kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ভয়াবহ অপুষ্টির ঝুঁকিতে শিশুরা

এখনই পদক্ষেপ না নিলে সহস্রাব্দের সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পড়তে হতে পারে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে




ভয়াবহ অপুষ্টির ঝুঁকিতে শিশুরা

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সৃষ্ট আর্থ-সামাজিক সংকটে এই বছর দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ বছরের কম বয়সী অতিরিক্ত ৩৯ লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভুগতে পারে। এতে তারা ভয়াবহ রকমের শীর্ণকায় হবে। চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেটে প্রকাশিত এক সমীক্ষায় এই উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে।

ওই সমীক্ষার বরাত দিয়ে জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ গত সোমবার এই বলে সতর্ক করেছে, অন্য রোগবালাইয়ের চেয়ে এই মহামারিতে শিশুরা বেশি ক্ষতির শিকার হবে।

ল্যানসেটে প্রকাশিত সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী করোনায় শীর্ণকায় অবস্থায় বা রুগ্ণতার মুখে পড়তে পারে ৬৭ লাখ শিশু। এর অর্ধেকের বেশি বা ৫৮ শতাংশ (৩৯ লাখ) হবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর।

রুগ্ণতাকে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বলে বর্ণনা করছে ইউনিসেফ। চরম অপুষ্টির কারণে শিশুরা এর শিকার হয়। ফলে শিশুরা খুবই রোগা, পাতলা ও দুর্বল হয়। এতে শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে; তাদের সঠিক শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ ঘটে না।

সমীক্ষা বলছে, কভিড মহামারির কারণে এ বছর নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ভয়াবহ মাত্রায় রুগ্ণতার হার ১৪.৩ শতাংশ বাড়তে পারে। একইভাবে ভিটামিন ‘এ’ ও বুকের দুধ পাওয়ার বিষয়টি বিঘ্নিত হওয়ায় শিশুদের অপুষ্টি বাড়বে। এতে বিশ্বব্যাপী প্রতি মাসে অতিরিক্ত ১০ হাজার শিশুর মৃত্যু হতে পারে।

ইউনিসেফের মতে, কভিড-১৯ মহামারির আগেও ২০১৯ সালে চার কোটি ৪৭ লাখ শিশু তীব্র রুগ্ণতায় ভুগেছে। তাদের দুই কোটি ৫০ লাখই ছিল দক্ষিণ এশিয়ার।

জরুরি পদক্ষেপ না নিলে এ বছর তীব্র রুগ্ণতায় ভোগা শিশুর সংখ্যা বেড়ে প্রায় পাঁচ কোটি ৪০ লাখে পৌঁছতে পারে। ইউনিসেফের মতে, বিশ্বে তীব্র রুগ্ণতায় ভোগা শিশুর সংখ্যা এমন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, যা এই সহস্রাব্দে দেখা যায়নি।

এক হিসাবে করোনা সংক্রমণের পর বাংলাদেশে তীব্র রুগ্ণতায় ভোগা শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা ৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

ইউনিসেফের পাশাপাশি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বিশ্ব খাদ্য প্রকল্প (ডাব্লিউএফপি) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডাব্লিউএইচও) বলেছে, কভিড মহামারির প্রেক্ষাপটে পুষ্টির বিষয়টি বিশ্বব্যাপীই সেভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে না, বিশেষ করে গরিব ও মধ্য আয়ের দেশে।

সম্ভাব্য এ পরিস্থিতি এড়াতে ইউনিসেফ ২৪ কোটি ডলারের জরুরি তহবিলের আবেদন জানিয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা