kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

আস্থা ফেরানোর দায়িত্ব নিতে হবে চকিৎসকদেরই

অধ্যাপক ডা. রশিদ ই মাহবুব

২১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আস্থা ফেরানোর দায়িত্ব নিতে হবে চকিৎসকদেরই

অনেকেই স্বাস্থ্য খাত আর চিকিৎসা খাত একাকার করে ফেলেন। চিকিৎসা খাতের আলাদা যে একটি সত্তা, সেটা যে স্বাস্থ্য খাতের মূল প্রাণশক্তি তা অনেকের বুঝতে হয়তো একটু সমস্যা হয়। স্বাস্থ্য খাতের অন্য স্তরগুলোতে ব্যাবসায়িক বিষয়গুলো থাকতে পারে নানা ধরনের কেনাকাটার ক্ষেত্রে। কিন্তু যাঁরা মানুষের চিকিৎসাসেবায় কাজ করবেন, তাঁদের ব্যবসার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে চিকিৎসা খাত এখন প্রাইভেটমুখী। সরকারির চেয়ে অনেক বেশি পরিসরে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে বেসরকারি খাতে। ফলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগকারীরা এটাকে তাঁদের ব্যবসার হাতিয়ার হিসেবে নিতে গিয়ে সেবার মনোভাব থেকে সরে গেছেন বলেই আজ চিকিৎসা খাতের এমন দুর্নাম এসেছে।

এ ক্ষেত্রে আমি বলব, সরকারি চিকিৎসাসেবার গুণগত মানসহ নানা সংকট থাকায় মানুষ সরকারি চিকিৎসাসেবা এড়িয়ে বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে ঝুঁকছে। আর সেখানে সরকারের পর্যাপ্ত নজরদারি বা তদারকি না থাকায় মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রতারিত হচ্ছে; এখন যার অনেক নজির দেখা যাচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে এখন যেটা করা প্রয়োজন তা হচ্ছে, নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার সংস্কার। আমাদের দেশে যথেষ্ট ভালো ও বিস্তৃত সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রিক অবকাঠামো থাকলেও পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল না থাকা, মাঠ পর্যায়ের স্থাপনাগুলোতে আরো চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মানসম্মত ব্যবস্থা না থাকা, রেফারেল সিস্টেম কার্যকর না থাকা, শহর এলাকায় নগর চিকিৎসা কেন্দ্র কার্যকর না থাকা এবং সর্বোপরি কার্যকর কোনো মনিটরিং না থাকায় দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নে কবলে মানুষ প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়।

যদি এসব ব্যবস্থাপনা ঠিক করে উপজেলা পর্যায়ে আরো যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থা করা যায়, আরো বেশি অপারেশনের উপযোগী করা যায় স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে তবে মানুষ শহরে আসা এবং প্রাইভেটে যাওয়ার কমিয়ে দেবে। এ ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকদের প্রণোদনাসহ সরকারের তরফ থেকে আরো কিছু সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো যেতে পারে। এ ছাড়া প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় মনিটরিংয়ের জন্য বিশেষ কমিটি কার্যকর থাকতে হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকেও অধিদপ্তরসহ নিচের পর্যায়ে মনিটরিং ও অডিটিং সিস্টেম জোরালো করতে হবে।

এ ছাড়া চিকিৎসকদের মধ্যে যাঁদের ব্যবসার মানসিকতা রয়েছে, তা ছেড়ে মানুষের সেবার যে ব্রত নিয়ে চিকিৎসক হয়েছেন, সেটা ভালোভাবে পালন করে নীতি-নৈতিকতার সঙ্গে চলতে পারলে চিকিৎসকদের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।

লেখক : সাবেক সভাপতি, বিএমএ

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা