের দেশের তুলনায় ভিয়েতনামে মজুরি কম, এমনকি বাংলাদেশেও। তাই তাদের নিজেদের দেশের ব্যবসায়ীরাও ডাইভারসিটি আনার জন্য ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করছেন। ভারতে মোবাইল ফোন প্রডাকশনে শীর্ষে আছে শাওমি। যেটা চায়না প্রডাক্ট। তারপর তারা মিয়ানমারেও যাচ্ছে। কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছে তারা।

বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের সরকার একটু নড়েচড়ে বসেছে। এর মধ্যে জাপান ইকোনমিক জোন, চায়না ইকোনমিক জোনসহ আরো কিছু বিষয় নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে, কিন্তু খুব একটা কাজ শুরু হয়নি। সে ক্ষেত্রে আমরা খুব পিছিয়ে আছি। আর আমাদের যে দক্ষতা, ছয় মাসের মধ্যে যে আমরা দিয়ে দিতে পারব তা কিন্তু নয়। হয়তো সরকার স্বীকার করবে না। সেটা বাস্তবতা।

আর কভিডের কারণেও বাংলাদেশে বিনিয়োগ কম আসছে। ভিয়েতনাম কিন্তু কভিড ফ্রি। কম্বোডিয়াতেও সেটি অনেক কম। কিন্তু আমাদের দেশে এটি এখানো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। কভিড যতক্ষণ আছে ততক্ষণ কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না। তবে এর মধ্যে একটি চায়নিজ কম্পানি ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এ ধরনের বিনিয়োগ দু-একটি নয়, ১০, ২০টি করে আসা উচিত।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণেও আমরা পিছিয়ে আছি। কারণ বড় বড় কম্পানিগুলো বিজনেস পলিসি বা প্রজেক্ট যখন ঘোষণা করে তখন তারা বেইজিং, নিউ ইয়র্কে বসে খোঁজখবর নিয়ে প্রজেক্ট ঘোষণা করে। কোথায় বিনিয়োগ করলে ভালো বেনিফিট আসবে সেটা যাচাই-বাছাই করে। তারপর সিদ্ধান্ত নেয়। আমরা শুধু গার্মেন্টের মধ্যে রপ্তানিকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছি। অন্যান্য দেশে কিন্তু কেমিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক পণ্য সমানভাবে রপ্তানি হচ্ছে। যেমন—থাইল্যান্ডে রপ্তানি পণ্যের ৮০-৮৫ শতাংশ টেকনোলজিক্যাল প্রডাক্ট (প্রযুক্তিপণ্য)। ভিয়েতনাম আমাদের গার্মেন্টের সমান রপ্তানি করে। আবার তারা মোবাইল ফোন, অটোমোবাইলসহ আরো অনেক কিছু রপ্তানি করছে।

বিনিয়োগ আনতে হলে আমাদের টেকনোলজিক্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (প্রযুক্তিগত অগ্রগতি) দরকার। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে না পারলে বাইরের কোনো বিনিয়োগ আসবে বলে মনে হয় না। একজন করলে আরো ১০ জন করে। কিন্তু শুরু তো কেউ করছে না। আজকে যদি আমাদের এখানে গাড়ি ইন্ডাস্ট্রি করা হয় একটি, সাপোর্টিং ইন্ডাস্ট্রি হবে আরো ১০টি। এভাবেই বিনিয়োগ বাড়ে।

বিনিয়োগ সহজীকরণে আমাদের আরো দ্রুত উন্নতি করতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর পর্যায় থেকেও ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হয়। অন্য কেউ এটি সমাধান করতে পারবে না। বাইরের দেশগুলোতে কিন্তু বড় বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারপ্রধান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। কোনো সমস্যা থাকলে তাত্ক্ষণিক সমাধান করেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন। বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নয়নে উনার পক্ষ থেকে আরো হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

লেখক : ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা